বিশ্বের অর্ধেক সৈকত অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে

ঢাকা, শনিবার   ০৪ এপ্রিল ২০২০,   চৈত্র ২১ ১৪২৬,   ১০ শা'বান ১৪৪১

Akash

নেচার ক্লাইমেট চেঞ্জ এর প্রতিবেদন

বিশ্বের অর্ধেক সৈকত অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে

বিজ্ঞান ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:৩৫ ৩ মার্চ ২০২০  

গিনি-বিসাউ তাদের ৬০ শতাংশেরও বেশি সমুদ্র সৈকত হারাতে পারে

গিনি-বিসাউ তাদের ৬০ শতাংশেরও বেশি সমুদ্র সৈকত হারাতে পারে

জলবায়ু পরিবর্তনকে অনেকেই বিজ্ঞানের একটি ছোটখাটো বিষয় বলে মনে করেন। অথচ এটিই শতাব্দীর সবচেয়ে বড় ঘটনা। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা একে জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সন্ত্রাসবাদের চেয়েও বড় হুমকি বলে অভিহিত করেছিলেন। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ২১০০ সালের মধ্যে বিশ্বের অর্ধেক সৈকত অদৃশ্য হয়ে যাবে।

বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ‘নেচার ক্লাইমেট চেঞ্জ’ এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে, ঘন মানব বসতি উপকূলরেখাগুলোর আরো ক্ষয় হতে পারে। গত ৩০ বছরে সৈকত কীভাবে পরিবর্তন হয়েছে তা পর্যবেক্ষণ করতে বিজ্ঞানীরা উপগ্রহের চিত্র ব্যবহার করেছেন। এতে দেখা গিয়েছে, শতাব্দীর শেষদিকে বিশ্বের প্রায় অর্ধেক বালুকাময় সমুদ্র সৈকত বিলুপ্ত হতে পারে।

জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দুটি ফল হচ্ছে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও সাগর অম্লকরণ। মানুষের কারণে বেড়ে যাওয়া কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাসই ওই দুটি ক্ষেত্রের মূল অপরাধী। এ গ্যাস পৃথিবীর চারপাশে একটি আবরণ তৈরি করে, যা ভেদ করে সূর্যালোক থেকে সৃষ্ট তাপ বেরিয়ে যেতে পারে না। এর ফলে বছর বছর কালবৈশাখীর সংখ্যা বাড়তে থাকবে। এসব ঝড় সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রয়োজনীয় শক্তি সঞ্চার করতে পারবে খুব সহজেই।

গাম্বিয়ার সমুদ্র সৈকতগুলোও ভয়ানক ঝুঁকিতে রয়েছে

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের হিমবাহগুলো গলছে, এর মূল কারণও জলবায়ু পরিবর্তন। ১৮৮০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত সময়ে গড় বৈশ্বিক তাপমাত্রা প্রায় ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেয়েছে। তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বরফগুলোও গলছে দেদারছে। অতি দ্রুত গতিতে হিমবাহ গলে যাওয়ার কারণে হিমালয় সংলগ্ন প্রাকৃতিক হ্রদগুলো ভেসে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গবেষকদের মতে, আগামী এক দশকেই অন্তত পাঁচ হাজার হ্রদ ভেসে গিয়ে সৃষ্টি করতে পারে মহাপ্লাবন। শুধু তাই নয়, সমুদ্রেও বাড়ছে পানি। ২০২১ সালের মধ্যে অসংখ্য সমুদ্র সৈকত হারিয়ে যাবে।

সমীক্ষার লেখকরা অনুমান করেছেন যে, পশ্চিম আফ্রিকার গাম্বিয়া এবং গিনি-বিসাউ তাদের ৬০ শতাংশেরও বেশি সমুদ্র সৈকত হারাতে পারে। এরপর বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে অস্ট্রেলিয়া, প্রায় ৫০০ মাইল জলবায়ু পরিবর্তনের বলি হতে পারে। সমীক্ষায় যোগ করা হয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, মেক্সিকো, চীন, ইরান, আর্জেন্টিনা এবং চিলির হাজার হাজার মাইল উপকূলরেখা নিঃশেষ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

তুষারপাতের কারণে যুগের পর যুগ ধরে অসংখ্য বরফের স্তুপ তৈরি হয়েছে এন্টার্কটিকায়। এগুলোর বেশিরভাগই দুই মাইলের বেশি পুরু। বেশিরভাগ গম্বুজ শত শত বছর ধরে নিরাপদেই ছিল। কিন্তু বৈশ্বিক উড্ডয়নের কারণে বরফ জমাট এই মহাদেশের প্রান্ত ভাগগুলো ধসে পড়ছে। উপকূলীয় হিমবাহ ও ভাসমান আইস শেলফগুলো গলে যাচ্ছে। এন্টার্কটিকার বরফ গলার কারণে ২১০০ সাল নাগাদ সাগরের জলন্তর বেশ কয়েক ফুট বেড়ে উপকূলীয় অনেক শহর গ্রাস করে নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পৃথিবীর উপকূলীয় হিমবাহ ও ভাসমান আইস শেলফগুলো গলে যাচ্ছে

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত একটি পৃথক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, আগামী ৫০ বছরের মধ্যে বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা যদি ০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পায় তাহলে বিশ্বের প্রায় অর্ধেক প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে যাবে। তাপমাত্রা ২.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে থাকলে ৯৯ শতাংশ প্রজাতি স্থানীয়ভাবে বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সাগরের জলস্তর বৃদ্ধি ২১০০ সালে থেমে যাবে না। দূর ভবিষ্যতে মানবজাতির আর কী কী দেখতে পারে তা অতীত ইতিহাস ঘাটলেই বোঝা যাবে। বিজ্ঞানীদের মতে, এক লাখ ২৫ হাজার বছর আগে পৃথিবী এখনকার তুলনায় আরো খানিকটা উষ্ণ ছিল। তখন জলস্তর আজকের চেয়ে ২০ থেকে ৩০ ফুট বেশি ছিল। প্রায় ৩০ লাখ বছর আগে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইডের মাত্রা এখনকার মতোই ছিল। তবে ২০৫০ সালে সাগরের জলস্তর আজকের তুলনায় ৭০ ফুট বেশি থাকবে। গ্রীনল্যান্ড ও পশ্চিম এন্টার্কটিকার বাঁকের আস্তরণ গলে গেলে সাগরের জলস্তর আরো ৩৫ ফুট বাড়বে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে