Alexa বিশ্বসেরা অর্থমন্ত্রী নির্বাচিত হলেন মুস্তফা কামাল

ঢাকা, শুক্রবার   ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০,   ফাল্গুন ১৫ ১৪২৬,   ০৪ রজব ১৪৪১

Akash

বিশ্বসেরা অর্থমন্ত্রী নির্বাচিত হলেন মুস্তফা কামাল

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:০১ ২ জানুয়ারি ২০২০   আপডেট: ২০:১৬ ৪ জানুয়ারি ২০২০

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালকে বিশ্বের সেরা অর্থমন্ত্রী নির্বাচিত করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক বিজনেস ম্যাগাজিন দ্য ব্যাংকার।

বৃহস্পতিবার মুস্তফা কামালকে ২০২০ সালের জন্য ‘ফিন্যান্স মিনিস্টার অব দ্য ইয়ার ফর এশিয়া প্যাসিফিক অ্যান্ড গ্লোবাল অ্যাওয়ার্ড-২০২০’ এ ভূষিত করে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস গ্রুপের এ ম্যাগাজিনটি।

এছাড়া মুস্তফা কামালকে নিয়ে একটি সম্পাদকীয় প্রকাশ করেছে দ্য ব্যাংকার। যেখানে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের ঈর্ষণীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির (৮ শতাংশের ওপরে) কথা তুলে ধরা হয়েছে। এতে বিশ্ব অর্থনীতির জরিপের পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলা হয়, দেশটি বর্তমানে ৪১তম বিশ্ব অর্থনীতির দেশ হিসেবে অবস্থান করছে। শুধু তাই নয়, অর্থনৈতিক পূর্বাভাস বলছে, দেশটি ২০৩৩ সালের মধ্যে বিশ্বে ২৪তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশে পরিণত হবে।

অর্থমন্ত্রী পুরস্কারটি দেশবাসীর উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তাৎক্ষণিক এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশিত পথ অনুসরণ করেই এটি অর্জিত হয়েছে।

ফিন্যান্স মিনিস্টার অব দ্য ইয়ার পুরস্কারটি ২০০৪ সাল থেকে দিয়ে আসছে স্বনামধন্য ফিন্যান্সিয়াল টাইমস গ্রুপের ম্যাগাজিন ‘দ্য ব্যাংকার।’ সারাবিশ্বের অর্থমন্ত্রীদের আর্থিক খাতে গতিশীলতা আনা এবং দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নে নেয়া পদক্ষেপসহ সার্বিক বিবেচনায় এ পুরস্কার দেয়া হয়।

এশিয়া-প্যাসিফিক, আমেরিকা, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপ- এই পাঁচটি অঞ্চল থেকে পাঁচজন অর্থমন্ত্রীকে এবং তাদের মধ্যে থেকে একজনকে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ অর্থমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। বাংলাদেশের কোন অর্থমন্ত্রী প্রথমবারের মতো এ পুরস্কার পেলেন। 

এর আগে ২০১৯ সালে এ পুরস্কার পেয়েছিলেন ইন্দোনেশিয়ার অর্থমন্ত্রী। ২০১৮ সালে ভারতের সাবেক অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি ও ২০১৭ সালে আর্জেন্টিনার অর্থমন্ত্রী এ পুরস্কার পান।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর আ হ ম মুস্তফা কামালকে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয়। এর আগে তিনি পরিকল্পনামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। 

অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই চলমান অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতিকে সচল রাখা ও আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য বেশ কিছু কার্যকরী পদক্ষেপ নেন আ হ ম মুস্তফা কামাল। এতে বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করাসহ ইতিবাচক ফলাফল বয়ে আনে।

গত বছর ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে, যা দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের মধ্যে সর্বোচ্চ। বিশ্ব প্রবৃদ্ধিতে প্রভাব বিস্তারকারী শীর্ষ ২০টি দেশের অন্তর্ভুক্ত বাংলাদেশ। 

প্রবৃদ্ধি টেকসই করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর দিক-নির্দেশনা অনুযায়ী চলতি অর্থবছর অনেকগুলো সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। আ হ ম মুস্তফা কামালের নীতি নির্ধারণী অনেকগুলো উদ্যোগের মধ্যে ব্যাংক, আর্থিক খাত ও রাজস্ব খাতের সংস্কার উল্লেখযোগ্য।

তিনি ব্যাংক সুদের হার ৯ শতাংশে নামিয়ে আনতে উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর যৌক্তিক কারণে খেলাপি হওয়া ঋণ পুনঃতফসিল করার উদ্যোগ গ্রহণ, ইচ্ছাকৃত ঋণ খেলাপিদের দেউলিয়া ঘোষণাসহ তাদের সম্পদ ‘এসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি’র মাধ্যমে গ্রহণ করে খেলাপি ঋণ আদায়ের উদ্যোগ গ্রহণ করেন অর্থমন্ত্রী। 
 
অন্যদিকে, ব্যাংকের পরিবর্তে ক্যাপিটাল মার্কেট থেকে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ অর্থায়নের জন্য পুঁজিবাজারে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও প্রণোদনা প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ, বন্ড মার্কেট চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করেন আ হ ম মুস্তফা কামাল। পাশাপাশি কর আদায়ে ভ্যাট আইন চালু, কাস্টমস আইন সংস্কার এবং আয়কর আদায়ের নেট উপজেলা পর্যন্ত বিস্তারের উদ্যোগ এবং ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্সের পরিমাণ বৃদ্ধির জন্য ২ শতাংশ প্রণোদনা প্রদানের ব্যবস্থা করেন অর্থমন্ত্রী।

আ হ ম মুস্তফা কামাল ১৯৪৭ সালের ১৫ জুন কুমিল্লার নবগঠিত লালমাই উপজেলার বাগমারা ইউনিয়নের দুতিয়াপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মরহুম বাবরু মিয়া, মাতা মরহুমা সায়রা বেগম।

লালমাই উপজেলার বাগমারা ইউনিয়নের দত্তপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাইমারি শিক্ষা শেষে বাগমারা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৬২ সালে এসএসসি, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি, ১৯৬৭ সালে চট্টগ্রাম সরকারি বাণিজ্যিক কলেজ থেকে বি.কম (অনার্স) ডিগ্রি লাভ করেন। 

১৯৬৭-৬৮ শিক্ষাবর্ষে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হিসাব বিজ্ঞান ও আইন বিভাগে কৃতিত্বের সঙ্গে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন। মেধাবী এ ব্যক্তিত্ব ১৯৭০ সালে তদানীন্তন পাকিস্তানে (পূর্ব এবং পশ্চিম পাকিস্তান) চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্সি পরীক্ষায় মেধা তালিকায় সম্মিলিতভাবে প্রথম স্থান অর্জন করেন। 

তদানীন্তন পাকিস্তানে চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্সি পরীক্ষায় তিনিই একমাত্র বাঙালি, যিনি প্রথম স্থান অধিকার করার এক বিরল কৃতিত্বের অধিকারী। দুই পাকিস্তানে রেকর্ড সংখ্যক মার্ক নিয়ে পাস করে ‘লোটাস’ খ্যাতি পাওয়া সনদপ্রাপ্ত হিসাববিজ্ঞানী (চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট) আ হ ম মুস্তফা কামাল।

ছাত্র জীবন থেকেই রাজনীতিতে যুক্ত আ হ ম মুস্তফা কামাল। কলেজ জীবনের পুরো সময়ই তিনি ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। ১৯৬৬ সালের ৬ দফা আন্দোলন, ৬৯’র গণঅভ্যুত্থান এবং ৭০’র ঐতিহাসিক নির্বাচনের সময় তিনি আওয়ামী লীগের একজন নিবেদিত সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। 

তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে প্রার্থী হয়ে ১৯৯৬ সালে তৎকালীন কুমিল্লা-৯ সদর দক্ষিণ (যা বর্তমানে কুমিল্লা-১০ সদর দক্ষিণ, লালমাই, নাঙ্গলকোট) সংসদীয় আসন থেকে প্রথমবারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এ সময়ে তিনি পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির সদস্য, বিনিয়োগ বোর্ডের সদস্য, প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের সদস্য, অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য, যাকাত বোর্ডের সদস্য এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০০৬ সালের ১২ মে থেকে তিনি কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব লাভ করেন। পরবর্তীতে ২০১৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

তিনি ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-১০ নির্বাচনী এলাকা থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে প্রার্থী হয়ে দ্বিতীয়বারের মত এমপি নির্বাচিত হন। ২০০৯ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত তিনি অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-১০ আসন থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়নে প্রার্থী হয়ে তৃতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। 

সর্বশেষ ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও মুস্তফা কামাল একই আসন থেকে চতুর্থবারের মত এমপি হিসেবে বিজয়ী হন। এরপর অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পান তিনি।

রাজনীতি ছাড়াও ক্রিকেট অঙ্গনেও মুস্তফা কামালের রয়েছে ব্যাপক পরিচিতি। আইসিসি’র নির্বাচিত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন। এর আগে তিনি আইসিসি’র সহ-সভাপতি, অডিট কমিটির সভাপতি ও এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। 

এছাড়া ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৩ সালের অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মুস্তফা কামাল। তার দায়িত্বকালে বাংলাদেশে ২০১১ সালে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ক্রিকেট সারা বিশ্বে প্রশংসিত হয়।

 

ডেইলি বাংলাদেশ/এসএইচআর/আরএইচ