Alexa বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকার অনশন 

ঢাকা, শুক্রবার   ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ৫ ১৪২৬,   ২০ মুহররম ১৪৪১

Akash

বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকার অনশন 

বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি: ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:৪৫ ১৭ আগস্ট ২০১৯   আপডেট: ২২:২৭ ১৭ আগস্ট ২০১৯

ছবি: প্রতীকী

ছবি: প্রতীকী

বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অনশন করছেন এক তরুণী। এই ঘটনায় বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছেন অভিযুক্ত ওই প্রেমিক। পরে ওই তরুণী স্থানীয় এক চৌকিদারের বাড়িতে অবস্থান নিয়ে অনশন শুরু করেন। আত্মহত্যার হুমকি দেয়ায় স্থানীয় চৌকিদার ডাবলুর বাড়িতে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। 

শুক্রবার সন্ধ্যার আগে অনশন শুরু করেন ওই তরুণী। ঘটনাটি ঘটেছে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার সোনাদহ গ্রামে। সরেজমিন শনিবার দুপুরে ওই গ্রামের চৌকিদার ডাবলুর বাড়িতে গিয়ে কথা হয় তরুণীর সঙ্গে। 

তিনি জানান, তার প্রেমিকের নাম মাসুদ রানা তান্নাহ। তার বাড়ি বাঘা উপজেলার বাউসা ইউপির সোনাদহ গ্রামে। রাজশাহী কলেজে পড়াশুনা করে। তার বাড়িও একই উপজেলার সোনাদহের পাশের গ্রামে। লেখাপড়া করে রাজশাহী সিটি কলেজে। 

ওই তরুণী আরো বলেন, প্রায় আড়াই বছর আগে তার সঙ্গে পরিচয় হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে পার্কে, বন্ধুর বাসায় ছাড়াও শহরের আবাসিক হোটেলে নিয়ে গিয়ে আচরণ করেছে স্বামী-স্ত্রীর মতো। সর্বশেষ কোরবানি ঈদের ৫-৬ দিন আগে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে রাতে এলাকার মাঠের মধ্যে ডেকে নিয়ে একই ধরনের আচরণ করেছে। সেখানে ঈদের পরে কাবিন ও বিয়ে হবে বলে আমাকে জানায়। কিন্তু পরে সে আর কথা রাখেনি। 

ওই তরুণী বলেন, বাধ্য হয়েই আমার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য শুক্রবার সন্ধ্যার আগে মাসুদ রানা তান্নার বাড়িতে গিয়ে উঠি। সেখান থেকে তার মা বাবাসহ অন্য আত্মীয়রা আমাকে টানা হেঁচড়া করে বের করে দেয়। 

তার দাবি, প্রেমের বিষয়টি দুজনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। তাই সে ছাড়াও তার পরিবারের পক্ষ থেকেও বিয়ের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে একাধিকবার।

মাসুদ রানার বাড়িতে গিয়ে কাউকে না পেয়ে কথা হয় তার চাচা শফিকুল ইসলামের সঙ্গে। 

তিনি বলেন, হঠাৎ করেই বাড়িতে আসার পর পারিবারিকভাবে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলে বোঝানো হয়েছে। এতে রাজি না হলে ইউপি চেয়ারম্যান ও স্থানীয় সদস্যসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিকে ডাকা হয়। তারা তরুণীর বাবাকে তার বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন। মেয়ের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কিছুই করবেন না বলে জানিয়েছেন তরুণীর বাবা রইশ উদ্দীন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য সলিম উদ্দীন সরকার বলেন, প্রথমে তরুণীর ফুফার জিম্মায় দেয়া হয়েছিল। কিন্ত তারা রাখেননি। তাই চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনা করে চৌকিদারের বাড়িতে রাখা হয়েছে।

বাউসা ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম শফিক বলেন, মাসুদ রানা তান্নাহ পালিয়ে যাওয়ার কারণে এ ঘটনার মীমাংসা শিগগিরই হচ্ছে না। তান্নাকে পেলেই এ বিষয়ে তার বাড়ির লোকজনের সঙ্গে কথা বলে সমাধান করা হবে।

বাঘা থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুল ওয়াহাব বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। মেয়েটি মামলা করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে