Alexa বুকের মধ্যে জড়িয়ে ধরেও আদিবাকে বাঁচাতে পারিনি

ঢাকা, শুক্রবার   ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯,   অগ্রহায়ণ ২৮ ১৪২৬,   ১৫ রবিউস সানি ১৪৪১

বুকের মধ্যে জড়িয়ে ধরেও আদিবাকে বাঁচাতে পারিনি

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:৩৪ ১৩ নভেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১৯:২৬ ১৩ নভেম্বর ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় রেল দুর্ঘটনায় সব চেয়ে নিরাপদ আশ্রয় মায়ের কোল থেকে মৃত্যু কেড়ে নিল ছোট আদিবা আক্তার ছোঁয়াকে। আর্তনাদও তাই করতে পারছেননা মা নাজমা আক্তার। একটু পর পর কুকড়ে যাচ্ছে অসহ্য ব্যথায়।  

এই দুর্ঘটনা কেড়ে নিয়েছে তার ২৬ মাস বয়সী মেয়ে আদিবা আক্তার ছোঁয়াকে। দুর্ঘটনায় দুই পায়ের হাড় ভেঙে গেছে নাজমা আক্তারের। সব হারিয়ে পঙ্গু হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় মহিলা বেডে শুয়ে অঝোরে কেঁদেই যাচ্ছেন। আহত আদিবার বাবা চেতনা হারাচ্ছেন বার বার। জেগে থাকলে দুর্ঘটনার দুঃসহ স্মৃতি মনে করে গুমরিয়ে উঠছেন।

বুধবার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতালের (পঙ্গু হাসপাতাল) বেডে শুয়ে কাঁদতে কাঁদতে কথা বলছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় আহত নাজমা আক্তার।

তিনি বলেন, অনেক শান্ত ছিল আমার মেয়েটি। শান্ত স্বভাবের বলে সবাই তাকে আদর করতো। দুই ছেলে-মেয়ে আর স্বামী সংসার নিয়ে অনেক সুখে ছিলাম। ট্রেন দুর্ঘটনা মেয়েকে কেড়ে নিয়েছে। মারা যাওয়ার আগে শক্ত করে বুকের মধ্যে জড়িয়ে ধরেও মেয়েকে বাঁচাতে পারিনি। 

জানা গেছে, নাজমা চট্টগ্রাম ইয়ংওয়ান গার্মেন্টে চাকরি করতেন। আর তার স্বামী মহিন আহমেদ সোহেল আরেকটি গার্মেন্টে চাকরি করতেন। পাশেই একটি ভাড়া বাসায় পরিবারের সবাই থাকতেন। 

নাজমা আক্তার বলেন, গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জ থেকে কর্মস্থল চট্টগ্রাম ফেরার পথে তার দুই ছেলে-মেয়ে, স্বামী ও মা রেনু আক্তার রাত সাড়ে ১২টায় ট্রেনে ওঠি। রাত পৌনে ৩টার দিকে হঠাৎ বিকট আওয়াজ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চারদিক অন্ধকার হয়ে আসে। মুহূর্তের মধ্যে ট্রেনের বগি ভেঙে চুরমার হয়ে যায়।  

সে সময়ও মেয়ে আদিবাকে বুকের মধ্যে শক্ত করে জড়িয়ে রাখি। কিছুক্ষণ পর দেখি তার শরীর অর্ধেক চাপা পড়ে গেছে। এ সময় বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করতে থাকি।  

মঙ্গলবার সুনামগঞ্জে গ্রামের বাড়িতে তার মেয়েকে দাফন করা হলেও শেষবারের মতো মেয়ের মুখখানা দেখার ভাগ্য হয়নি তাদের। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে