ঢাকা, শুক্রবার   ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯,   ফাল্গুন ১০ ১৪২৫,   ১৬ জমাদিউস সানি ১৪৪০

টমেটো গ্রাম

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

 প্রকাশিত: ১৫:২১ ৯ অক্টোবর ২০১৮   আপডেট: ১৫:২১ ৯ অক্টোবর ২০১৮

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ঝিনাইদহ কালীগঞ্জের কুল্লাপাড়া গ্রামের কৃষকেরা কয়েক বছর ধরে টমেটো চাষে ঝুঁকছেন। এ টমেটো চাষে লাভও বেশি, ফলনও ভালো।শীতের সবজি টমেটো গ্রীষ্মে পাওয়া যায় বলে চাহিদার সঙ্গে বেড়েছে দাম। দিন দিন এ চাষ বৃদ্ধি পাওয়ায় এরইমধ্যে কুল্লাপাড়া পরিচিতে পেয়েছে টমেটো গ্রামে।এবারও কৃষকেরা ২০ বিঘা জমিতে বারি-৪ জাতের টমেটো চাষ করেছেন।

চারাগুলো মাটি দিয়ে উচু করা বেডে সারিবদ্ধভাবে লাগানো হয়েছে।জলাবদ্ধতা থেকে বাঁচাতে চারার উপর দেয়া হয়েছে মোটা পলিথিনের ছাউনি। প্রতিটি বেড ও ক্ষেতের চারপাশ দিয়ে করা হয়েছে পানি নিষ্কাষণের নালা। যা বৃষ্টি শুরু হলে পানি তাড়াতাড়ি নিষ্কাষণ হতে সাহায্য করবে। যে কারনে বর্ষা মৌসুম হলেও মাটি দিয়ে উচু বেড করে লাগানো টমেটো গাছের গোড়া ও এর আশপাশ রয়েছে শীত মৌসুমের মত শুকনো। ফলে বর্ষার কারনে টমেটোর গাছগুলো ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে না। 

একাধিক কৃষক জানান, ১৫ বছর আগে তাদের গ্রামের কৃষক পরিতোষ বিশ্বাস প্রথম শুরু করেন এ অসময়ে টমেটো চাষ। পরে অন্য কৃষকেরাও পর্যায়ক্রমে ঝুঁকছেন গ্রীষ্মের টমোটো চাষে। এ বছর তাদের গ্রামের কৃষক আজাদ রহমান ৮ কাঠা, শাহিন হোসেন ৮ কাঠা, গোবিন্দ বিশ্বাস ১০ কাঠা, উসমান আলী ১০ কাঠা, গৌতম বিশ্বাস ১২ কাঠা, নিখিল বিশ্বাস ১ বিঘা, হরিপদ বিশ্বাস ১০ কাঠা, দিলীপ বিশ্বাস ৫ কাঠা, মশিয়ার রহমান ১২ কাঠা, আবু সিদ্দিক ৫ কাঠা, অনিল বিশ্বাস ১২ কাঠা,আসুতোষ বিশ্বাস ৫ কাঠা, আব্দুল মজিদ ১০ কাঠা, মিজানুর রহমান ১০ কাঠা, নিতাই বিশ্বাস ৭ কাঠা, আব্দুর রহমান ৮ কাঠাসহ  প্রায় ২০ বিঘা জমিতে এ জাতের টমেটোর চাষ করা হয়েছে। 

পরিতোষ বিশ্বাস জানান,২০০৩ সালে যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার দাইতপুর গ্রামের নূর মোহম্মদ মোল্লার কাছ থেকে এই বারি-৪ জাতের টমেটো চারা সংগ্রহ করেছিলেন। তাদের মুখ থেকে লাভের গল্প শুনে সেখান থেকে চারা এনে ১০ কাঠা জমিতে চাষ শুরু করেন। প্রথম বছর লাভও হয় বেশ। পরবর্তীতে তার গ্রামের অন্য কৃষকেরাও পর্যায়ক্রমে এ চাষ শুরু করেন। চলতি বছরে এ পর্যন্ত ৪৮ হাজার টাকার মত টমেটো বিক্রি করেছেন। এ বছর ক্ষেতে টমেটোও ধরেছে ভাল। আশা করছেন যাবতীয় খরচ বাদে দেড় লক্ষাধিক টাকার টমেটো বিক্রি করতে পারবেন। 

২০০৯ সালে যশোর কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে গ্রীষ্মের টমেটোর ক্ষেত দেখে এ চাষে আগ্রহী হন চাষী আমানতউল্লাহ। কৃষি গবেষক ডঃ আব্দুল হাকিমের নিকট থেকে সে সময়ে এর চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেন। ওই বছরেই বাড়িতে বীজতলায় চারা দিয়ে শুরু করেন টমেটো চাষ। এ বছর মাত্র সাত কাঠা জমিতে রোপন করে যাবতীয় খরচ বাদ দিয়ে প্রায় লক্ষাধিক টাকা লাভ করেন। 

কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল করিম জানান, বারি-৪ জাতের টমেটো সারা বছরই চাষ করা যায়। উপজেলার কুল্লাপাড়া গ্রামের কৃষকেরা বেশ কয়েক বছর ধরে এ সবজির চাষ করে লাভবান হচ্ছেন। কৃষি বিভাগের উপরি কর্মকর্তারা একাধিকবার মাঠ পরিদর্শনে এসেছেন। এক কথায় কৃষি বিভাগ উপজেলার অন্য গ্রামের কৃষকদেরকেও গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষে কৃষকদেরকে প্রশিক্ষণ দেয়া ছাড়াও এ চাষে নানাভাবে উদ্বুদ্ধ করে চলেছেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম