.ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ১৮ এপ্রিল ২০১৯,   বৈশাখ ৫ ১৪২৬,   ১২ শা'বান ১৪৪০

বুকের নয় নম্বর পাঁজরে চিড়, কিন্তু গল্পটা মুশফিকের

 প্রকাশিত: ১৯:২৭ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১৯:২৭ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

এশিয়া কাপের প্রথম ম্যাচে শ্রীলংকাকে একরকম গুঁড়িয়েই দিয়েছে মাশরাফি বাহিনী। যদিও ম্যাচের শুরুতে এতোটা আশা করেনি টাইগার সমর্থকরা। প্রথম ওভার থেকে পিচে ত্রাস ছড়াচ্ছিলেন লংকান পেসাররা। লাসিথ মালিঙ্গার হাত যেন গোলা ছুড়ছিল। আর তাতে প্রথম ওভারেই জোড়া আঘাত, পরের ওভারে কব্জিতে আঘাত পেয়ে হাসপাতালে তামিম। দিন শেষে এক হাতে ব্যাটিংয়ে নেমে ম্যাচের স্পট কেড়ে নিয়েছেন তামিম ইকবাল। কিন্তু গল্পটা তো মুশফিকেরও। 

গতকাল শ্রীলংকার বিপক্ষে খেলে ১৫০ বলে ১৪৪ রানের এক দুর্দান্ত ইনিংস। এশিয়া কাপের ইতিহাসে উইকেটরক্ষকদের রেকর্ডে যা প্রথম। আর এতে পিছনে ফেলেছেন সাঙ্গাকারা, মহেন্দ্র সিং ধোনিদের মতো কিংবদন্তীদেরও। অথচ এই ম্যাচটি খেলারই কথা ছিল না মুশফিকের। শুধু নিজের প্যাশন এবং হার না মানা মানসিকতার জোরে খেলে ফেললেন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি। অথচ সে সময় তার বুকের নয় নাম্বার পাঁজরে চিড়ের ব্যথা।

ম্যাচের আগে জানা গিয়েছিল সিঙ্গেল খেললে তেমন কিছু হচ্ছে না। কিন্তু পাঁজরের ব্যথাটা জেগে উঠছে শট খেলতে গেলেই। মারমার কাটকাট যুগের এই ক্রিকেটে শট খেলার বিকল্প কিছু নেই। ম্যাচটা হয়তো খেলাই হবে না। কিন্তু থামলেন না মুশফিক। জানালেন, এশিয়া কাপের জন্য অনেক কষ্ট করেছি। শেষ পর্যন্ত খেলতে চাই। প্রয়োজনে টেপ বেঁধে খেলবো। শ্রীলংকার বিপক্ষে ম্যাচটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ।


 
এরপরেই প্রশ্ন ছিল, এই ম্যাচ না খেললে তো পাঁচ দিনের বিশ্রাম। একেবারে সুস্থ হয়েই খেলতে পারবেন। উত্তর দিলেন না। কিন্তু ব্যাটিংয়ের সময় বোঝা গেলো কতোটা ব্যথা নিয়ে খেলছেন। টসের আগে অনুশীলনে বারবার ব্যথায় কুঁকড়ে যাচ্ছিলেন। থেকে থেকে পানি খাচ্ছেন তবুও ম্যাচটি খেলতে চান তিনি। এ তো গেলো মাঠের বাইরের কথা।
 
ব্যাটিংয়ে নেমেই দেখলেন দলের বিরাট বিপদ। সেখানে মোহাম্মাদ মিথুনকে সঙ্গী করে প্রাথমিক চাপ সামলে দিলেন। এরপর বাকিদের এক প্রান্ত থেকে শুধু যাওয়া আসা। যে ম্যাচের জন্য এতো কষ্ট তবে কি তা বৃথাই যাবে?
 
বৃথা যেতে দেবেন না বলে শেষ পর্যন্ত ভাঙ্গা কব্জি নিয়েই নেমে পড়লেন তামিম। তামিম কে দেখেই কি মুশফিকের পাঁজরের নয় নম্বর হাড়ের ব্যথাও ভুলে গিয়েছিলেন মুশফিক? হয়তো তাই। আর তাই বুঝি একের পর এক ঝড় তুললেন। শট খেলতে গেলেই পাঁজরে ব্যথা, অথচ সেই ব্যথাকে সহ্য করেই খেলে গেলেন একের পর এক শট।
  
এই গল্পটা শুধু মুশফিকের। শুধু কী তাই? উঠতি খেলোয়াড়দের জন্যেও কি অনুপ্রেরণা নয়? পরিশ্রমী ক্রিকেটার  হিসেবে আগেই পরিচিত ছিলেন। এবারে প্যাশন, ডেডিকেশন নামের যে শব্দগুলো ক্রিকেটে প্রচলিত তা চোখে আঙ্গুল দিয়েই দেখিয়ে দিলেন টাইগার ব্যাটিং স্তভ মুশফিক। গড়নে ছোটোখাট হলেও বুঝিয়ে দিলেন, বুকের সাহসটা ছোটখাটো নয়। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমএইচ/টিএএস