Alexa বিয়ের জন্য এভারেস্টে!

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৯ নভেম্বর ২০১৯,   অগ্রহায়ণ ৫ ১৪২৬,   ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

Akash

বিয়ের জন্য এভারেস্টে!

 প্রকাশিত: ১২:৪৩ ১৭ জুন ২০১৩   আপডেট: ২১:৫০ ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯

শখ পূরণে সাগরতল বা আকাশে বিয়ে করার খবর অনেকের জানা। তাই বলে পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গের কাছাকাছি গিয়ে বিয়ে! হ্যাঁ, যুক্তরাষ্ট্রে ক্যালিফোর্নিয়ার এক প্রেমিক যুগল বিয়ের জন্য এমনই দুঃসাহসিক কাণ্ডটি করেছেন। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৭ হাজার ফুট উঁচু এভারেস্টের বেস ক্যাম্পে বিয়ে করেছেন ওই যুগল। আর তাঁদের সঙ্গী ছিলেন একজন বিখ্যাত পেশাদার আলোকচিত্রীও। ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে জানানো হয়, মার্কিন ওই প্রেমিকের নাম জেমস সিসম (৩৫) ও প্রেমিকা অ্যাশলে স্কিমেডর (৩২)। এক বছরের পরিকল্পনা ও তিন সপ্তাহের কঠিন প্রশিক্ষণ শেষে গত ১৬ মার্চ তাঁরা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৭ হাজার ফুট উঁচু এভারেস্টের বেস ক্যাম্পে ওঠেন। তাঁদের সঙ্গে থেকে পুরো ঘটনা ক্যামেরাবন্দী করেছেন বিখ্যাত মার্কিন আলোকচিত্রী শার্লটন চার্চিল। শার্লটন মূলত দুঃসাহসী বিয়ের ছবি তোলেন। প্রতিবেদনে জানানো হয়, এভারেস্টের বেস ক্যাম্পে তীব্র ঠান্ডার মধ্যেও জেমস ও অ্যাশলে ঠান্ডার পোশাক ছাড়াই ঐতিহ্যবাহী পোশাকে বিয়ে করেন।

বিয়ের পাত্রী অ্যাশলে স্কিমেডর বলেন, ‘পারিবারিকভাবেই আমাদের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আমরা দুজনে বিয়ে নিয়ে এমন কিছু করতে চেয়েছিলাম, যা ব্যতিক্রম হবে। এ কারণে আমার দুজনেই এক ছুটিতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাই। হাজারো মাইল দূরের নেপালে চলে আসি। তিন সপ্তাহের ট্রেকিং শেষে বেস ক্যাম্পে উঠি।’ প্রতিবেদনে বলা হয়, দুঃসাহসী বিয়ের আলোকচিত্রী শার্লটন চার্চিল ২০১৫ সালেও এমন এক দম্পতির দেখা পেয়েছিলেন; যাঁরা এভারেস্টে বিয়ের পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু সে সময় ভয়াবহ ভূমিকম্পের কারণে তা আর হয়নি। শার্লটন চার্চিল তাঁর ব্লগ পোস্টে লিখেছেন, ‘আমি কল্পনা করতে পারিনি যে এভারেস্টে উঠে বিয়ে করতে চান, এমন কোনো দম্পতির আর দেখা পাব।’ শার্লটন বলেন, এই দম্পতি বছর খানেক আগে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন। তাঁরা জানিয়েছিলেন, তাঁরা দুঃসাহসী অভিযান চালিয়ে বিয়ে করতে চান। কিন্তু এ জন্য তাঁরা স্থান খুঁজে পাচ্ছেন না। এভারেস্টে অন্তত একবার কারও বিয়ের ছবি তোলার তক্কে তক্কে থাকা শার্লটন তাঁদের এই কথাটি জানান। ব্যাস, এতেই রাজি হয়ে যান ওই দম্পতি। আর তাঁদের এ অভিযানের সঙ্গী হয়ে যান শার্লটন।

শার্লটনের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, তাঁদের এ অভিযান শুরুতে মোটেও সুখকর ছিল না। শার্লটন এভারেস্টে উঠতে গিয়ে খাদ্যে বিষক্রিয়ায় অসুস্থ হয়েছিলেন। বেস ক্যাম্প ওঠার আগেই বিয়ের পাত্রী অ্যাশলের অক্সিজেন সংকট দেখা দিয়েছিল। এত অল্প দিনের ট্রেকিং নিয়ে এভারেস্টের বেস ক্যাম্পে ওঠা অনেক দুঃসাধ্য ছিল। কিন্তু প্রেমের জোরেই ওই দম্পতি একটাকে অনেক সহজ করে ফেলেছেন। শার্লটন তাঁর ব্লগে লিখেছেন, জেমস ও অ্যাশলে ১৬ মার্চ মাইনাস পাঁচ ডিগ্রি থেকে পাঁচ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রায় বিয়ের আংটি বদল করেছেন। তাঁদের পরনে ছিল ঐতিহ্যবাহী বিয়ের পোশাক। সেখানে নাগা নামের একজন গাইড শেরপা ছিলেন। যেহেতু বিয়ের গাউন ও স্যুট পরা ছিলেন, তাই বর-কনেকে স্যুপ, গরম তরল থাইয়ে তাঁদের শরীরের তাপমাত্রা ঠিক রাখতে হয়েছিল। আংটি বদল শেষে তাঁরা ১৮ হাজার ৫১৪ ফুট উঁচুতে কালা পাথরে উঠেছিলেন। এর এক সপ্তাহ আগে সেখানে অস্ট্রেলিয়ার একজন নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে সেখানে সবাই প্রায় অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। এ কারণে তাঁরা সিদ্ধান্ত নেন, সকাল হলেই হেলিকপ্টারে করে নিচে নেমে যাবেন।

শার্লটন বলেন, ‘বেসক্যাম্পে আমরা দুই রাত অবস্থান করেছিলাম। এ সময় আংটি পরানো ও বিয়ের অসংখ্য ছবি তোলা হয়েছে। এরপর দ্রুত আমাদের হেলিকপ্টারে করে নেমে যেতে হয়েছে। এ ঘটনা আসলে তাঁরা গোপনে ঘটিয়েছেন। পরে বাড়ি ফিরে জেমস ও অ্যাশলে দম্পতি আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ের কাগজপত্রে সই করেছেন। কিন্তু প্রতিশ্রুতির কাজটা তাঁরা এভারেস্টেই সেরে এসেছিলেন।’