Alexa বিয়ের ১০ বছর, নিজ পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ নিষিদ্ধ তার স্ত্রীর

ঢাকা, সোমবার   ১৮ নভেম্বর ২০১৯,   অগ্রহায়ণ ৩ ১৪২৬,   ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

Akash

বিয়ের ১০ বছর, নিজ পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ নিষিদ্ধ তার স্ত্রীর

জান্নাতুল মাওয়া সুইটি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:০৪ ৮ নভেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১৪:২৮ ৮ নভেম্বর ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

বিয়ের পর নিজের নামটিও লুকাতে হয়েছে এই নারীকে। শুধু তাই নয়, নিজের পরিবারকেও ভুলতে হয়েছে। বাবা-মা, আত্মীয় স্বজন সবাইকেই ভুলে রয়েছেন তিনি। তার একা একা ঘর থেকে বের হওয়াও মানা। কারণ তিনি পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ংকর ও নিষ্ঠুর প্রকৃতির মানুষের স্ত্রী। তার আরো একটি পরিচয় হলো তিনি নর্থ কোরিয়ার ফার্স্ট লেডি। নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন! বলছি কিম জন উংয়ের স্ত্রী রি সোল জু সম্পর্কে। 

নর্থ কোরিয়ার অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতে হয় তাকে। তার নাম রি সোল জু। তিনি পড়ালেখা করেছেন মিউজিক অ্যান্ড সিঙ্গিং বিষয়ে। কিম জং উনের সঙ্গে বিয়ে হওয়ার পূর্বে তিনি একজন চেয়ার লিডার ছিলেন। চেয়ার উইনিং প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহণের জন্য তিনি নর্থ কোরিয়ার সবচেয়ে বড় শত্রু সাউথ কোরিয়াতেও গিয়েছিলেন। নর্থ কোরিয়ার ফার্স্ট লেডি হওয়ায় তাকে অনেক কঠিন নিয়ম কানুনেন মধ্য দিয়ে যেতে হয়। জেনে নিন সেসব অমানবিক নিয়ম সম্পর্কে-

তিনি একজন গায়িকা এবং চেয়ার লিডার ছিলেন১. এমন আইন যা সেদেশের সবাইকে অনুসরণ করতে হয়। সেটি তিনি যে পদেই থাকুক না কেন। মানতে হবে সবাইকেই। আর সেই বিষয়টি হলো নর্থ কোরিয়ার কেউই ১৬ই ফেব্রুয়ারি বিয়ে করতে পারবে না। কারণ কিম এল সানের জন্মদিন পালিত হয় সেদিন। এই ব্যক্তি ছিলেন কিম জন উংয়ের দাদা। এছাড়াও ১৫ এপ্রিলেও সেদেশে বিয়ে নিষিদ্ধ। কারণ সেদিন কিম জন ইলের জন্মদিন। যিনি কিমের পিতা। এজন্য নর্থ কোরিয়ার লিডারের বিয়েও এই দুই দিনের একদিনও হয়নি। এই বিশেষ দিনগুলোতে শ্রদ্ধেয় দুই ব্যক্তির প্রতিকৃতির সামনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো সবারই বাধ্যতামূলক।

২. বিয়ের পর নিজের নামটিও লুকাতে হয়েছে নর্থ কোরিয়ার ফার্স্ট লেডিকে। তার নাম রি সোল জু। এই নামে তাকে পুরো দুনিয়া চিনে। যদিও এটি তার আসল নাম নয়। বিয়ের পর তার এই নামটি রাখতে হয়েছে। বিয়ের পূর্বে তার নাম কি ছিলো তা আজো লুকিয়ে রেখেছেন তিনি। কারণ তার অতীত জীবন সম্পর্কে যেন কেউই না জানতে পারে।

রি সোল জু৩. এই নিয়মটি খুবই অমানবিক। তা স্বত্ত্বেও মানতে হয় কিমের স্ত্রীকে। নিজের পরিবারের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি নেই তার। বিয়ে মানেই কি নিজের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া? অবশ্যই নয়। তবে নর্থ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের স্ত্রীর ক্ষেত্রে এই নিয়মটি না-কি বড্ড বেমানান। বিয়ের পর থেকে একদিনও নিজ পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে পারেন নি রি সোল জু। যদিও তিনি রাষ্ট্রের বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকেন এটি একটি কারণ হতে পারে। তবে অভ্যন্তরীণ বিষয়টি সবারই অজানা।

৪. জনসাধারণের সামনে যাওয়া মানা তার। অন্যান্য দেশের ফার্স্ট লেডিরা এই বিষয়ে উন্মুক্ত হলেও রি সোল জুকে বাইরে বের হতে গেলে সাতবার ভাবতে হয়। এছাড়া যতবার তাকে বাইরে দেখা গেছে প্রতিবারই তার স্বামী কিম জন উংয়ের সঙ্গেই। নর্থ কোরিয়ার এটি খুবই কঠিন একটি নিয়ম। মূলত ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষাতেই এই নিয়ম।

শুধু স্বামীর সঙ্গেই তিনি জনসম্মুখে যান৪. নর্থ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টকে নিয়ে পুরো বিশ্বেই নানা কথার প্রচলন রয়েছে। তার বিভিন্ন নিয়ম কানুন বেধে দেয়ার কারণে তিনি নিষ্ঠুর প্রকৃতির বলেও পরিচিত। এই নিষ্ঠুরতা শুধু যে রাষ্ট্রের কল্যাণে তা কিন্তু নয় পরিবারও তার এসব নিয়মে প্রায় অতীষ্ট। পরিবার পরিজন এমনকি ছোট্ট শিশুকে যেতে হয় নিয়মের মধ্য দিয়ে। বিশ্বের বিভিন্ন শক্তিশালী দেশের সঙ্গে নর্থ কোরিয়ার সুসম্পর্ক না থাকায় বিপদের আশঙ্কায় থাকতে হয় তাদেরকে। মূলত সেসব বিপদ থেকে বাঁচতেই এসব নিয়মকানুন মানতে হয় কিম জন উনের পরিবারকে।

৫. রি সোল জুকে নিয়মিত বিভিন্ন শোকানুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে হয়। সঙ্গে শোক দিবসে বিভিন্ন প্রতিকৃতির সামনে গিয়ে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করতেও হয়। 

স্বামী, শ্বশুর-শ্বাশুড়ির সঙ্গে রি সোল জু৬. এই নারীর সমস্ত অতীত মুছে দেয়া হয়েছে। বিয়ের পূর্বে তিনি একজন চেয়ার লিডার ছিলেন। গানের প্রতি ছিলো তার অগাধ ভালোবাসা। এসবও ভুলতে হয়েছে তাকে। ভাবুন তো, কতটা কঠিন কাজ জীবনের অতীতকে মুছে ফেলা? কিম জন উনের সঙ্গে বিয়ের পূর্বে তিনি কোথায় বাস করতেন? তার নাম কি ছিলো? তিনি কি করতেন? এসব তথ্য সবারই অজানা। 

নিষ্ঠুর রাষ্ট্রপতির বিভিন্ন কার্যক্রমের নমুনা

অদ্ভুত সব নিয়মকানুন প্রচলিত আছে এবং অদ্ভুত কিছু ঘটনা ঘটেছে এমন অনেক দেশের নাম করা যায়। তবে অদ্ভুত নিয়মকানুন এবং অদ্ভুত ঘটনার দিক থেকে উত্তর কোরিয়া অন্য সব দেশকে চোখের পলকে পেছনে ফেলে দেবে। বিশেষ করে দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট কিম জং-উনের ক্ষমতায় আরোহণের পর থেকে উন্মাদসুলভ কাহিনী ঘটেই যাচ্ছে। গোপনে বে-আইনি কাজ করলেও জনসম্মুখে সাধারণত আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রাখেন তিনি। 

কিম জন উং এবং তার স্ত্রীতবে উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং-উন যেন এসব কোনোকিছুরই তোয়াক্কা করেন না। আর তার খেয়ালি সিদ্ধান্তের ফলে ভোগান্তিতে ভোগে দেশটির প্রায় ২৫ মিলিয়ন মানুষ। বলা যায় পৃথিবী নামক সাগরে আশ্চর্য এক দ্বীপ এই দেশটি, যেখানে পৃথিবীর কোনো আইন-কানুনের বালাই নেই। এই দেশটিকে পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্নই বলা যায়। দেশটি মনে প্রাণে চাইছে অন্য কোনো দেশের সাহায্য ছাড়াই একা একা চলতে। জেনে নিন কিম জং-উনের ডার্ক সিক্রেট ও উন্মাদস্বরূপ কার্যক্রম সম্পর্কে-

১. উত্তর কোরিয়ায় ইন্টারনেট নিষিদ্ধ। সরকার অনুমোদিত ১ হাজারটি ওয়েবসাইট বাদে অন্য কোথাও ভিজিট করতে পারে না সে দেশের নাগরিকরা। 

ছেলেদের চুলের কাট২. নির্দিষ্ট ১০টি স্টাইলের বাইরে চুলের রাখতে পারবে না পুরুষেরা। মেয়েরা মোট ১৮টি ভিন্ন ভিন্ন স্টাইলে চুল রাখতে পারবে। ২৫ মিলিয়ন জনসংখ্যার জন্য সব মিলিয়ে ২৮টি হেয়ার কাট। এর বাইরে গেলে চলে যেতে হবে জেলখানায়।

মেয়েদের নির্ধারিত চুলের কাট৩. চাচা এবং চাচীকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছিল প্রেসিডেন্ট কিম। ২০১৩ সালে উত্তর কোরিয়া সরকার দাবী করে তার চাচা জ্যাং বিপ্লবের মাধ্যমে কিমকে অপসারণের পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত। কিমের কাছে এই খবর যাবার পর তাৎক্ষণিকভাবে তাকে অপসারণ ও মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়া হয়। জ্যাং এর মৃত্যুতে তার স্ত্রী (কিমের চাচী) ব্যথিত ও মর্মাহত হয়। ব্যথিত হবার এই খবর পৌঁছায় প্রেসিডেন্ট কিমের কানে। এ খবরে চাচীকেও দেয়া হলো মৃত্যুদণ্ড।

গাঁজা বৈধ সেখানে৪. ১২ জন পপ তারকাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল কিম। তারকাদের অপরাধ হচ্ছে, তারা তাদের সঙ্গম মুহূর্তের ভিডিও টেপ তৈরি করেছিল।

৫. নীল রঙের জিন্স পরা নিষিদ্ধ উত্তর কোরিয়ায়। নীল রঙের জিন্স পরা যাবে না, কারণ এটি নাকি সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকার প্রতিনিধিত্ব করে।

৬. গাঁজা বৈধ উত্তর কোরিয়ায়। সৈন্য হতে আরম্ভ করে দেশের সকল স্তরের মানুষ বেশ উল্লাস করেই গাঁজা টানে। সেদেশে গাঁজা চা-সিগারেটের মতোই স্বাভাবিক।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস