ঢাকা, শনিবার   ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯,   ফাল্গুন ১০ ১৪২৫,   ১৭ জমাদিউস সানি ১৪৪০

সততার শিক্ষায় বেড়ে উঠছে শিক্ষার্থীরা

নোয়াখালী প্রতিনিধি

 প্রকাশিত: ১৬:৪৪ ১১ অক্টোবর ২০১৮   আপডেট: ১৬:৪৭ ১১ অক্টোবর ২০১৮

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

নোয়াখালী সদর উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে সততার শিক্ষা নিয়ে বেড়ে উঠছে শিক্ষার্থীরা। উপজেলার ১৯৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গড়ে তোলা হয়েছে সততার দোকান। যা শিক্ষার্থীদের মাঝে ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে এসেছে।

বিদ্যালয়ে একটি কক্ষে স্থাপিত এই সততার দোকানে কোনো বিক্রেতা নেই। এই দোকানে খাতা, কলম,  পেন্সিল, রবার, শার্পনার, জ্যামিতি বক্স, পেন্সিল বক্সসহ অন্যান্য শিক্ষা সামগ্রী সংরক্ষিত থাকে। এছাড়া বিস্কুট, কেক, পাউরুটি, ক্যান্ডি জুসসহ বিভিন্ন খাবার সামগ্রীও পাওয়া যায় ওইখানে। এসব সামগ্রীর প্রতিটিতেই মূল্য তালিকা ঝুলানো থাকে। শিক্ষার্থীরা যে সামগ্রী কিনতে ইচ্ছুক সে সামগ্রী নিয়ে দোকানে রাখা নির্দিষ্ট স্বচ্ছ বাক্সে নিজেদের উদ্যোগে টাকা রাখে। বিক্রেতা বিহীন এই দোকানের বিক্রেতা হলো বিবেক, সততা, চরিত্র, মনুষ্যত্ব ও নৈতিকতা। 

শিশুদের মানবিক, নান্দনিক, মানসিক তথা সার্বিক বিকাশ সাধনে বিদ্যালয় সর্বদা অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। শিক্ষার প্রাথমিক স্তরে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নৈতিকাতা শিক্ষা দেয়ার একটি সহজ ও সুন্দর উপায় হলো এই সততার দোকান। বর্তমানে উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্থাপিত এই সততার দোকান প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা পরস্পরে সৎ হওয়ার প্রতিযোগিতা করছে।

সততার দোকান থেকে শিক্ষার্থীরা পণ্য কেনার পাশাপাশি তাদের দিতে হচ্ছে সততা ও বিবেকের পরীক্ষা। মূল্য পরিশোধ না করেই শিক্ষার্থীরা এখান থেকে পণ্য নিয়ে যেতে পারে, কিন্তু সেটা তারা করছে না।  কারণ এটি একটি সততা চর্চার প্লাটফর্ম। সৎভাবে চলার একটি অনুশীলন কেন্দ্র। নতুন প্রজন্মকে সু-নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার এটি একটি মহৎ উদ্যেগ।  

নিষ্পাপ কোমলমতি শিশুদের পরিপূর্ণ বিকাশে ইউএনও মো. আরিফুল ইসলাম সরদার এ উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।  তার আন্তরিক প্রচেষ্টায় বর্তমানে উপজেলার সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই সততার দোকান প্রতিষ্ঠিত।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চরউরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দোকনদার বিহীন সততার দোকান থেকে শিক্ষার্থীরা শিক্ষা সামগ্রী নিয়ে নিজ দায়িত্বে নগদ টাকা রেখে যাচ্ছে। বুধবার ওই বিদ্যালয়ের সততার দোকানে গিয়ে দেখা মিলল পঞ্চম শ্রেণি ছাত্র সাইফুল ইসলামের সঙ্গে। সেই ওই দোকান থেকে একটি কলম কিনলো। কলমের মূল্যে পরিশোধ করেছো কিনা? এমন প্রশ্নে সাইফুল বললো- টাকা না দিয়ে পণ্য ক্রয় করা অন্যায়। সৎ মানুষ কখনো অন্যায় করতে পারে না। তাই কলম কিনে বক্সে টাকা জমা করে দিয়েছি।

চরউরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সালমা ইমাম বলেন, ইউএনও স্যারের নির্দেশনায় সততার দোকান গড়ে তুলেছি। শিক্ষার্থীরা নিয়মিত এই দোকান থেকে পণ্য কিনে বক্সে টাকা রেখে যায়। এটি সৎ মানুষ গড়ে তোলার উত্তম উপায় বলে মনে করেন এই শিক্ষক।

সদরের শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন শেখ বলেন, সততার মধ্য দিয়ে সভ্য সমাজ সৃষ্টির জন্য একটি ভাল উদ্যোগ হলো সততার দোকান। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সু-নাগরিক হিসেব গড়ে তোলা সম্ভব। এই মহৎ উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুল ইসলাম সরদারকে ধন্যবাদ জানান।

ইউএনও মো. আরিফুল ইসলাম সরদার বলেন, শিশুদের এই ‘‘সততার দোকান’’ থেকে সততার আলো অচিরেই ছড়িয়ে যাবে সমাজের সর্বস্তরে। এই সততার আলোয় আলোকিত হবে আমাদের সমাজ এবং দেশ। এগিয়ে যাবে আমাদের আগামী প্রজন্ম, এগিয়ে যাবে আমাদের সোনার বাংলা। তাই “সততার দোকান” কার্যক্রম ধরে রাখতে তিনি উপজেলার সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আহব্বান জানান।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিপি/জেডএম