বৃদ্ধকে প্লাজমা দিলেন করোনাজয়ী চিকিৎসক

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৪ জুলাই ২০২০,   আষাঢ় ৩০ ১৪২৭,   ২২ জ্বিলকদ ১৪৪১

Beximco LPG Gas

বৃদ্ধকে প্লাজমা দিলেন করোনাজয়ী চিকিৎসক

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২২:০৫ ৩১ মে ২০২০  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারের চিকিৎসক ইনজামামুল হক সিয়াম চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তরুণ এই চিকিৎসক মাত্র সাতদিনে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসকে জয় করে সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন। 

এবার করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার মধ্যপাড়ার এক বৃদ্ধকে নিজের প্লাজমা দিয়েছেন তিনি।

গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকার শেখ হাসিনা বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ৬৫ বছরের ওই বৃদ্ধের জন্য তিনি প্লাজমা দেন। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পৌর এলাকার মধ্যপাড়ার ওই বৃদ্ধ তিনদিন ধরে ঢাকার গ্রীনলাইফ হাসপাতালের আইসিইউতে রয়েছেন। তার অবস্থা সঙ্কটাপন্ন বলে জানিয়েছেন তার পরিবারের লোকজন।

ওই বৃদ্ধের বড় ছেলে জানান, বাবা ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরশহরের সুপার মার্কেটের একজন ব্যবসায়ী। করোনার উপসর্গ দেখা দেয়ায় গত ২৬ মে পারিবারের সবাই কোভিড-১৯ পরীক্ষার জন্য নমুনা দেন। পরীক্ষায় পাঁচ সদস্যের রিপোর্ট পজিটিভ আসে। সবার শুধুমাত্র জ্বর থাকলেও তার বাবার শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। পরবর্তীতে তাকে ঢাকায় নেয়া হয়। শ্বাসকষ্ট বেশি হওয়ায় গ্রীনলাইফ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। 

বাবার অবস্থার পরিবর্তন না হওয়ায় প্লাজমা দেয়ার কথা চিন্তা করি। অনেকেই প্লাজমা থেরাপির মাধ্যমে সুস্থ হয়েছেন বলে শুনেছি। সে জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন কার্যালয়ে যোগাযোগ করে বলি একজন প্লাজমা ডোনারের ব্যবস্থা করে দিতে। গত শুক্রবার সকালে সিভিল সার্জন অফিস থেকে ডা. সিয়ামের কথা বলা হয় আমাকে। এরপর তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে দুপুরেই তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ঢাকায় চলে আসেন প্লাজমা দিতে। তার থেকে ৫০ মিলি প্লাজমা নেয়া হয়েছে। 

ডা. ইনজামামুল হক সিয়াম বলেন, গত ৩০ এপ্রিল কোভিড-১৯ পরীক্ষার জন্য আমার নমুনা দিয়েছিলাম। রিপোর্ট পজিটিভ আসার পর আমি নিজ বাসায় আইসোলেশনে ছিলাম। পরবর্তীতে ৭ মে আমার পরবর্তী রিপোর্ট নেগেটিভ আসে।

আমার প্লাজমা দিয়ে যদি একজন আক্রান্ত রোগী সুস্থ হন তাহলে সেটি স্বার্থকতা। সে জন্য করোনায় আক্রান্ত বৃদ্ধকে প্লাজমা দিয়েছি। জীবন বাঁচানোর মালিক মহান সৃষ্টিকর্তা। আমি শুধু সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম