বিশ্বের যত বড় বড় অপরাধী চক্র ও তাদের আকাশ ছোঁয়া সম্পদ

ঢাকা, রোববার   ১২ জুলাই ২০২০,   আষাঢ় ২৮ ১৪২৭,   ২০ জ্বিলকদ ১৪৪১

Beximco LPG Gas

বিশ্বের যত বড় বড় অপরাধী চক্র ও তাদের আকাশ ছোঁয়া সম্পদ

 প্রকাশিত: ১৬:০১ ৮ এপ্রিল ২০১৮   আপডেট: ১৬:১৫ ৮ এপ্রিল ২০১৮

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

অপরাধি, অপরাধ ও অপরাধ চক্র- তাদের সম্পর্কে কত ঘটন অঘটনই না আমরা প্রতিদিন পত্র পত্রিকা ও মিডিয়াতে দেখতে পাই।

কত চলচ্চিত্র, ডকুমেন্টারি বা বই রচিত হয়েছে তাদের কে নিয়ে।

কখনো বা তাদের কে নিয়ে ঘটা রোমহর্ষক ঘটনা কিংবদন্তিকেও হার মানিয়েছে। কিন্তু সত্যি কতটা দৃশ্যমান তাদের অবস্থান?

কেনই বা পুরো বিশ্ব থমকে যায় সিন্ডিকেটেড ক্রাইম বা অর্গানাইজড ক্রিমিনাল দলগুলোর নাম শুনে! কেনই বা তাদের বলা হয় সরকারের ভেতর সরকার!

আসল ক্ষমতার রহস্য লুকিয়ে রয়েছে অর্থ, বিত্ত ও নাশকতায়। কেন বলছি সে কথা তা জানাতেই আমাদের আজকের এই আয়োজন।

সত্যি কথা বলতে, বিশ্বের বৃহত্তম সংগঠিত অপরাধ সংগঠনগুলো কিভাবে অর্থ উপার্জন করে তা জানতে গেলে হয়তো ইতিহাস বিষয়টিও আপনার কাছে ক্ষুদ্র মনে হবে।

সাংগঠনিক অপরাধের আয় অনুমান করা খুব কঠিন, যেহেতু অপরাধীরা বেশিরভাগ সময় কি ধরনের ব্যবসায় জড়িত তা লুকানোর চেষ্টা করে।

এছাড়াও, সংগঠিত অপরাধ সংগঠনের অস্তিত্ব রয়েছে এই ধারণাটি অনেক সময় কেউ মেনে নিতে চায় না।

উন্নত দেশ জাপান যে ইয়াকুজার মত সিন্ডিকেটেড ক্রাইম অর্গানাইজেশনের কাছে এক প্রকার জিম্মি তা কে বিশ্বাস করবে? ইয়াকুজারে রয়েছে যে কোন কর্পোরেটের মত স্বতন্ত্র গঠনতন্ত্র।

চলুন জানি অর্থ, বিত্ত ও ক্ষমতার বলে শীর্ষ ৫টি অপরাধী চক্র সম্পর্কেঃ-

(১) সলতভেস্কায়া ব্রাতভা (রাশিয়ান মাফিয়া): সম্পদ: $ ৮.৫ বিলিয়ন

রাশিয়ান মাফিয়া সলতভেস্কায়া ব্রাতভা’র গঠন প্রনালী জাপানিজ মাফিয়া ইয়াকুজা থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। ইয়াকুজার
নেতৃত্বের ধরণ এক কেন্দ্রিক কিন্তু রাশিয়ান মাফিয়া হাজারো স্বতন্ত্র দল নিয়ে গঠিত বলে উল্লেখ করেন অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির অপরাধবিষয়ক প্রফেসর ফ্রেডেরিকো ভেরেসে।

সলতভেস্কায়া ব্রাতভা ১০টি স্বতন্ত্র স্বায়ত্তশাসিত "ব্রিগেড" নিয়ে গঠিত যারা স্বাধীনভাবে কাজ করে ও নিজস্ব নেতা দ্বারা পরিচালিত হয়। কখনো কখনো ছোট দল বড় দল দ্বারা শাসিত হয়।

যদিও দলগুলো নিজস্ব ধারায় অপরাধ করে আয় করে কিন্তু আয়কৃত অর্থের হিসেব, ভাগ বাটোয়ারা ও নিয়ন্ত্রন থাকে কাউন্সিলের হাতে।

১২ জন শীর্ষ নেতা কাউন্সিল পরিচালনা করে। কথিত রয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন অংশে তারা গোপনে নিয়মিত মিলিত হয়, তাদের এই সম্মেলন গুলো প্রায়ই কোনো না কোনো উৎসবের আড়ালে সাড়া হয়।

অনুমান করা হয় যে সংঘবদ্ধ এই অপরাধ চক্রের সদস্য সংখ্যা ৯০০০ এবং আয়ের প্রধান উৎস হচ্ছে ড্রাগ ব্যবসা এবং মানব পাচার।

রাশিয়ান সংগঠিত অপরাধ চক্রের বেশির ভাগ সদস্য হেরোইন ব্যবসা ও পাচারে জড়িত। যার মূল উৎস পপি, আফগানিস্তানে উৎপন্ন হয়।

বলা হয়ে থাকে সাড়া বিশ্বের মোট উৎপাদিত হেরোইনের ১২% শতাংশই রাশিয়ানরা গ্রহণ করে। অথচ আশ্চর্যজনক সত্য হচ্ছে বিশ্ব জনসংখ্যার মাত্র ০.৫% শতাংশ মানুষের বসবাস রাশিয়ায়।

(২) ইয়ামাগুচি গুমি ( ইয়াকুজা): সম্পদ: $ ৬.৬ বিলিয়ন

বিশ্বের বৃহত্তম গ্যাং হিসেবে এক কথায় চলে আসে ইয়ামাগুচি গুমির নাম। যাকে "ইয়াকুজা" বলেও অভিহিত করা হয়।

আসলে ইয়াকুজা কোনো একক দল নয় এটি একটি সু-বৃহৎ ক্রাইম সিন্ডিকেটেড যাকে সমষ্টিগতভাবে জাপানিজ "মাফিয়া" বলা যেতে পারে ।

প্রাক্তন জাতীয় পুলিশ প্রধান হিরোমিতসু সুগুনুমার বক্তব্য অনুসারে বিশ্বের অন্য যে কোনো দেশের ক্রাইম সিন্ডিকেটের চেয়েও বেশি অর্থ উপার্জন করে ইয়ামাগুচি গুমি শুধুমাত্র ড্রাগ ব্যবসা করে।

পরবর্তী আয়ের দুটি প্রধান উৎস হচ্ছে জুয়া এবং চাঁদাবাজি, এর পরেই উঠে আসে বিরোধ নিষ্পত্তি ও নিরাপত্তা দেয়ার নামে আদায়কৃত অর্থের উদাহরণ যা আয়ের চতুর্থ উৎস।

‘ইয়াকুজার’ জন্ম শত শত বছর আগে, এবং ‘অ্যান ইকোনোমিক হিস্টোরি অফ অর্গানাইজড ক্রাইম’ এর লেখক ডেনিস ম্যাকার্থির মতানুসারে ‘ইয়াকুজা’ বিশ্বের সবচেয়ে বড় ঐক্যবদ্ধ, এককেন্দ্রিক ক্রাইম সিন্ডিকেট যাদের নিজস্ব গঠন রীতি বর্তমান।

চীনের ট্রায়াড বা অন্যান্য পূর্ব এশিয়ার গ্যাংগুলিতে, যখন বেশিরভাগ সময় পারিবারিক সম্পর্কের ভিত্তিতে নেতৃত্ব ও সদস্য নির্ধারিত হয়, ইয়াকুজার নেতৃত্ব এক "বিস্তৃত শৃঙ্খলা বা হায়ারার্কি" দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।

নেতৃত্ব শুধুমাত্র পরিবার বা যোগ্যতার বলে নয় বরং সকল সদস্যের সমঝোতার ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়। এমন কি জাপান সরকারও বহুবার এই ঐক্য শৃঙ্খল ভাঙ্গার চেষ্টা করেও হার মেনেছে।

একদল উচ্ছেদ হয়েছে, এক নেতা নিহত হয়েছে তো পরক্ষণেই নতুন কারো আবির্ভাব ঘটেছে। এমনকি সাম্প্রতিক বছরগুলিতে জাপান সরকার ইয়াকুজাতে ফাটল ধরিয়েও কেন্দ্রীয় কাঠামোটিকে নিয়ন্ত্রন করতে পারেনি।

এই ঐক্যই ‘ইয়াকুজার’ বিপুল সম্পদের উৎস। কিন্তু প্রশ্ন রয়ে যায়, এই ঐক্য কি শুধু অন্ধ আনুগত্য না প্রচন্ড ভীতি।

(৩) ক্যামোরা (ইতালীয় মাফিয়া): আয়: $ ৪.৯ বিলিয়ন

পড়েছেন কি মারিও পুজোর-’ দ্য গডফাদার’- বইটি অথবা দেখেছেন কি চলচিত্রটি? বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন সংগঠন ইতালীয় মাফিয়া কে ঘিরে গড়ে উঠেছে এই গল্পের চিত্রায়ন, ধীরে ধীরে যে মহিরুহের বিস্তার ঘটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পর্যন্ত।
যাকে সত্য বলেই ধরে নেওয়া হয়।

কথিত আছে এই সুপ্রাচীন ক্রাইম অর্গানাইজেশন এর মাথারা যারা নিজেদের নিছক জলপাই তেলের ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিতে ভালোবাসে তাদের আততায়ীদের হাত থেকে বিশিষ্ট সাংবাদিক ও লেখক মারিও পুজো রক্ষা পেয়েছিলেন শুধুমাত্র ‘গডফাডার’ বইটি প্রকাশিত হয়ে যাওয়ার কারণে।

যদিও ইতালীয়-আমেরিকান মাফিয়া আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দ্বারা সাম্প্রতিক কয়েক দশক ধরে গুরুতরভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে, পুরানো দেশে ইতালীয় মাফিয়া এখনো পূর্বের মতই শক্তিশালী।

নাগরিক, সাংবাদিক ও সরকারি কর্মকর্তাদের হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রম ও বহু বছর ধরে লেগে থাকা ক্লান্তিহীন প্রচেষ্টার পরও ইতালির স্থানীয় সরকারগুলো বিভিন্ন মাফিয়া গোষ্ঠীর সাথে সংযুক্ত থাকে, পরোক্ষ ভাবে নিরাপত্তা দিয়ে থাকে এবং এই ব্যাপারে টু শব্দটি পর্যন্ত করে না।

কেউ বলে একে কৃতজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ আবার কেউ বলে এ সেই ঐতিহ্যবাহী ‘Omerta’- নীরব থাকা।

ইউনিভার্সিটি অব ক্যাটোলিকা ও জয়েন্ত রিসার্চ সেন্টার ইন ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ২০১৩ সালের এক গবেষণায় খুঁজে পায় যে যে মাফিয়া সংগঠনগুলো সেই বছরের নানা অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে ৩৩ বিলিয়ন ডলার আয় করে, যার বেশিরভাগই ইতালীয়। চারটি প্রধান মাফিয়া গ্যাং এর মধ্যে ভাগ করে নেওয়া হয়।

উল্লেখিত মাফিয়া সগঠনগুলোর মধ্যে ‘ক্যামোরা’ সবচেয়ে সফল।

যৌন শোষণ, আগ্নেয়াস্ত্র পাচার, ওষুধ, জাল, জুয়া খেলা , সুদ এবং চাঁদাবাজির সবকিছু মিলিয়ে তাদের আনুমানিক বার্ষিক আয় ৪.৯ বিলিয়ন ডলার।

ক্যামোরার অস্তিত্ব একটি দীর্ঘ সময়ের রক্তাত্ত ইতিহাসের ফসল। জন্মলগ্ন হতে এই সংঠনটি নেপলস ভিত্তিক। কথিত আছে উনিশ শতকের শেষের দিকে কতিপয় জেল থেকে বের হওয়া কয়েদিদের নিয়ে এর যাত্রা শুরু হয়েছিলো।

আঠারো দশকে ইতালির রক্তাক্ত রাজনৈতিক সংগ্রামের সময় গোষ্ঠীটি ইতালির দরিদ্রদের সুরক্ষা প্রদান করে এবং রাজনৈতিক বাহিনী হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

(৪) এন্ড্রাগেটা (ইতালীয় মাফিয়া): আয়: $ ৪.৫ বিলিয়ন

ইতালির ক্যালোব্রিয়া অঞ্চলে জন্ম নেওয়া দ্বিতীয় বৃহত্তম মাফিয়া সংগঠন ‘দ্য এন্ড্রাগেটা’। ক্যামোরার মতো একই অবৈধ কার্যকলাপে জড়িত থাকলেও, দক্ষিণ আমেরিকার কোকেন বিক্রেতাদের সাথে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য `এন্ড্রাগেটা-কে বিশেষ ভাবে বিশেষায়িত করা হয়।

এই মাফিয়া সংগঠনটি ট্র্যান্স আটলান্টিক ড্রাগ মার্কেটের বেশিরভাগ নিয়ন্ত্রণ করে এবং ইউরোপে ড্রাগের চালান অব্যাহত রাখে।

সংগঠনটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও তাদের অপারেশন বিস্তৃত করেছে এবং নিউ ইয়র্কে গ্যাম্বিনি এবং বোনানো গোষ্ঠীর পরিবারকে ক্রাইম সিন্ডিকেট প্রতিষ্ঠায় সাহায্য করেছে।

২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে, ইতালীয় ও আমেরিকান যৌথ পুলিশ বাহিনী এন্ড্রাগেটা ও গ্যাম্বিনো পরিবারের কয়েক ডজন সদস্য কে গ্রেফতার করে এবং ট্রান্সআটলান্টিক ড্রাগ ব্যবসা সংক্রান্ত অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত করে।

(৫) সিনিলোও কার্টেল ( মেক্সিকান মাফিয়া): আয় $ ৩ বিলিয়ন

সিনিলোও কার্টেল মেক্সিকো’র সবচেয়ে বড় ড্রাগ কার্টেল, মেক্সিকান জনগোষ্ঠীকে যারা ভীত-সন্ত্রস্ত করে তুলেছে নিজেদের অপরাধমূলক কাজের মধ্য দিয়ে।

এই সংগঠনটি দক্ষিণ আমেরিকার অবৈধ ড্রাগ উৎপাদনকারী এবং আমেরিকান ড্রাগ মার্কেটে যেই ক্রাইম সিণ্ডিকেটগুলো ড্রাগ বিজনেস করে তাদের মাঝে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করে।

হোয়াইট হাউস অফ দ্য ড্রাগ কন্ট্রোল পলিসি হিসেব করে জানতে পারে আমেরিকানরা প্রতি বছর ১০০ মিলিয়ন ডলার অবৈধ ড্রাগ কিনতে ব্যয় করে এবং র‌্যান্ড কর্পোরেশন বলে যে, প্রায় ৬.৫ বিলিয়ন ডলার মেক্সিকান কার্টেলগুলোর হাতে ‘মধ্যস্থতাকারি ফি’ হিসেবে পৌঁছায়।

আনুমানিক ৬০% ড্রাগ মার্কেটের শেয়ার পেয়ে, সিনিলোও কার্টেল প্রায় $৩ বিলিয়ন ডলার আয় করে।

সিনিলোও`র নেতা গ্রেফতার হওয়ার পরও কার্টেলটি কোনো রকম রক্তাক্ত সংঘর্ষ বা উত্তরাধিকার যুদ্ধ এড়িয়ে নিজেদের ব্যবসা চালিয়ে যায়। আর এভাবেই তাদের আয় অব্যাহত রাখে।

সিন্ডিকেটেড ক্রাইমের বর্তমান ধরন:
বর্তমান প্রযুক্তি বিশ্বের সবচেয়ে বড় অপরাধ হিসেবে উঠে আসে ক্রেডিট কার্ড তথ্য চুরির ঘটনা। গ্রাহকের ক্রেডিট এর পাসওয়ার্ড জেনে তার অ্যাকাউন্ট থেকে বড় অঙ্কের অর্থ চুরির ঘটনা তো এখন খুব সাধারন ব্যপার।

আর এই ঘটনা ঘটায় সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের কিছু অসাধু সদস্য যারা বড় বড় সুপার স্টোরে খন্ডকালীন কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বেশে লুকিয়ে থাকে।

আরো একটি চ্যালেঞ্জিং বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে ই- কমার্স পেমেন্ট ওয়ে। সময় বাঁচাতে ভোক্তা নিচ্ছে ইন্টারনেটে ক্রয় করার সুযোগ, কিন্তু নিজের অজান্তে তার পেমেন্ট ডেটা শিকার হচ্ছে হ্যাকিং এর।

ফলাফল পরিচয়, চুরি ও অর্থ চুরি কিন্তু স্মার্ট ওয়েতে। আর এই অর্থ ও পরিচয় কোনো না কোনো ভাবে গিয়ে পরছে ক্রাইম সিন্ডিকেট গুলোর ঝুলিতে।

চলুন শুনি এক পরিসংখ্যান এর গল্প।
জ্যাভেলিন স্ট্রাটেজী ও রিসার্চ সেন্টার এর এক গবেষণা থেকে উঠে আসে ২০১৩ অর্থ বছরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডিজিটাল অপরাধের কিছু চালচিত্র।

জরিপে জানা যায় যে আমেরিকানরা পরিচয় চুরির কারণে বার্ষিক প্রায় $ ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্ষতির শিকার হয়।

কিন্তু এটি ছিল পরোক্ষ ক্ষতি যা পরিচয় কৃত চুরি পুনরুদ্ধার ও তার অভাবে যেন বড় মাপের কোনো অপরাধ সংঘটিত না হয় সেই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিতেই খরচ হয়ে যায়।

ড্রাগ ব্যবসা এবং মানব পাচারের মত সংগঠিত অপরাধ এর আয়ের কথা চিন্তা করুন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে শুধুমাত্র কোকেন বিক্রয় করে আয় বছরে $ ৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এগুলো তো অপরাধ সংগঠন গুলোর আদি ব্যবসা কিন্তু এখন তারা নেমেছে নিত্য নতুন প্রযুক্তির ব্যবহারে স্মার্ট আয়ে।

স্মার্ট আয় ও ট্র্যাডিশনাল আয়ের অনবদ্য মিশেলে সিন্ডিকেটেড ক্রাইম অর্গানাইজেশনগুলো হয়ে উঠেছে আরো বিত্তশালী।

অন্ধকার জগত হতে প্রতি মুহূর্তে আবির্ভূত হছে নিত্য নতুন অপরাধের ধারা। তার সাথে যুক্ত হচ্ছে শিক্ষিত অপরাধীর খুরধার মস্তিস্ক।

যুক্ত হচ্ছে উন্নত প্রযুক্তি। কিন্তু তার বিপরীতে প্রস্তুত হচ্ছে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও। আর এই সংগ্রাম ন্যায় এর অন্যায়ের বিরুদ্ধে চিরককালীন।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে