Alexa ‘বুলবুল’ আতঙ্কে কুয়াকাটা ছাড়ছেন হাজারো পর্যটক

ঢাকা, শুক্রবার   ২২ নভেম্বর ২০১৯,   অগ্রহায়ণ ৭ ১৪২৬,   ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

Akash

‘বুলবুল’ আতঙ্কে কুয়াকাটা ছাড়ছেন হাজারো পর্যটক

পটুয়াখালী প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:২৫ ৯ নভেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১৫:৩১ ৯ নভেম্বর ২০১৯

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ আতঙ্কে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে পরিবার নিয়ে বেড়াতে আসা শিশু, নারী-পুরুষসহ হাজারো পর্যটক জানমাল রক্ষার্থে নিজ নিজ জেলায় ফিরতে শুরু করেছেন।

বেলা ১১টার পর আবহাওয়া অধিদফতর থেকে উপকূলীয় এলাকায় ১০ নম্বর বিপদ সংকেত জারির পর পুলিশ-প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। গ্রামীণ জনপদের প্রত্যন্ত অঞ্চলে চলছে দফায় দফায় মাইকিং করা হচ্ছে। লাল পতাকা উড়িয়ে সর্তক করা হচ্ছে মানুষদের।

মহিপুর থানা ও কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে পর্যটকদের কুয়াকাটা ত্যাগ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। সৈকতের বেলা ভূমি থেকে একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। থমথমে অবস্থা বিরাজ করায় মানুষের মনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

শুক্রবার রাত থেকে ভারী বর্ষণ শুরু হয় পটুয়াখালী জেলার সর্বত্র। অব্যাহত বৃষ্টির পাশাপাশি ঝড়ো বাতাসের ফলে উপকূলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এর আগে আবহাওয়া অধিদফতরের সর্তক বাণীতে মৎস্য বন্দরগুলো সব মাছ ধরার ট্রলার নোঙর করা হয়েছে।  কিছু কিছু ট্রলার সাগর থেকে শনিবার পটুয়াখালীর কয়েকটি মৎস্য বন্দরে ফিরেছে। 

শনিবার দুপুরে পটুয়াখালী আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, পায়রা সমুদ্র বন্দরসহ পটুয়াখালীর উপকূলীয় এলাকাগুলোতে ১০ নম্বর বিপদ সংকেত জারি করা হয়েছে। শনিবার বিকেল থেকে রাতের মধ্যে পটুয়াখালীতে বুলবুল আঘাত হানার সম্ভবনা রয়েছে। পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে বুলবুল পশ্চিম ও দক্ষিণে অন্তত সোয়া তিনশ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। তবে এটি ক্রমশই উপকূলের দিকে ধাবিত হচ্ছে। জেলায় ৪০ মিলি মিটার বৃষ্টিপাত রের্কড করা হয়েছে। 

এদিকে পটুয়াখালী থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে সব নৌযান না ছাড়ার কারণে দূর-দূরান্ত থেকে আসা হাজারো যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছে। সড়ক পথের বাসগুলো অবস্থা বুঝে পটুয়াখালী বাস টার্মিনাল ত্যাগ করছে। সে ক্ষেত্রে সড়ক পথের যাত্রীদেরও দুর্ভোগ কম নয় বলে দাবি করে যাত্রীরা। 

ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা সাংবাদিক তানভীর রাসিব হাশেমি জানান, কয়েক দিনের ট্যুর নিয়ে কুয়াকাটায় বেড়াতে এসেছেন আটজন। কিন্তু বুলবুল আতঙ্কে কুয়াকাটা ত্যাগ করার প্রস্তুতি নিতে বাধ্য হয়েছে। কিন্তু যান চলাচল নিয়ে বিপদে পড়েছে তারা। 

অপরদিকে দুপুরে সরেজমিনে দেখা গেছে, মহিপুর থানার ওসি সোহেল আহম্মেদ পুলিশের কয়েকটি দল নিয়ে কুয়াকাটায় আসা একাধিক পর্যটকদের স্থান ত্যাগ করার জন্য অনুরোধ করে বাসে উঠিয়ে দিচ্ছেন। 

ওসি সোহেল আহম্মেদ এ প্রসঙ্গে জানান, বুলবুলের প্রভাবে আবহাওয়া খারাপ হলে একাধিক পর্যটক যে যার মতো করে স্থানীয় মসজিদ, মন্দিরসহ নিরাপদে আশ্রয় নিয়েছে। সকালে তাদের নিরাপত্তা দিয়ে নিজ জেলা শহরের ফিরতে পুলিশ সহযোগিতা করছে। পাশাপাশি আমরা বাকিদের নিরাপদে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি।

পটুয়াখালীর ডিসি মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরী জানান ঘুর্ণিঝড় মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্ততি নেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে উপজেলা প্রশাসনসহ সবগুলো ইউনিটকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি একাধিক সেচ্ছাসেবী দল মাঠে রয়েছে। 
 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ