Alexa বিশ্বের অবিশ্বাস্য সুন্দর গিরিখাত ‘গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন’

ঢাকা, রোববার   ১৭ নভেম্বর ২০১৯,   অগ্রহায়ণ ২ ১৪২৬,   ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

Akash

বিশ্বের অবিশ্বাস্য সুন্দর গিরিখাত ‘গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন’

রুখসানা আক্তার হ্যাপি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:২৩ ২৮ অক্টোবর ২০১৯  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

আমরা সবাই গিরিখাত সর্ম্পকে কম বেশি জানি। গিরিখাত বা গিরি মানে হচ্ছে খাঁড়া বাঁধ বা পর্বত শিখরের মধ্যকার গভীর পানির স্রোত। যা সাধারণত নদীর সক্রিয়তার জন্য সৃষ্টি হয়। এবার বলুনতো পৃথিবীর বৃহত্তম গিরিখাত কোনটি?

গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো নদীর গ্রান্ড ক্যানিয়ন। যদি কাউকে পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর ১০টি গিরিখাত সর্ম্পকে বলতে বলা হয়, তবে আমি বিশ্বাস করি প্রায় সবাই তালিকাতে স্থান দিবে গ্র্যান্ড ক্যানিয়নকে। আমেরিকাতো বটেই গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন সারা বিশ্বের মধ্যেই অন্যতম সুন্দর গিরিখাত। এটি বিখ্যাত এর সৌন্দর্য, সৃষ্টি রহস্য এবং বৈচিত্রের জন্য।

অদ্ভুত ভালো লাগা আর সব প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নুয়ে পড়েছে যেন এই গিরিখাতে। চলুন তবে জেনে নেয়া যাক এই গিরিখাতটির জানা অজানা তথ্য সর্ম্পকে।

কীভাবে এই গিরিখাতের নাম হলো গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন?

গ্র্যান্ড ক্যানিয়নগ্রান্ড ক্যানিয়ন নামটি এসেছে “Ongtupqa” থেকে যার অর্থ বৃহৎ গিরিপথ যা পুয়েব্লো আদিবাসীদের দেয়া। ধারণা করা হয় তারা প্রথম মানুষ যারা ক্যানিয়নে বাস করে আসছে। কিন্তু আধুনিক মানুষের নজরে নিয়ে আসেন ফ্রান্সিস্কো করোনাডো ষোড়শ শতাব্দীতে। তারপর দুজন পুরোহিত ফ্রান্সিস্কো ডোমিংয়েজ ও ডি এস্কালান্ট আসেন। পরে ১৭৭৬ সালে তারাই প্রথম এই গিরিখাতকে বিশ্বের কাছের তুলে ধরেন। তারপর থেকে ওই স্থানে সরকার নৃতত্ত্ববিদ, বিজ্ঞানী, অভিযাত্রীদের তীর্থস্থান হয়ে উঠে। সারা বিশ্ব থেকে লোকজন ভীর করে নজর জুড়িয়ে নেয়ার জন্য।

বৃহত্তম গিরিখাতের সৌন্দর্য

গ্র্যান্ড ক্যানিয়নযুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত এই ‘গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন’ গিরিখাত পৃথিবীর প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্যের মধ্যে অন্যতম। এটি পৃথিবীর সর্বোচ্চ গিরিখাত নামে পরিচিত। নানা রঙের পাহাড়ে ঘেরা এ গিরিখাতের বয়স নিয়ে চলছে গবেষণা। গিরিপথের বুক চিরে বয়ে চলেছে কলোরাডো নদী। আর তার তীরে আছে ১৭০০ এর অধিক প্রজাতির উদ্ভিদ এবং ৩০ এর বেশি প্রজাতির প্রাণী। অপর দিকে আমেরিকার উত্তর-দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল যেন পাহাড় সাম্রাজ্য। অ্যারিজোনা, নেভাদা, ইউটা, নিউ মেক্সিকো, কলোরাডো সব জায়গাই আকাশ যেন পাহাড় দিয়ে সাজানো। এসব রাজ্যে প্রকৃতি উজাড় করে দিয়েছে সব সৌন্দর্য। কি নেই এই গিরিখাতে? পাহাড়, সমতল, মরু বা বরফের ছোয়া। প্রকৃতি যেন তার সম্ভার নিয়ে বসেছে গ্রান্ড ক্যানিয়নে।

গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের উচ্চতা

গ্র্যান্ড ক্যানিয়নপ্রায় দুইশ’ কোটি বছরের পৃথিবী সাক্ষী এই গিরি পথ। এর আকৃতি এবং গভীরতার কারণে একে উলটো পর্বতও বলা হয়। প্রকৃতির এক অসামান্য বিস্ময়, নান্দনিক, বৈচিত্রময় এটা নিঃসন্দেহে বলা যায়। এই গিরিখাত দৈর্ঘ্যে প্রায় ২৭৭ মাইল, প্রস্থে সর্বোচ্চ ১৮ মাইল ও এর সর্বোচ্চ গভীরতা ১ মাইলেরও অধিক।

প্রকৃতি ও বৈচিত্র্যতার ভিন্নতার কারণে এই গিরিখাতকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। নর্থ রিম এবং সাউথ রিম। নর্থ রিম দর্শনার্থীদের জন্য সবসময় খোলা থাকে কিন্ত নর্থ রীম কিছু সময়ের জন্য। নর্থ রিম বেশি দূর্গম এবং শীতে রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। আবার ভৌগোলিক দিক দিয়ে নর্থ রিমের পাহাড়গুলো বেশি উঁচু গড়ে ৮০০০ ফিট। ফলে সেখানে ঠান্ডাও বেশি পড়ে। কিন্তু বৃষ্টিপাত দুই অংশেই লক্ষণীয়। তবে বলা যায় নর্থ রিম অ্যাডভেঞ্চার প্রেমীদের জন্য স্বর্গ।

প্রকৃতির এই বিস্ময় সৃষ্টি হলো কীভাবে?

গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন
প্রকৃতির এই বিস্ময় কীভাবে সৃষ্টি হলো তা নিয়ে অনেকেই অনেক মতামত দিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে বিজ্ঞানীরা সঠিক কোনো ব্যাখ্যা পাননি।

তবে ধারণা করা হয় এই গিরিখাতের মাঝে বয়ে যাওয়া খরস্রোতা কলোরাডো নদীই গ্রান্ড ক্যানিয়ন সৃষ্টির প্রধান কারণ। এই নদীর স্রোত এবং ভূমিক্ষয়ের প্রবাহে বর্তমান রূপ দিয়েছে। এখন প্রশ্ন আসতে পারে মাত্র ১০০ মিটার প্রস্থের নদী কীভাবে এতো বড় খাত তৈরি করে ফেলল?

গ্র্যান্ড ক্যানিয়নএর কারণ হলো সময় ও তৎকালীন পরিস্থিতি। প্রায় ১৭ মিলিয়ন বছর ধরে বয়ে চলেছে কলোরাডো নদী যা বিজ্ঞানীদের পৃথিবীর বয়স সম্পর্কে আবারো ভাবিয়ে তোলে। বিভিন্ন উৎস থেকে ছড়া ছুটে এসেছে মিশেছে নদীর সঙ্গে। নদী নিজেও পরিবর্তন করেছে নিজের গতিপথ। এখনকার কলোরাডো নদী পূর্বের থেকে ৬ কিমি দূর দিয়ে বয়েছে। যার গতিপথের একদম বিপরীতে বয়ছে এ নদী। এখন সবার মনে প্রশ্ন উঁকি দিতে পারে এটা কেমন করে ঘটলো?

এর কারণ হলো বর্তমান কলোরাডো নদী অনেক খাড়া ভাবে নিচে নেমে এসেছে। ফলে পুরোনো নদী তার গতি পথ পরিবর্তন করে ফেলেছে।

গ্র্যান্ড ক্যানিয়নকলোরাডো নদী সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২৭০০ মিটার উঁচু যা প্রতি ৮০০ মিটারে ৩ মিটার নেমে গেছে। এতটা খাড়া ভাবে নেমে আসাতে এখানে ভূমিক্ষয়ের পরিমাণ অন্যান্য নদীর তুলনায় অনেক অনেক গুন বেশি। মিসিসিপি নদী কলোরাডোর দশগুন পানি বহন করলেও তা প্রতি ৮০০ মিটার দুরত্বে মাত্র ৩ সেন্টিমিটারের মত নেমে গেছে। তাই বলে মিসিসিপি নদীর জন্য কিন্তু গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের মত গভীর গিরিখাতের জন্ম হয়নি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এএ