বিয়ের দাবিতে ধর্ষকের বাড়িতে কিশোরীর অনশন

ঢাকা, বুধবার   ০৮ এপ্রিল ২০২০,   চৈত্র ২৫ ১৪২৬,   ১৪ শা'বান ১৪৪১

Akash

বিয়ের দাবিতে ধর্ষকের বাড়িতে কিশোরীর অনশন

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:৫৩ ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলার আন্ধাড়ির ঝাড় মরাখানা গ্রামের সম্ভ্রম হারানো এক কিশোরী ধর্ষকের বাড়িতে অনশন শুরু করেছেন।

শুক্রবার সকাল থেকে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার ভাঙ্গামোড় ইউপির ভাঙ্গামোড় গ্রামের চা ব্যবসায়ী এহছান আলীর বাড়িতে এ অনশন চলছে।

ধর্ষক সোহেল রানা মাসুদের পরিবারের লোকজন ক্ষতিগ্রস্ত কিশোরী ও তার নানিকে নির্যাতন করলেও তা সহ্য করেই ওই কিশোরী অনশন অব্যাহত রেখেছেন। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। এলাকাবাসী ভিড় জমাচ্ছেন ভাঙ্গামোড় গ্রামে।

ভুরুঙ্গামারী উপজেলার আন্ধাড়ির ঝাড় মরাখানা এলাকার এক কিশোরীর অসহায় বাবা জীবন বাঁচানোর তাগিদে বাড়ি-ঘর ফেলে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে চলে আসেন রাজশাহীর রেলপুকুর মাহেন্দ্রা বাজারের রহমান জুট মিলে। এখানে তিনি শুরু করেন সাপ্তাহিক মজুরিতে শ্রমিকের কাজ।

তার স্ত্রী,বড় মেয়ে ও ছোট মেয়ে কিশোরী মিলে পরিবারের চার সদস্য মিলেই রহমান জুট মিলে শ্রমিকের কাজ করেই জীবন চালান তিনি। জুট মিলে কাজ করার সময় ওই মিলের সোহেলা রানা মাসুদ নামে এক শ্রমিক ওই কিশোরীর উপর কুনজর পড়ে। ওই শ্রমিকের বাড়ি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার ভাঙ্গামোড় ইউপির ভাঙ্গামোড় গ্রামে। সে ওই গ্রামের এহছান আলীর ছেলে।

বিভিন্ন সময় সোহেলা রানা মাসুদ কিশোরীকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল। এতে কিশোরী রাজী না হওয়ায় বিয়ের প্রলোভন দেখাতে থাকে সোহেল রানা মাসুদ। এতেও কিশোরী রাজি হয়নি। এরমধ্যে গত ৩ ফেব্রুয়ারি কিশোরী শারীরিক অসুস্থতার কারণে জুট মিলে না গিয়ে বাসায় বিশ্রাম নিচ্ছিল। 

এ খবর সোহেল রানা মাসুদ জানতে পেরে কিশোরীর বাসার আশপাশে ওঁৎ পেতে থাকে। সন্ধ্যায় কিশোরী বাথরুমে গেলে ওঁৎপেতে থাকা সোহেল রানা মাসুদ বাথরুমের দরজা বন্ধ করে ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করে। এ সময় কিশোরীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে সোহেল রানাা মাসুদকে আটক করে। এ সময় সোহেল রানা মাসুদ কিশোরীকে বিয়ে করবে বলে উপস্থিত লোকজনের সামনে প্রতিশ্রুতি দেয় এবং বিয়ে পড়াতে বলে। তার কথামতো বিয়ে পড়ানো হয়।

পরে সোহেল রানা মাসুদ তার কর্মস্থল রহমান জুট মিলের পাশের একটি কক্ষে কিশোরীকে নিয়ে রাতযাপন করেন। পরদিন সকালে সোহেল রানা মাসুদ কিশোরীর জন্য স্বর্ণের নাক ফুল কিনে আনার কথা বলে ঘর থেকে বের হয়ে পালিয়ে তার বাড়ি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার ভাঙ্গামোড় ইউপির ভাঙ্গামোড় গ্রামে আসে। 

পরে কিশোরীর বাবা তার মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে রাজশাহীর জুট মিলের নিজের কাজ বন্ধ করে সোহেল রানা মাসুদের বাড়িতে আসে। কিশোরীর বাবা সোহেল রানা মাসুদের পরিবারকে সব ঘটনা খুলে বলেন। কিন্তু মাসুদের পরিবার তার কথার গুরুত্ব না দিয়ে উল্টো তাকে তাড়িয়ে দেয়। 

কিশোরীর বাবা স্থানীয় ভাঙ্গামোড় ইউপি চেযারম্যানের কাছে এ ঘটনা জানিয়েও বিচার পাননি। চেয়ারম্যান ঢাকা যাবেন এ অজুহাতে তাকে এক মাস পর আসার কথা বলে ফিরিয়ে দেয়া হয়। 

কিশোরীর অসহায় বাবা বলেন, আমি আমার মেয়ের ধর্ষকের উপযুক্ত বিচারের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছি। কোথাও বিচার পাচ্ছি না। মেয়ের ধর্ষক সোহেল রানা মাসুদ বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আমার মেয়েকে ধর্ষণ করেছে। আমি বিচার চাই। 

তিনি আরো বলেন, এ ধর্ষক আমার মেয়েকে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ না করলে আমার মেয়ে আত্মহত্যা করবে। আমি আমার মেয়ের ধর্ষণকারীর উপযুক্ত বিচারের জন্য পুলিশ প্রশাসনসহ আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষের সাহায্য চাচ্ছি।

কিশোরী বলেন, সোহেল রানা মাসুদ আমার সবকিছু শেষ করেছে। আমি তার সংসার করতে চাই। সে আমাকে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ না করলে আমি এ জীবন রাখবো না। 

ধর্ষকের সম্পর্কের চাচা শহিদুল ইসলাম বলেন, আমি সোহেল রানা মাসুদের কাছে শুনেছি সে কিশোরীকে ধর্ষণ করেছে। তারা দু’জনে বিয়ে করেছে। 

ধর্ষকের বাবা এহছান ওরফে এছান বলেন, আমার ছেলে সোহেল রানা যদি ঘটনাটি ঘটিয়ে থাকে, আর এটি যদি প্রমাণ হয়, আমি মেয়ে-ছেলের বিয়েতে রাজি আছি।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ