বীরেন মুখার্জীর দুই বই

ঢাকা, শুক্রবার   ০৩ এপ্রিল ২০২০,   চৈত্র ২০ ১৪২৬,   ০৯ শা'বান ১৪৪১

Akash

বীরেন মুখার্জীর দুই বই

সাহিত্য ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:২৮ ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

নব্বইয়ের সময়পর্বের শক্তিমান কবি বীরেন মুখার্জী। এবারের গ্রন্থমেলায় প্রকাশিত হয়েছে কবির ‘জতুগৃহের ভস্ম’ ও ‘মায়া ও অশ্রুনিনাদ’ নামে দুটি কবিতাগ্রন্থ।

বীরেন মুখার্জীর কবিতা সম্পর্কে প্রয়াত পঞ্চাশের কবি আল মাহমুদ বলেছিলেন, ‘বীরেন মুখার্জীর কবিতার বিশেষ দিক হলো, তার কবিতায় আবহমান বাংলা নানারূপে, নানা মাত্রায় ব্যঞ্জিত। কবিতায় চিত্রকল্প এসেছে বোধের গভীর থেকে, যা সাধারণত অনেকেরই কবিতায় অনুপস্থিত। স্বদেশ, সমকালের যন্ত্রণা, আত্মদহন, পীড়ন, নৈঃসঙ্গবোধ তার কবিতাকে অনন্যমাত্রা দিয়েছে। তিনি মূলত প্রেমের কবি। তবে প্রেমের ছদ্মাবরণে রাজনৈতিক সূক্ষ্ম ইঙ্গিতও থাকে। থাকে নানাবিধ হতাশার ছাপ। তা সত্ত্বেও বীরেনের কবিতায় যে নিসর্গ চিত্র পরিস্ফুট হয় তা মনোমুগ্ধকর। আগ্রহ সৃষ্টি করে এমন কবি-তারুণ্য সময়ে না খুঁজলে সহজে আবিষ্কার করা যায় না। বীরেন মুখার্জী স্পষ্টতই প্রতিভাত হয়েছেন একজন মননশীল কবি-প্রতিভা হিসেবে।’

বীরেন মুখার্জীর কবিতা পাঠ করলে কবি আল মাহমুদের এ উক্তির সত্যতা মেলে। বীরেন মুখার্জীর কাব্যভাষা আলাদা। তিনি নিম্নস্বরে কবিতা রচনা করলেও কবিতার শব্দ-ভাষ্যে জীবন ও যাপনের বোধ গীত হয়। বাংলা কবিতার গীতল-ঐতিহ্য বা গীতলতা অক্ষুণ্ণ রেখেই তিনি কসমিক বিশ্বের নানান বোধ, বিজ্ঞান, দর্শন, রাজনৈতিক চেতনা এবং যাপনের নানামাত্রিক ঘোর প্রবেশ করান। তার কবিতা দীক্ষিত পাঠকের মর্মমূল স্পর্শ করে।

‘গদ্যে বা পদ্যে যে কোনো পদ্ধতিতে কবিতার কাজ করলেও ছন্দ সম্পর্কে পূর্ণ ধারণা থাকতে হবে। ভাষাকে রহস্যমণ্ডিত করে উপমা, উৎপ্রেক্ষা, অনুপ্রাসের মধ্য দিয়ে তুলে ধরতে হয়। ভাষার সম্ভবপর মিল কবির মনে এবং মস্তিষ্কে প্রতিনিয়ত গুঞ্জরিত হলেই কেবল অলঙ্কার শাস্ত্র কাউকে কবিত্বের অদৃশ্য মুকুট পরিয়ে দেয়। বীরেন মুখার্জী ছন্দ সচেতন কবি। ভাষার ওপর তার ভালো দখল আছে। অজস্র শব্দ নিয়ে তিনি খেলা করেন। কবির অক্ষরবৃত্তের চলনেও নতুনত্ব আছে। এবারের গ্রন্থমেলায় প্রকাশিত ‘জতুগৃহের ভস্ম’ ও ‘মায়া ও অশ্রুনিনাদ’ কবিতাগ্রন্থেও এর স্বাক্ষর রয়েছে। দুটি গ্রন্থই প্রকাশ করেছে ‘দৃষ্টি’ প্রকাশনী। গ্রন্থ দুটি লিটলম্যাগ চত্বরের ৫৯ নং দৃষ্টি স্টল থেকে পাঠকরা সংগ্রহ করতে পারবেন। 

ডেইলি বাংলাদেশ/আরআর