Alexa বৃষ্টিতে ডুয়ার্স ভ্রমণ

ঢাকা, শনিবার   ২০ জুলাই ২০১৯,   শ্রাবণ ৫ ১৪২৬,   ১৬ জ্বিলকদ ১৪৪০

বৃষ্টিতে ডুয়ার্স ভ্রমণ

ভ্রমণ প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:১৯ ২০ জুন ২০১৯  

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

কালো মেঘ যেন ঝেঁকে ধরেছে পুরো আকাশকে। যে কোনো সময়েই নামতে পারে বৃষ্টি। দিনে দু-তিন কিংবা চারবারও হতে পারে। এমন সময়ে ডুয়ার্সের চেয়ে ভালো জায়গা আর কী হতে পারে বলুন! কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায় হয়তো এ কারণেই লিখেছিলেন, ‘বৃষ্টিতে ডুয়ার্স খুবই পর্যটনময়’।

ডুয়ার্স নিয়ে অনেক কথাই তো লেখা যায়। সবটুকু বললে এখনই ট্রেন/বাসে চেপে চলে যেতে চাইবেন আপনি! সমরেশ মজুমদারের কালবেলা বা সাতকাহনের ডুয়ার্স। গরুমারা, চাপরামারি, জলদাপাড়া, গজলডোবা, ঝালংয়ের মতো সুন্দর সুন্দর জায়গা আছে সেখানে। দুয়ার মানে দরজা, সেই থেকেই এর নাম ডুয়ার্স। 

এখানকার প্রকৃতির সৌন্দর্য অনেকটা অদ্ভুত। ভাবুন তো আপনার কেমন লাগবে তখন? যখন অরণ্যের গহিনে ঢুকবেন! রাস্তার ওপর থাকবে শাল-সেগুনের লম্বা ছায়া। গা ছমছম করা। সাইনবোর্ডে লেখা-আস্তে চলুন, সামনে হাতি চলাচলের পথ। বাইসনও দেখা দিতে পারে। শরীর-মন চমকে দিয়ে হঠাৎ রাস্তা পেরোল গোটা তিনেক ময়ূর। আহ্, অনেকটা ‘নীরব স্বর্গ’।

ডুয়ার্স যাওয়ার আগে অব্যশ্যই জেনে নিতে হবে প্রয়োজনীয় কিছু তথ্য। প্রতিবছর ১৫ জুন থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংরক্ষিত এলাকায় ঢুকতে বন দফতরের নিষেধাজ্ঞা থাকে। কারণ বর্ষাকাল প্রাণীদের প্রজননের সময়। ডুয়ার্সের নাম শুনলেই প্রথমে চোখের সামনে ভেসে ওঠে পাহাড়-জঙ্গল। কিন্তু বার্ষায় ডুয়ার্সে বেড়াতে গেলে ঘন জঙ্গলে প্রবেশ করতে পারবেন না একেবারেই।

 ময়ূর

তবে বন জঙ্গলের বাইরেও রয়েছে আলাদা একটা ডুয়ার্স। যা একেবারেই অন্যরকম! ছবির মতো সুন্দর চা-বাগান। তার পাশেই সংকোশ নদী। ভরা বর্ষায় তার রূপ দেখলে চোখ জুড়োবে। কাছেই রয়েছে রসিকবিল। ভ্রমণরসিকের কাছে এ ক্ষেত্র মোটেই অচেনা নয়। তবে অচেনা লাগতে পারে বর্ষায় এর রূপ। বৃষ্টির সময় বাঁশঝাড়ে দাঁড়িয়ে প্রকৃতির নিজস্ব এক ভাষাকে অনুভব করা যায়।

হাতি, গণ্ডার, হরিণ, লেপার্ড, বাইসন ইত্যাদি বন্যজন্তু দেখার জন্য বহু পর্যটক ডুয়ার্স ছুটে যান। কিন্তু তারা জানেন না, যে এতে বন্যপাণে ব্যাঘাত ঘটে। বার্ষার সময় এড়িয়ে অন্য যে কোনো সময় ডুয়ার্সে বেড়াতে যাওয়া যেতে পারে। কিন্তু বার্ষার তিনটে মাস সেখানে যেতে চাইলে একেবারেই চেনা ছকের বাইরে আপনাকে ভ্রমণ মানচিত্র তৈরি করতে হবে।

বর্ষার পানিতে ভরন্ত যৌবনা রায়মাটাং নদী, সেই রূপ মুগ্ধ করবে সকলকে। এছাড়া জলদাপাড়া অরণ্যের বুক চিরে জাতীয় সড়কের ওপর দিয়ে যাওয়া যায় প্রকৃতির গভীরে। মাদারিহাটের একটু আগে ডান দিকের রাস্তাটি চলে গিয়েছে টোটোপাড়ায়। পথে পড়বে হলা-পাড়া। মাঝের নদীটি বর্ষায় পার হওয়া অসম্ভব। মাদারিহাটের পাশেই সুপরিচিত হলং বনবাংলো। বৃষ্টিতে ডুয়ার্স বেড়াতে হলে এইভাবে ভাবতে পারেন।

ডুয়ার্স উত্তরবঙ্গে অবস্থিত একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। এটি ভারতের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলে ভূটান সংলগ্ন আলাকার অবস্থিত। ঢাকার কল্যাণপুর থেকে এসআর, শ্যামলীসহ আরো কিছু পরিবহনের বাসে বুড়িমারী যাওয়া যায়। ওপার থেকে টাটাসুমোয় লাটাগুড়ি পৌঁছতে লাগে তিন ঘণ্টা। ভাড়া তিন হাজার টাকা। শেয়ারের জিপে জনপ্রতি ভাড়া ৩৫০ টাকা। অথবা কলকাতা থেকে ট্রেনে করে পৌঁছে যেতে পারেন নিউ জলপাইগুড়ি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে