Alexa বীজতলায় কোল্ড ইনজুরি, হতাশ কৃষক

ঢাকা, বুধবার   ১৭ জুলাই ২০১৯,   শ্রাবণ ২ ১৪২৬,   ১৩ জ্বিলকদ ১৪৪০

বীজতলায় কোল্ড ইনজুরি, হতাশ কৃষক

খুলনা প্রতিনিধি

 প্রকাশিত: ১৫:২৫ ৯ জানুয়ারি ২০১৯   আপডেট: ১৫:২৫ ৯ জানুয়ারি ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

খুলনায় মাঝারি থেকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহের সঙ্গে ঘনকুয়াশায় বোরো ধানের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোল্ড ইনজুরিতে আক্রান্ত হয়ে বীজতলায় চারা মরতে শুরু করেছে। কোনো কোনো বীজতলার চারা একেবারেই মারা গেছে।

বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে দেখা গেছে, এ সময়ে বোরো আবাদে কৃষকদের মাঠে ব্যস্ত থাকার কথা থাকলেও তারা তীব্র শীতের কারণে তা পারছেন না। আগুন জ্বালিয়ে কোনোভাবে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন তারা। ফলে মাঠে কৃষকদের দেখা মিলছে না। আর ঘন কুয়াশার কারণে বীজতলা শুকিয়ে লালচে রঙ ধারণ করেছে।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, শেষ পৌষের কনকনে শীত ও কুয়াশায় সূর্যের মুখ না দেখায় বোরো ধানের বীজতলা হলুদ রং ধারণ করে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে বোরো ধান আবাদ করতে চারা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা। বীজতলা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তারা হতাশ হয়ে পড়ছেন। কেউ কেউ নতুন করে বীজতলা তৈরি করছেন।

ডুমুরিয়ার বাদুড়িয়া গ্রামের রবিউল ইসলাম, মঠবাড়িয়া গ্রামের সোহেল রানা, চাকুন্দিয়া গ্রামের রবিউল ইসলাম মোড়ল ও আব্দুস সবুর বলেন, কয়েকদিনের তীব্র শৈত্যপ্রবাহে আর ঘন কুয়াশায় বীজতলার অনেকাংশ নষ্টের পথে। বীজতলায় দেখা দিয়েছে কোল্ড ইনজুরি। চারাগুলো হলদে হয়ে গেছে। কোনো প্রকার ওষুধ ছিটিয়েও কোনো লাভ হচ্ছে না।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, খুলনা জেলায় এবার বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫৮ হাজার ৫শ ৮০ হেক্টর। খুলনা জেলায় এবার বোরো বীজতলার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ হাজার ৭শ ৩৫ হেক্টর। ইতোমধ্যে বোরো রোপণ হয়েছে ৭০ হেক্টর জমিতে এবং বীজতলা তৈরি হয়েছে ২ হাজার ৭শ ৩৫ হেক্টর জমিতে। যার মধ্যে প্রায় ১০ শতাংশ বীজতলা কোল্ড ইনজুরিতে আক্রান্ত হয়েছে। ফলে কৃষকের উৎপাদন খরচ কিছুটা বৃদ্ধি পেতে পারে। রবি/খরিপ-১ প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ৪ হাজার ২শ ৪৫ জন কৃষককে দেওয়া হয়েছে বীজ এবং সার। 

আবহাওয়া অফিস খুলনার আবহাওয়াবিদ মো. আমিরুল আজাদ বলেন, এ অঞ্চলের ওপর দিয়ে আগামী সপ্তাহে আবারও শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।

ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. মোসাদ্দেক হোসেন বলেন, আমরা প্রতিনিয়ত কোল্ড ইনজুরি প্রতিরোধে কৃষকের করণীয় বিষয়ে পরামর্শ দিচ্ছি।

খুলনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. আব্দুল লতিফ বলেন, কিছু কিছু জায়গায় বীজতলা কোল্ড ইনজুরিতে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। যারা দেরীতে বীজ বুনেছে তাদের সমস্যাটা একটু বেশি। অতিরিক্ত ঠান্ডা ও কিছু জমিতে লোনার প্রভাবেই বীজতলা নষ্ট হচ্ছে। বীজতলা রক্ষায় প্রতিদিন সকালে ঠান্ডা পানি বের করে দিয়ে নতুন পানি দেওয়া যেতে পারে বলে কৃষকদের পরামর্শ দেন এ কৃষিবিদ।

একাধিক কৃষি কর্মকর্তা  বলেন, অগ্রহায়ণের শুরুতে যদি বীজতলা তৈরি করা হয়, তাহলে শৈত্যপ্রবাহে বীজতলায় কোনো প্রভাব ফেলতে পারে না। কিন্তু কৃষক দেরিতে বীজতলা তৈরি করার কারণে এই কনকনে শীতে পড়েছে বীজতলা। ফলে বোরো ধানের বীজতলা হলুদ হয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। যাকে বলা হয় কোল্ড ডিজিজ।   

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে