বিশ্বের ৫৬ টি দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ ফাঁসি দেয়া হয় চীনে

ঢাকা, সোমবার   ৩০ মার্চ ২০২০,   চৈত্র ১৬ ১৪২৬,   ০৫ শা'বান ১৪৪১

Akash

বিশ্বের ৫৬ টি দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ ফাঁসি দেয়া হয় চীনে

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১১:৩৬ ২০ মার্চ ২০২০   আপডেট: ১৫:০৯ ২০ মার্চ ২০২০

ছবি: প্রতীকী

ছবি: প্রতীকী

মানুষ সামাজিক জীব। তাই সমাজে বসবাসরত সবাইকেই সামাজিক নিয়ম কানুন তো মেনে চলতেই হবে! সমাজের নিয়ম কানুন তৈরি করা হয় মূলত সেখানে বসবাসরত সব মানুষের কল্যাণের জন্যিই। আর তাই সেসব নিয়ম ভাঙার সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। 

জানেন কি একেক দেশে এই মৃত্যুদণ্ড দেয়ার হরেক পদ্ধতি রয়েছে? শূলে চড়ানো, গিলোটিনে গর্দান নেয়া থেকে শুধু করে ইলেকট্রিক চেয়ার বা ফাঁসি। সময় আর দেশ ভেদে পদ্ধতি বদলে গিয়েছে বা যায়। তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে, বিশ্বের অধিকাংশ দেশই প্রাণদণ্ডের সাজার বিলুপ্তি ঘটিয়েছে।

২০১৮ সালের এপ্রিলে দেয়া অ্যামনেস্টির তথ্য বলছে, এই মুহূর্তে বিশ্বের ১০৬টি (অর্ধেকের বেশি) দেশে মৃত্যুদণ্ড আইনত বন্ধ। আরো ৩৬টি দেশে মত্যুদণ্ড আইনত থাকলেও, তা কার্যকরী হয় না। অর্থাৎ, ১৪২টি (বিশ্বের দুই তৃতীয়াংশের বেশি) দেশে মৃত্যুদণ্ড আইনত বা কার্যত নেই।

বিশ্বে ৫৬টি দেশে কম-বেশি মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। সবচেয়ে বেশি মৃত্যুদণ্ড হয় চীনে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রথম বিশ্বের একমাত্র দেশ যেখানে এখনো মৃত্যুদণ্ডের অস্তিত্ব রয়েছে। তবে, সব প্রদেশে নয়। ২০১৮ সালে ২৫ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে আমেরিকায়। অন্যদিকে, ১৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে টেক্সাসে।

অ্যামেনস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য বলছে, ২০১৮ সালে বিশ্বের ৫৪টি দেশে দুই হাজার ৫৩১ জনকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা শোনানো হয়েছে। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, এই মুহূর্তে সারা বিশ্বে কমপক্ষে ১৯ হাজার ৩৩৬ জন মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার প্রহর গুণছে। তবে ২০১৭ সালের তুলনায় ২০১৮ সালে বিশ্বে প্রাণদণ্ড কার্যকর করার সংখ্যা কমেছে ৩১ শতাংশ।

অ্যামনেস্টির রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১৮ সালে অন্তত এক হাজার জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে চীনে। যদিও চীন সরকারিভাবে মৃত্যুদণ্ড নিয়ে কোনো তথ্যই প্রকাশ্যে আনে না। চীন বাদে ২০১৮ সালে বিশ্বে জুড়ে ৬৯০ জনের প্রাণদণ্ড কার্যকর হয়েছে। এর বেশিরভাগই (৭৮ শতাংশ) এশিয়ার চার দেশে- ইরান, সৌদি আরব, ভিয়েতনাম এবং ইরাক। ইরান এবং সৌদি আরবে প্রতিবছর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার সংখ্যাটা বেশ বড়, বছরে ১৫০ থেকে ২৫০। উত্তর এবং দক্ষিণ কোরিয়াতে গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে দেয়া হয় মৃত্যুদণ্ড।

ভারতে গুরুতর কোনো অপরাধ প্রমাণিত হলে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। ভারতে এর আগে সর্বশেষ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছিল ২০১৫ সালে। ১৯৯৩-এর মুম্বাই বিস্ফোরণে দোষী সাব্যস্ত ইয়াকুব মেমনকে দেয়া হয়েছিল ফাঁসি। এই দেশগুলোর বাইরে এশিয়ায় এখনো মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয় জাপান, তাইওয়ান, সিঙ্গাপুর, মালয়শিয়া, ইন্দোনেশিয়া, কুয়েত, বাহরিন, ওমান এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে। ইউরোপের তিনটি দেশ ছাড়া আর কোথাও মৃত্যুদণ্ড নেই। 

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)-এ অন্তর্ভুক্তির অন্যতম শর্তই হল, সদস্য দেশ হলে মৃত্যুদণ্ড দেয়া যাবে না। ইইউতে অন্তর্ভুক্তির জন্য ২০১২ সালে লাতভিয়া এই সাজার অবলুপ্তি ঘটায়। ইউরোপে এখন শুধুমাত্র বেলারুশ, ডনেস্ক পিপলস রিপাবলিক এবং লুহানস্ক পিপলস রিপাবলিকে প্রাণদণ্ড দেয়া হয়। রাশিয়াতে খাতা কলমে এখনো মৃত্যুদণ্ড আছে। তবে শেষ ১৯৯৯ সালে সে দেশে প্রাণদণ্ড দেয়া হয়। কাজাখস্তান এবং তাজিকিস্তানে ব্যতিক্রমী অপরাধে এই সাজা দেয়া হয়।

আফ্রিকায় বত্সওয়ানা, মিশর, লিবিয়া, সোমালিয়া, দক্ষিণ সুদান, সুদান এবং নাইজিরিয়াতে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। শাদ ২০১৪ সালে মৃত্যুদণ্ড তুলে দিলেও, পরের বছর ১০ জঙ্গিকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দেয়। উত্তর আমেরিকায় শুধুমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই এই সাজার বলবৎ রয়েছে। তবে গোটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নয়, সে দেশের ৫০টি প্রদেশের ২৯টিতে এই সাজার অস্তিত্ব রয়েছে।

মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকায় বেলিজ এবং গায়ানাতে রয়েছে মৃত্যুদণ্ড। ব্রাজিল, চিলি, এল সালভাদোর, গুয়াতেমালা এবং পেরুতে ব্যতিক্রমী এবং বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে এই সাজা দেয়া হয়। সমুদ্রে ঘেরা ক্রান্তীয় অঞ্চল ওশিয়ানিয়ায় পাপুয়া নিউ গিনি এবং টঙ্গাতে এখনো খাতা কলমে প্রাণদণ্ডের আইন রয়েছে। তবে শেষ ৩ দশকে এই দুই দেশে কোনো চরম শাস্তি কার্যকর হয়নি।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস