Alexa বিশ্বসেরা ১০ ছবির দু’টিই বাইতুল মোকাররমের

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২২ আগস্ট ২০১৯,   ভাদ্র ৮ ১৪২৬,   ২১ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

Akash

বিশ্বসেরা ১০ ছবির দু’টিই বাইতুল মোকাররমের

 প্রকাশিত: ১২:৪৮ ১৯ ডিসেম্বর ২০১৭  

ছবি সংগৃহীত

ছবি সংগৃহীত

উইকিপিডিয়া ২০১০ সাল থেকে ‘উইকি লাভস মনুমেন্টসের (ডব্লিউএলএম) মাধ্যমে সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য নিয়ে ছবি তোলার প্রতিযোগিতা আয়োজন করে আসছে। গিনেজ বুকের রেকর্ড অনুযায়ী আলোকচিত্র প্রতিযোগিতার এটিই বিশ্বের সবচেয়ে বড় আয়োজন।

উইকিপিডিয়া একটি সম্মিলিতভাবে সম্পাদিত, বহুভাষীক, মুক্ত প্রবেশাধিকার, মুক্ত কন্টেন্ট সংযুক্ত একটি ইন্টারনেট বিশ্বকোষ। যা অলাভজনক উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশন কর্তৃক সমর্থিত, আয়োজিত এবং পরিচালিত।

এ বছর বিজয়ী তালিকার শীর্ষ দশে স্থান পেয়েছে বাংলাদেশের জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের ২টি অসাধারণ আলোকচিত্র।

চূড়ান্ত ফলাফলে জানা যায়, সারা বিশ্বের ৫৬টি দেশের ১০ হাজার অংশগ্রহণকারী ২ লাখ ৪৫ হাজার ছবি প্রতিযোগিতায় আপলোড করে। বাংলাদেশের আলোকচিত্র শিল্পীরা দ্বিতীয়বারের মতো এ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে সফলতা লাভ করে।

আনুষ্ঠানিকভাবে এ প্রতিযোগিতার ফলাফল গত বৃহস্পতিবার ঘোষণা করা হয়। এতে বাংলাদেশের আজিম খান রনির ক্যামেরায় তোলা জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে জুমআর নামাজ আদায়ের একটি ছবি তৃতীয় স্থান লাভ করে। আর শিল্পী জুবায়ের বিন ইকবালের তোলা বা্য়তুর মোকাররমের ভেতরের একটি ছবি সপ্তম স্থান অর্জন করেন।

বাইতুল মুকাররমের ইতিহাস:
আব্দুল লতিফ ইব্রাহিম বাওয়ানি প্রথম ঢাকাতে বিপুল ধারণক্ষমতাসহ একটি গ্র্যান্ড মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনার কথা প্রকাশ করেন। ১৯৫৯ সালে ‘বায়তুল মুকাররম মসজিদ সোসাইটি’ গঠনের মাধ্যমে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়।

পুরান ঢাকা ও নতুন ঢাকার মিলনস্থলে মসজিদটির জন্য জায়গা অধিগ্রহণ করা হয়। স্থানটি নগরীর প্রধান বাণিজ্যকেন্দ্র থেকেও ছিল নিকটবর্তী। বিশিষ্ট স্থপতি টি. আব্দুল হুসেন থারিয়ানিকে মসজিদ কমপ্লেক্সটির নকশার জন্য নিযুক্ত করা হয়।

পুরো কমপ্লেক্স নকশার মধ্যে দোকান, অফিস, লাইব্রেরি ও গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত হয়। পরবর্তীতে ১৯৬০ সালের ২৭ জানুয়ারি এই মসজিদের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। এই মসজিদে একসঙ্গে ৪০ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন।

মসজিদের প্রধান কক্ষটি তিন দিকে বারান্দা দিয়ে ঘেরা। মিহরাবটি অর্ধ-বৃত্তাকারের পরিবর্তে আয়তাকার। আধুনিক স্থাপত্যে কম অলংকরণই একটি বৈশিষ্ট্য-যা এই মসজিদে লক্ষনীয়। এর অবয়ব অনেকটা পবিত্র কাবা শরিফের মতো হওয়ায় মুসলমানদের হৃদয়ে এই মসজিদটি আলাদা জায়গা করে নিয়েছে।

তৃতীয় স্থান অর্জনের পুরস্কার হিসেবে আজিম খান রনি পাবে ১ হাজার ২০০ ইউরো মূল্যমানের ক্যামেরা সংক্রান্ত যন্ত্রপাতি পাবে। আর সপ্তম স্থান অর্জনকারী হিসেবে পাবে ৪০০ ইউরো মূল্যমানের যন্ত্রপাতি।

এ প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেছে ভারতের পি খারোতের আলোকচিত্র। আর থাইল্যান্ডের আলোকচিত্রী বেরির তোলা স্থিরচিত্র দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে।

উল্লেখ্য যে, প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশের ১১৯ জন আলোকচিত্রী ৩ হাজার ছবি আপলোড করেন। এ ৩ হাজার ছবি থেকে বাছাই করে ১০টি ছবি পাঠানো হয় সর্ববৃহৎ আন্তর্জাতিক এ প্রতিযোগিতায়। বাংলাদেশের জন্য এটা বড় সাফল্য। অভিনন্দন অংশগ্রহণকারী বিজয়ী শিল্পীদের।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে

Best Electronics
Best Electronics