বিয়ের নামে মেয়েকে বিক্রি, ধর্ষণ করতো স্বামী ও বন্ধুরা!

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৩ মে ২০১৯,   জ্যৈষ্ঠ ৯ ১৪২৬,   ১৭ রমজান ১৪৪০

Best Electronics

বিয়ের নামে মেয়েকে বিক্রি, ধর্ষণ করতো স্বামী ও বন্ধুরা!

আয়েশা পারভীন ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:৩২ ১৬ মে ২০১৯   আপডেট: ১৬:৩৬ ১৬ মে ২০১৯

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

সোনিয়া। এক ধর্ষিতা নারীর ছদ্মনাম। যে নারী কয়েকমাস ধরে স্বামীসহ তার বন্ধুদের বিনোদনের খোরাক ছিলেন। কখনো ভাবেননি তার জীবনটা এভাবে এলোমেলো হয়ে যাবে। কিন্তু সামান্য কটা অর্থের বিনিময়ে এমনই পরিস্থিতি ভোগ করতে হয় তাকে। ঘটনাটি শুনলে হয়তো বিচলিত হওয়া ছাড়া আর কিছুই করার থাকবে না, তবে সোনিয়ার জীবনে এমন কাল নেমে আসে তার জন্মদাতা বাবার কারণে। সামান্য কটা অর্থের জন্যই তিনি নিজের মেয়েকে দিয়েছিলেন স্বামী নামক ওই নরপিশাচের হাতে, যে কিনা শুধু নিজেই ভোগ করে ক্ষান্ত হননি, ভোগ করিয়েছেন তার সমগ্র বন্ধুকে।

ঘটনা হলো, পারিবারিকভাবে সোনিয়ার প্রথম বিয়ে হয়েছিল বছরখানেক আগে। প্রথম তিন চারমাস সব কিছু ঠিকই ছিল। তারপর এক পর্যায়ে এসে ওই সংসারে শান্তিতে ছিলেন না সোনিয়া। এরপর একদিন তার স্বামী সোনিয়াকে ছেড়ে অন্যত্র চলে যায়। পরে উপায়ন্তর না দেখে বাবার বাড়ি ফিরে এসেছিলেন তিনি। 

এরপর বাবার বাড়িতে কাটছিল সোনিয়ার জীবন। কিন্তু হঠাৎ একদিন ঝড় নেমে আসে তার বাবার নেয়া এক সিদ্ধান্তে। মাত্র ১০ হাজার রুপির বিনিময়ে তিনি তাকে বিয়ের নামে বিক্রি করে দেন স্বামী নামক এক নরপিশাচের হাতে। এরপর থেকে শুরু হয় তার জীবনের দারুণ ভয়াবহতা। দ্বিতীয় স্বামীর হাতে ভালোবাসাতো দূরের কথা, প্রতি রাতে ধর্ষণের শিকার হতেন সোনিয়া। তাও ঠিক ছিল যদি শুধু স্বামীর নির্যাতনই সইতে হত, কিন্তু বন্ধুদের দিয়েও ধর্ষণ করাতেন স্ত্রীকে তিনি। এতটাই নরপিশাচ ছিলেন ওই স্বামী, প্রতি রাতে তিনি সহ বাকি বন্ধুদের বিনোদনের খোরাক বানাতেন সোনিয়াকে।

এইভাবে তার জীবনে চলতে থাকে অমানবিক বর্বরতা। পরে উপায়ন্তর না পেয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছিলেন সোনিয়া। তবে কে জানতো এই অভিযোগ হিতে বিপরীত হবে? পুলিশের কাছে সোনিয়া অভিযোগ করেছে জানতে পেরে, স্বামী তার স্ত্রীর ওপর আরো ক্ষিপ্ত হন। এক পর্যায়ে ওই স্বামী তাকে এসিড ঢেলে শরীর জ্বালিয়ে দেয়ার হুমকি দেন। কিন্তু অভিযোগ করেও বর্বরতা থামে না সোনিয়ার জীবনে। পরদিন থেকে আবারো চলতে থাকে তার শরীরের উপর তিন-চারজন মানুষের নির্যাতন। পরে সহ্যের শেষ পর্যায়ে এসে সোনিয়া অন্যরকম সিদ্ধান্ত নেন, তিনি নিজের শরীরে নিজেই আগুন ধরিয়ে দেন।  

এরপর পাড়াপড়শির চিল্লাচিল্লিতে ও বন্ধুর ফোনে পুলিশ সোনিয়াকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে হাসপাতালে শুয়ে তিনি পুলিশের উদ্দেশে বলেন, পুরো শরীর’তো পুড়ে গেছে, এখন আর কেউ ধর্ষণ করবে না। আর কখনো আমাকে একাধিক মানুষের বিনোদনের খোরাক হতে হবে না। মূলত ভারতের নয়ডা শহরে এই ঘটনাটি ঘটে। আর পুলিশ যখন সোনিয়াকে উদ্ধার করে তখন তার শরীরের ৭৫%-৮০% পোড়া অবস্থায় পাওয়া যায়। রিষভ নামে সোনিয়ার এক বন্ধু ওই সময় তার পাশে ছিলেন। তিনিই মূলত পুলিশে খবর দেন। ওই সময় পাড়াপড়শিও সোনিয়াকে বাঁচাতে এগিয়ে আসে। 

এদিকে, নয়ডা হাসপাতালে শুয়ে সোনিয়া যখন পুলিশকে নিজের জীবনে ঘটে যাওয়া কালো অধ্যায়ের বর্ণনা দিচ্ছিলেন, তখন উপস্থিত সবাই তার বয়ান শুনে চমকে উঠছিলেন। সোনিয়া জানান, মাত্র ১৪ বছর বয়সে তার বাবা প্রথম বিয়ে দেন তাকে। এরপর ওই স্বামী ছলে বলে কৌশলে তাকে রেখে পালিয়ে যায়। পরে মাত্র ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে এই নরপিশাচের সঙ্গে তার বিয়ে দেয়া হয়। এরপর তার দ্বিতীয় স্বামী রোজ রাতে তাকে ধর্ষণ করতেন। সঙ্গে বন্ধুদের নিয়ে এসে অর্থের বিনিময়ে ধর্ষণ করাতেন। 

তারা মজা নিতেন, আর আমি রাজি না হলে চলত অত্যাচার, বেধড়ক মারধর। দিনের পর দিন এভাবে চলত আমার জীবন। এমনকি খেতে দেয়া হত না আমাকে। তাছাড়া কাজের লোকের মতো ঘরের সব কাজ করানো হতো আমাকে দিয়ে। আর ধর্ষণ করানোর বিষয়টা এতদূর এগিয়েছিল যে, পুরো বাইরের লোকজনও জেনে গিয়েছিল। এলাকায় এমনও হয়েছিল যে, বাইরের লোকেরা জেনে গিয়েছিল; আমার স্বামীকে অর্থ দিলে যে কেউ ধর্ষণ করতে পারবে। তাই যে যখন পারতো, তাকে অর্থ দিয়ে আমাকে এসে ধর্ষণ করতো। মূলত আমি ছিলাম ওই এলাকার খোরাক। যে কেউ এসে আমাকে ধর্ষণ করে যেতেন। গত পাঁচ মাসে অন্তত ২০ জন লোক আমার উপর দিয়ে গেছে, হাসপাতালে সবার সামনে উচ্চস্বরে বর্বরতার কথাগুলো এইভাবে বলছিলেন সোনিয়া।

তিনি আরো জানান, স্বামীর এমন অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে পুলিশে অভিযোগ করেছিলাম কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। পরে হিতে বিপরীত হয়েছিল, আমাকে হুমকি দেয়া হয়েছিল এসিডে ঝলসে দিবে পুরো শরীর! 

পরে বন্ধু রিষভের সঙ্গে পালিয়ে যান তিনি। তবে দ্বিতীয় স্বামীর ঘরে ছিল সোনিয়ার তিন সন্তান, যার দুটি ছিল দ্বিতীয় স্বামীর বাকি একজন কোনো এক ধর্ষকের। এদিকে সোনিয়া পালিয়ে যাওয়ায় তিন সন্তানকেই আটকে ফেলেন তার স্বামী। ফিরে না এলে তাদের মেরে ফেলারও হুমকি দেন তিনি। পরে ফিরে আসেন মা সোনিয়া। এরপর আবারো এলাকার ধর্ষক দিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয়, বিনিময়ে নেয়া হয় অর্থ। পরে এই জীবনটা আর সহ্য করতে না পেরে নিজের শরীরে আগুন দেন তিনি।

এদিকে, হাসপাতালে সোনিয়ার প্রতি রিষভের কী দায়িত্ব জিজ্ঞাসা করলে পুলিশকে তিনি জানান, সেরে না ওঠা পর্যন্ত সোনিয়ার পাশে থাকবেন তিনি। এরপর ওই পাপিষ্ঠ স্বামীকে তালাক দিলে তাকে বিয়ে করবেন তিনি। কিন্তু সুনীতার বর্তমান অবস্থা থেকে সেরে উঠতে অনেক সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। এমনকি তাকে নিয়ে এখনো ভয় আছে বলেও জানান তারা। কারণ তার শরীরের ৭৫% থেকে ৮০% পুড়ে গেছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসআই

Best Electronics