Alexa বিষাক্ত প্রাকৃতিক পদার্থ

ঢাকা, শুক্রবার   ১৮ অক্টোবর ২০১৯,   কার্তিক ২ ১৪২৬,   ১৮ সফর ১৪৪১

Akash

বিষাক্ত প্রাকৃতিক পদার্থ

 প্রকাশিত: ১৪:৪৩ ৯ নভেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১৪:৪৩ ৯ নভেম্বর ২০১৮

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

চলতি বছরের মে মাসে ক্যালিফোর্নিয়ায় এক ব্যক্তির অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়। লোকটি কিছু নাচোস আর চিজ সস নিয়ে মুভি দেখতে বসেছিলেন। কিন্তু খানিক বাদেই পেটের পীড়া অনুভব করেন এবং শেষমেষ হাসপাতালে ভর্তি হন। বেশ কয়েকদিন অসম্ভব ব্যাথা আর যন্ত্রণায় ভুগে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। তার এ অসুখের কারণ ছিলো তিনি যে পনির খেয়েছিলেন তা অনেক আগেই বটুলিনাম ব্যাক্টেরিয়ার আক্রমণে বিষাক্ত হয়ে গিয়েছিলো। কৌটজাত খাদ্যকে ক্লস্ট্রিডিয়াম বটুলিনাম নামক ব্যাক্টেরিয়া তাদের দেহ থেকে নিঃসৃত টক্সিন দিয়ে বিষাক্ত করে ফেলতে ওস্তাদ। জীবন হরণকারী বিষাক্ত প্রাকৃতিক বহু উপাদানের মধ্যে ক্লস্ট্রিডিয়াম বটুলিনাম অন্যতম। দুই পর্বের আলোচনায় আজ প্রথম পর্বে জানো হলো চারপাশে অবস্থান করা সবচেয়ে বিষাক্ত ১০ টি প্রাকৃতিক উপাদান সম্পর্কে-

 

১০. লেড বা সীসা

লেড সবচেয়ে মারাত্মক বস্তু, একথা বলা তেমন সঙ্গত নয়, তবে লেডে পয়জনিংয়ের দেখা মেলে অহরহ। বিশেষজ্ঞরা বলেন, এই লেড পয়জনিং এর কারণেই মৃত্যু হয়েছিলো বিখ্যাত জার্মান সঙ্গীতজ্ঞ বেথহোফেনের। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেবে, লেড পেইন্ট সীসা মিশ্রিত রঙ ব্যবহারের ফলে প্রতি বছর প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ মারা যায়! বাচ্চাদের খেলনায় অতি সামান্য মাত্রায় লেড পেইন্ট ব্যবহৃত হলেও তা শিশুর মস্তিষ্কের স্থায়ী ক্ষতিসাধন করতে পারে। দেহে উচ্চমাত্রায় সীসার প্রবেশ ঘটলে তা আমাদের কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে আক্রান্ত করে; যার ফলে কোমা ও মৃত্যু পর্যন্ত হয়।

৯. টেট্রোডোটক্সিন

ফুগু নামক একধরণের পটকা মাছ জাপানে ডিনারের একটি প্রধান মেন্যু হিসেবে খুবই সমাদৃত। তবে ভয়ানক ব্যাপার হলো এই মাছে থাকে টেট্রোডোটক্সিন নামক একধরণের বিষাক্ত নিউরোটক্সিন। এ কারণে শুধুমাত্র অনুমোদনপ্রাপ্ত শেফরাই এ মাছ রাঁধতে পারেন। যদি ভুলক্রমে অল্প পরিমাণেও টেট্রোডোটক্সিন মানুষের দেহে প্রবেশ করে তবে হতে পারে শ্বাস তন্ত্রের সমস্যা, বরণ করতে হতে পারে পঙ্গুত্ব, গ্রাস করতে পারে মৃত্যু। জাপানে গত কয়েক বছরে নিজ উদ্যোগে এই মাছ রান্না করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন বেশ কয়েকজন। কারণ এর বিষাক্ত অংশ অপসারণের উপায় শুধুমাত্র প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শেফদেরই জানা রয়েছে।

৮. আর্সেনিক

আর্সেনিক গ্রহণের ফল কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ পায় না। নলকূপের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানি থেকে আর্সেনিক উঠে আসা একটি সাধারন ব্যাপার। এসব নলকূপের পানি পান করে বহু মানুষ আর্সেনিকোসিসে আক্রান্ত হয়। ভিক্টোরিয়ান যুগের নারীরা মেকআপ হিসেবে এক বিশেষ ধরণের মিশ্রণ ব্যবহার করতেন তারা জানতেনও না যে এতে আর্সেনিকের মতো ভয়াবহ বিষ রয়েছে! দীর্ঘকাল ধরে আর্সেনিকযুক্ত পানি পানের ফলে ক্যান্সার অনিবার্য। তবে এর কুখ্যাতি অন্য এক জায়গায়। সামান্য পরিমাণ আর্সেনিকের গুঁড়ো পানীয়ের সঙ্গে মিশিয়ে দিলে মৃত্যু অবধারিত। খালি চোখে দেখে বোঝার উপায়ও নেই। এজন্যই ১৯ শতকে লন্ডনের ভাড়াটে খুনীদের মধ্যে আর্সেনিক ছিলো বেশ জনপ্রিয়।

৭. স্ট্রিকনাইন

নাক্স-ভোমিকা নামক এক ধরনের গাছ হচ্ছে স্ট্রিকনোস বিষের প্রধান উৎস। সেখান থেকেই এটি কোকেন, কীটনাশক এমনকি দূষিত খাদ্য ও পানীয়ের মধ্যে।মিশে যেতে পারে। স্ট্রিকনাইন দেহে প্রবেশের পর ১৫ থেকে ৬০ মিনিটের মধ্যেই লক্ষণ প্রকাশ পেতে শুরু করে। অস্থিরতা শুরু হয়, মাংসপেশিতে ব্যাথা অনুভূত হয়, খিঁচুনি দেখা দেয়, অতিরিক্ত পরিমাণে গ্রহণ করলে শ্বসনতন্ত্র কাজ করা বন্ধ করে দেয়, মস্তিষ্ক অচল হতে থাকে।

৬. সায়ানাইড

বিজ্ঞানীরা বলে থাকেন সায়ানাইড ও স্ট্রিকনাইনের বিষাক্ততা কাছাকাছি পর্যায়ের। তবে সায়ানাইডের কুখ্যাতি স্ট্রিকনাইনের তুলনায় বহুগুণ। উদ্ভিদ, ব্যাক্টেরিয়া, ছত্রাক এমনকি কোনো কোনো ফলের বীজে পর্যন্ত সায়ানাইডের অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছে। এমনকি আপেলের বীজেও সায়ানাইড রয়েছে। তবে আপেলের বীজে থাকা সায়ানাইডে মৃত্যু ঘটবে তখনই যখন কেউ কমপক্ষে ১৫০ টি আপেলের বীজ একসঙ্গে চিবুতে থাকবে, তবে দয়া করে নিজে এর পরীক্ষা করতে যাবেন না; এটি একটি প্রমাণিত সত্য। সায়ানাইড সেবনে নিদ্রাহীনতা দেখা দেয়, হার্ট অ্যাটাক হয় এবং সর্বোচ্চ পরিণতি হলো মৃত্যু।

সায়ানাইড সেবনে দ্রুত সময়ে অর্থ্যাৎ মাত্র কয়েক সেকেন্ডেই সব শেষ। ২০১২ তে একজন মিলিয়নিয়ার ওয়াল স্ট্রিট ব্যাংকার আদালতে বসে একটি সায়ানাইড পিল খেয়ে আত্মহত্যা করেন। তার মৃত্যু হতে সময় লাগে মাত্র ৩৭ সেকেন্ড।

আজ এ পর্যন্ত, প্রথম পাঁচটি ভয়াবহতম বিষ নিয়ে কথা হবে দ্বিতীয় পর্বে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস