.ঢাকা, বুধবার   ২৪ এপ্রিল ২০১৯,   বৈশাখ ১১ ১৪২৬,   ১৮ শা'বান ১৪৪০

বিশ্বের সবচেয়ে ‘ব্যয়বহুল’ ডিভোর্স!

রাজ চৌধুরী

 প্রকাশিত: ১২:২১ ২০ জানুয়ারি ২০১৯   আপডেট: ১৫:৫৫ ৩১ জানুয়ারি ২০১৯

জেফ বেজোস ও তার স্ত্রী ম্যাকেঞ্জি। ছবি: সংগৃহীত

জেফ বেজোস ও তার স্ত্রী ম্যাকেঞ্জি। ছবি: সংগৃহীত

অ্যামাজন ডট কমের সিইও ৫৪ বছর বয়সী জেফ বেজোস গত বুধবারে তার স্ত্রী ম্যাকেঞ্জির সাথে বিবাহ বিচ্ছেদ করেন। তারা ২৫ বছর বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ ছিলেন। এই বিবাহ বিচ্ছেদ হতে পারে পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল বিবাহ বিচ্ছেদ। তবে অনেকেই ভাবতে পারেন বিবাহ বিচ্ছেদ আবার কিভাবে ব্যয়বহুল হতে পারে। হ্যাঁ, বিবাহ বিচ্ছেদেও অনেক সম্পদের খরচ হতে পারে।

পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিত্ব জেফ বেজোস টুইটারে জানান, তার ও তার স্ত্রীর মধ্যকার বিবাহ বিচ্ছেদের এই ঘটনা। এক টুইটে তিনি জানান, আমরা দুজনেই একে অন্যকে পেয়ে খুব সৌভাগ্যবান মনে করি নিজেদেরকে। আমাদের ২৫ বছরের বিবাহ জীবনের প্রতিটি বছরই ছিল অসাধারণ। আমরা যদি জানতাম যে, আমরা ২৫ বছর পর আলাদা হয়ে যাবো, তারপরও আমি তাকেই বিয়ে করি।

জেফ বেজোস-এর বর্তমান সম্পদের পরিমাণ ১৩৭ বিলিয়ন ডলার। জেফ বেজোস ওয়াশিংটনে বাস করেন আর ওয়াশিংটন হচ্ছে একটি কমিউনিটি প্রোপার্টি স্টেট। এই কমিউনিটি প্রোপার্টি স্টেটে বৈবাহিক সকল সম্পত্তি এমনকি ঋণ স্বামী-স্ত্রী দুজনের মাঝে সমানভাবে বণ্টিত হবে। যদি না আগে থেকেই স্বামী স্ত্রী নিজেদের মধ্যে কোনো সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করে যে তাদেরকেও সম্পত্তির বণ্টন চায়না। এছাড়াও বিবাহের পূর্বেই স্বামী স্ত্রী একে অন্যের সাথে বিভিন্ন চুক্তি করে নিতে পারে। এগুলো চুক্তিকে বলা হয় প্রিনাপ। তাই যদি বেজোস ও তার স্ত্রীর মাঝে এমন কোনো প্রিনাপ না থেকে থাকে তাহলে ম্যাকেঞ্জি তার ডিভোর্সি স্বামীর সম্পদের অর্ধেক অর্থাৎ ১৩৭ বিলিয়ন ডলারের অর্ধেক সম্পদ পাবেন।

তাহলে বেজোসের এই ডিভোর্স সবচেয়ে ব্যয়বহুল ডিভোর্স লিস্টের কোথায় থাকবে? রাশিয়ান বিলিয়নিয়ার দিমিত্রি রাইবোলভলেভ তার স্ত্রীকে তালাক দেয়ার সময় আদালত নির্দেশ দিয়েছিল দিমিত্রি রাইবোলভলেভ তার সাবেক স্ত্রীকে যেনো সাড়ে চার বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দেয়। এই আদেশটি দিয়েছিল, সুইস কোর্ট। তবে এধরণের ঘটনা আরো আছে। নিউইয়র্কের জসলিন উইল্ডেন্সটাইন তার ফরাসি আর্ট ডিলার স্বামী এলেক উইল্ডেন্সটাইনকে তালাক দেন, তখন তিনি স্বামীর কাছ থেকে আড়াই মিলিয়ন ডলার পেয়েছিলেন।

মেল গিবসন ও রবিন মোরের বিবাহ বিচ্ছেদটি হলিউডের অন্যতম আলোচিত ঘটনা। তাদের বিবাহ বিচ্ছেদের পর রবিন তার স্বামী মেল গিবসনের সম্পদের অর্ধেক পান। তখন মেল গিবসনের সম্পদের মূল্য ছিলো প্রায় ৮৫০ মিলিয়ন ডলার। রবিনের ঠিক অর্ধেক অর্থাৎ ৪২৫ মিলিয়ন পান। সাবেক বাস্কেটবল খেলোয়াড় মাইকেল জর্ডান ২০০৬ সালে তার সাবেক স্ত্রী জুয়ানিতা জর্ডানকে তালাক দেন। এই জুটি ১৭ বছর বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ ছিল। এক্ষেত্রে জর্ডানের ক্ষতির মূল্য দাঁড়ায় ১৬৮ মিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে ১৯৯৪ সালে সঙ্গীতশিল্পী নেইল ডায়মন্ড তার স্ত্রী মার্সিয়া মারফিকে তালাক দেয়ার সময় তার সম্পত্তি থেকে ১৫০ মিলিয়ন ডলার তার স্ত্রীকে দিতে হয়েছিলো বলে ফোর্বস মেগাজিনের এক তথ্যে জানা যায়।

২০০৮ সালে ম্যাডোনা তার স্বামী গাই রিচিকে তালাক দেন। এজন্য ম্যাডনা ৭৬ মিলিয়ন থেকে ৯২ মিলিয়ন ডলারের মাঝামাঝি কোনো পরিমাণ অর্থ ক্ষতিপূরণ দেন।
আরেক হাই প্রোফাইল তারকা হ্যারিসন ফোর্ডের সাথে তার সাবেক স্ত্রী ম্যালিসা ম্যাথিসনের বিবাহ বিচ্ছেদ হয় ২০০৪ সালে। সেসময় ফোর্ডের খরচ পোহাতে হয়েছিল ৮৫ মিলিয়ন ডলার।

ফোর্বস ম্যাগাজিন প্রতিবছর ধনী ব্যক্তির তালিকা তথা অ্যানুয়াল র‍্যাংকিং অব বিলিয়নিয়ার্স প্রকাশ করে থাকে। জেফ বেজোসই এক মাত্র ব্যক্তি যার সম্পদের পরিমাণ ১২ ডিজিট সংখ্যায়। প্রযুক্তি জগতের এই মহা তারকা ১৯৯৪ সালে প্রযুক্তি জগতের অন্যতম পরিচিত নাম আমাজন কোম্পানিটি প্রতিষ্ঠা করেন। ফোর্বস ম্যাগাজিনের মতে, ২০১৭ সাল নাগাদ আমেরিকার প্রায় ৬৪ শতাংশ ঘরেই আমাজন প্রাইমের সাবস্ক্রাইবার রয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে