বিশ্বসেরা ধনী ব্যক্তিদের অর্ধাঙ্গিনীরাও নিজ কর্মগুণে প্রতিষ্ঠিত

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০,   আশ্বিন ১৪ ১৪২৭,   ১১ সফর ১৪৪২

বিশ্বসেরা ধনী ব্যক্তিদের অর্ধাঙ্গিনীরাও নিজ কর্মগুণে প্রতিষ্ঠিত

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:৪৬ ৬ আগস্ট ২০২০   আপডেট: ১৭:৫৮ ৬ আগস্ট ২০২০

ছবি: বিশ্বসেরা ধনকুবের ও তাদের অর্ধাঙ্গিনীরা

ছবি: বিশ্বসেরা ধনকুবের ও তাদের অর্ধাঙ্গিনীরা

বিশ্বের ধনী ব্যক্তিদের নিয়ে সবারই কমবেশি কৌতূহল থাকে। তাদের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে জানার আগ্রহ অনেকের মনেই রয়েছে। তাদের চলাফেরা, খাবার-দাবারসহ তাদের অন্দরমহলের বিষয়েও জানতে চায় বিশ্ববাসী। বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তির কথা শুনলে প্রথমেই আমাদের মাথায় আসে বিল গেটসের নাম। 

শুধু তিনিই নন বরং তার মতো বিশ্বে আরো অনেক বিত্তশালী ব্যক্তিত্ব রয়েছেন। তবে জানেন কি? শুধু এসব ব্যক্তিদের অনেকেই তাদের অর্ধাঙ্গিনীর সঙ্গে মিলিত প্রচেষ্টায় ধনকুবের হয়েছেন। এছাড়াও আজ যেসব বিত্তশালীদের সম্পর্কে জানানো হবে তাদের অর্ধাঙ্গিনীরা শুধু স্বামীর নয় বরং নিজ পরিচয়েও প্রতিষ্ঠিত।

ম্যাকেনজি বেজোস

ম্যাকেনজি বেজোস ও তার স্বামীম্যাকেনজি বেজোস একাধারে একজন ঔপন্যাসিক, সমাজসেবী ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী। এই নারী ১৯৯৩ সালে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি জেফ বেজোসকে (অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা) বিয়ে করেন। তারা একসময় বিশ্বের ধনী দম্পতি ছিলেন। তাদের যৌথ সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ১১৪ বিলিয়ন ডলার। তবে ২০১৯ সালের এপ্রিলে এই দম্পতির ডিভোর্স হয়ে যায়। ডিভোর্সের সময় ম্যাকেনজি বেজোস ৩৫ বিলিয়ন ডলার অর্থ পান। এই অর্থই তাকে বিশ্বের তৃতীয় ধনী নারীর তকমা প্রদান করে।

মেলিন্ডা গেটস

বিল গেটস ও তার স্ত্রী মেলিন্ডা গেটসআমেরিকান সমাজসেবী মেলিন্ডা গেটস একসময় মাইক্রোসফ্টের জেনারেল ম্যানেজার ছিলেন। তিনি ও তার স্বামী মিলে বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। এই প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য ছিল দারিদ্রতা থেকে মুক্তি এবং বিশ্ব স্বাস্থ্যসেবা বাড়ানো। তার স্বামী মাইক্রোসফট কর্পোরেশনের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। যার সম্পদের পরিমাণ ১০৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। বিল গেটস বিশ্বের দ্বিতীয় ধনী ব্যক্তি।

হ্যালেন মার্সিয়ার

হ্যালেন মার্সিয়ার ও তার স্বামীকানাডিয়ান সংগীতানুষ্ঠানের পিয়ানোবাদক হ্যালেন মার্সিয়ার। তিনি আর্টস অ্যান্ড লেটার্স নামক সম্মানসূচক পদবিপ্রাপ্ত নারী।  ফ্রান্সের চারুকলায় তার অবদান অনেক। ১৯৯১ সালে ফরাসি ব্যবসায়ী বার্নার্ড আরনাউল্টের সঙ্গে হ্যালেন মার্সিয়ার বিয়ে হয়। এই দম্পতির মোট সম্পদের পরিমাণ ৯৫ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার।

অ্যাস্ট্রিড মেনকস

অ্যাস্ট্রিড মেনকস ও তার স্বামীঅ্যাস্ট্রিড মেনকস নেব্রাসকান নামক একটি ফ্রেঞ্চ ক্যাফে চালাতেন। মার্কিন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী বুফেটের প্রথম স্ত্রী সুসানের মাধ্যমেই মেনকসের সঙ্গে তার দেখা হয়। সুসানের মৃত্যুর আগেই মেনকস এবং বার্কশায়ার হ্যাথওয়ের সিইও বুফেটের প্রেম চলে দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে। এই জুটি ২০০৬ সালে দীর্ঘ প্রেমের ইতি টেনে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বর্তমানে তাদের যৌথ সম্পত্তির পরিমাণ আনুমানিক সাড়ে ৮৫ বিলিয়ন ডলার।

ফ্লোরা পেরেজ মার্কোট

ফ্লোরা পেরেজ মার্কোট ও তার স্বামীফ্লোরা মার্কোট তার স্বামীর সংস্থা ইন্ডিটেক্স ফ্যাশন গ্রুপে নিযুক্ত ছিলেন। বর্তমানে তিনি এই প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছেন। তার স্বামী আমানসিও ওর্তেগা ফ্যাশন গ্রুপ শুরু করেন। এই কোম্পানিতেই তৈরি হয় বিখ্যাত জারা ব্র্যান্ডের পোশাক। এই দম্পতির সংসার জীবন বিগত ১৮ বছর ধরে ভালোই চলছে।  তাদের যৌথ সম্পদের মূল্য ৬৭ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার।

প্রিসিলা চ্যান

প্রিসিলা চ্যান ও মার্ক জুকারবার্গপ্রিসিলা চ্যান ফেসবুকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জুকারবার্গের স্ত্রী। তবে তার পরিচয় এতটুকুই নয়। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ এবং সমাজসেবী হিসেবেও সফল ব্যক্তিত্ব তিনি। ২০১২ সালে তাদের বিয়ে হয়। বর্তমানে তারা সুখী দম্পতিদের কাতারেই রয়েছে। এই দম্পতির যৌথ সম্পদের পরিমাণ ৬৭ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার।

নীতা আম্বানি

নীতা ও মুকেশ আম্বানি ভারতীয় প্রকৌশলী, ব্যবসায়ী এবং রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের (আরআইএল) চেয়ারম্যান মুকেশ আম্বানির স্ত্রী নীতা আম্বানি। আরআইএল ভারতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি সংস্থা। ফরচুন গ্লোবাল ৫০০ এর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত এই সংস্থাটিও। রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারপারসন ছাড়াও নীতা আম্বানি রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের নির্বাহী পরিচালক। এই দম্পতি ১৯৮৫ সালে বিয়ে করেন। তাদের মোট সম্পদের পরিমাণ সাড়ে ৫৮ বিলিয়ন ডলার।

লুসিডা সাউথওয়ার্থ

লুসিডা সাউথওয়ার্থ ও তার স্বামীলুসিডা সাউথওয়ার্থ গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তবে এই নারী নিজেও একজন সফল ব্যক্তিত্ব। তিনি স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করেছেন বায়োমেডিকাল ইনফরম্যাটিক্সে। তিনি পুরোদস্তুর একজন গবেষক। এই দম্পতি ২০০৭ সালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। ২০১৩ সালে তারা ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বিস্তার নিয়ন্ত্রণে ১৫ মিলিয়ন ডলার অনুদান দিয়েছিলেন। তাদের সম্মিলিত সম্পদ প্রায় ৫৪ বিলিয়ন ডলারের কোঠায়।

অ্যান ওয়াজকিকি

অ্যান ওয়াজকিকি ও তার স্বামীগুগলের আরেক সহ-প্রতিষ্ঠাতা সের্গেই ব্রিনের সঙ্গে অ্যান ওয়াজকিকির বিয়ে ২০১৫ সাল পর্যন্ত স্থায়ী ছিল। তবে শুধু এই পরিচয় নয় বরং তিনি নিজেও প্রতিষ্ঠিত একজন নারী। জিনোমিক্স সংস্থা ‘২৩অ্যান্ডমি’ এর সহ-প্রতিষ্ঠা তিনি। দাম্পত্য জীবনে এই জুটির সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলারের মূল্য ছিল।

জুলিয়া ফ্লেশার

জুলিয়া ফ্লেশার ও তার স্বামীকোচ ইন্ডাস্ট্রিজের সহ-মালিক ডেভিড কোচের সঙ্গে বিয়ে হয় জুলিয়া ফ্লেশারের। ১৯৯৬ সাল থেকে তাদের দাম্পত্য জীবন শুরু হয়। এখনো তারা একে অন্যের প্রেমে পাগল। জুলিয়া ফ্লেশার বর্তমানে অ্যাডল্ফো ডোমিংয়েজের সহকারী হিসেবে কর্মরত আছেন।  পোশাক ডিজাইনার হিসেবে তার সুখ্যাতি রয়েছে। জুলিয়া ফ্লেশার সেন্ট্রাল আরকানসাস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন।  জুলিয়া ফ্লেশার ও ডেভিড কোচের মোট সম্পদের পরিমাণ ৫১ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। 

কনি স্নাইডার

কনি স্নাইডার ও তার স্বামীমার্কিন সমাজসেবী কনি স্নাইডার হলেন অরেগন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি। এছাড়াও তিনি একজন শিশুদের পক্ষের আইনজীবী এবং বল্মার গ্রুপের সহ-প্রতিষ্ঠাতা। স্টিভ বাল্মারের সঙ্গে দীর্ঘ ২৯ বছর ধরে কনি স্নাইডার সংসার করছেন। বর্তমানে তিনি বাস্কেটবল দল লস অ্যাঞ্জেলেস ক্লিপারসের মালিক এবং মাইক্রোসফটের সিইও। বল্মার ২০১৪ সাল থেকে বিভিন্ন সংস্থাকে ১০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি অনুদান দিয়েছেন। এই দম্পতির মোট সম্পদ ৪৫ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার।

মিরিয়ম অ্যাডেলসন

মিরিয়ম অ্যাডেলসনইসরায়েলি-আমেরিকান সমাজসেবক মিরিয়ম অ্যাডেলসন। তিনি তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যাকলার মেডিকেল স্কুল থেকে মেডিকেল ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি জরুরি বিভাগের প্রধান ইন্টার্নিস্ট হয়েছিলেন। এরপর তিনি রকফেলার বিশ্ববিদ্যালয়ে মাদকাসক্ত বিষয়ে অধ্যায়ন শুরু করেন। সেখানেই তার বর্তমান স্বামী শেল্ডন অ্যাডেলসনের সঙ্গে তার দেখা হয়। ১৯৯১ সালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন তারা। এই দম্পতি লাস ভেগাসে অবস্থিত ড. মরিয়াম এবং শেল্ডন জি অ্যাডেলসন রিসার্চ ক্লিনিকের উদ্বোধন করেন। শেল্ডন অ্যাডেলসন একজন মার্কিন ব্যবসায়ী। তিনি লাস ভেগাস স্যান্ডস কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠাতা। এই দম্পতির মোট সম্পদের পরিমাণ সাড়ে ৩৩ বিলিয়ন ডলার।

জেরি হল

জেরি হল ও তার স্বামীআমেরিকান মডেল এবং অভিনেত্রী জেরি হল। ১৯৮৯ সালে তিনি ব্যাটম্যান, টিভি শো দি ডিটেক্টিভ এবং বিভিন্ন থিয়েটার শোগুলোর প্রযোজক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। তিনি অস্ট্রেলিয়ান বংশোদ্ভূত রুপার্ট মারডোকের (আমেরিকান নিউজ কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠাতা) স্ত্রী। তাদের যৌথ সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। এই দম্পতি স্পটলাইট থেকে দূরে এক আড়ম্বরপূর্ণ শান্ত জীবনযাপন করেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস