Alexa বীরপ্রতীক তারামন বিবির দাফন সম্পন্ন

ঢাকা, সোমবার   ১৯ আগস্ট ২০১৯,   ভাদ্র ৫ ১৪২৬,   ১৮ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

Akash

বীরপ্রতীক তারামন বিবির দাফন সম্পন্ন

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

 প্রকাশিত: ১৯:৪০ ১ ডিসেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১৯:৪৩ ১ ডিসেম্বর ২০১৮

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের অন্যতম নারী মুক্তিযোদ্ধা বীরপ্রতীক তারামন বিবির জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হয়েছে। 

শনিবার দুপুর ২টার দিকে রাজিবপুর উপজেলা পরিষদ মাঠে তাকে রাষ্ট্রিয় মর্যাদায় গার্ড অব অর্নার প্রদান করা হয়। এরপর দুপুর আড়াইটার দিকে এই বীরপ্রতীককে রাজিবপুর উপজেলার কাচারীপাড়া গ্রামে তার পারিবারিক কবর স্থানে দাফন করা হয়।

এর আগে শনিবার রাত দেড়টার দিকে তার গ্রামের বাড়ি কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলার শংকর মাধবপুর গ্রামে তিনি মারা যান (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজেউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬২ বছর।কুড়িগ্রামে বীরপ্রতীক তারামন বিবির রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন। 

এ সময় উপস্থিত থেকে বীর প্রতীক তারামন বিবিকে শেষ শ্রদ্ধা জানান কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন, পুলিশ সুপার মেহেদুল করিম, রাজিবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান, বীর মুক্তিযোদ্ধা শওকত আলী বীরবীক্রম, মুক্তিযোদ্ধা মেজর তাজ, মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম টুকু, গণজাগরন মঞ্চের উদ্যোক্তা ইমরান এইচ সরকার, সাবেক এমপি জাকির হোসেনসহ স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা। 

জানা গেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্ট রোগে ভুগছিলেন। তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ৮ নভেম্বর কুড়িগ্রামের রাজীবপুর থেকে ময়মনসিংহ সিএমএইচ (সেনা ক্যান্টমেন্ট হাসপাতাল) ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসকদের পরামর্শে তার উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেয়া হয়। 

সেখানে চিকিৎসা শেষে শারীরিক কিছুটা উন্নতি হলে ১ সপ্তাহ আগে তিনি রাজিবপুরের নিজ বাড়িতে ফিরে আসেন। শুক্রবার রাত ১০টার দিকে বীর প্রতীক তারামন বিবির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রাজিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ দেলোয়ার হোসেন বাড়িতেই তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেন। 

পরে রাত দেড়টার দিকে তার শারীরিক অবস্থার আরো অবনতি হয় এবং তিনি শেষ নিশ্বাষ ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬১ বছর। তিনি স্বামী আব্দুল মজিদসহ এক ছেলে, এক মেয়ে ও অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে যান।

বীর প্রতীক তারামন বিবির ছেলে আবু তাহের জানান, আমার মায়ের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই। সরকার সব সময় আমার মায়ের ও পরিবারের পাশে ছিলেন। মা মারা যাওয়ার পরেও যেন সরকার আমাদের পরিবারের জন্য লক্ষ্য রাখেন।

মুক্তিযোদ্ধা মেজর তাজ বলেন, আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তারামন বিবির অকাল মৃত্যুতে আমি শোকাহত। যদিও তারামন বিবির মৃত্যু হয়েছে আমি মনে করি বাংলাদেশ যতদিন বেঁচে থাকবে তিনিও ততদিন বেঁচে থাকবেন।

তারামন বিবির সহযোদ্ধা শওকত আলী বীর বিক্রম জানান, তারামন বিবি আমাদের সাথেই যুদ্ধ করেছে। সে অনেক কষ্ট করে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর অনেক খবর সংগ্রহ করাসহ কয়েকটি সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। তার মৃত্যুতে আমরা একজন বীর সেনাকে হারালাম।

কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন জানান, তারামন বিবি অসুস্থ থাকায় আমরা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব সময় তার খোঁজ খবর রেখে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে আসছিলাম। শনিবার রাতে তার মৃত্যুর খবর পেয়ে আমরা শোকাহত। তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী তার গ্রামের বাড়ি কাচারীপাড়া গ্রামে পারিবারিক কবর স্থানে দাফন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ১১নং সেক্টরের হয়ে তারামন বিবি মুক্তিবাহিনীদের রান্নাবান্না, তাদের অস্ত্র লুকিয়ে রাখা, পাকবাহিনীদের খবরাখবর সংগ্রহ করা এবং সম্মুখ যুদ্ধে পাকবাহিনীদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছেন। এ কারনে তাকে বীরপ্রতীক খেতাব প্রদান করা হয়।

মহান মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখার জন্য বাংলাদেশে যে দু’জন মহিলা মক্তিযোদ্ধাকে বীর প্রতীক খেতাব দেয়া হয়েছে তারামন বিবি তার একজন।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ

Best Electronics
Best Electronics