বিশ্বকাপ আসরের ম্যাচ পরিচালনায় যারা

ঢাকা, রোববার   ২৯ মার্চ ২০২০,   চৈত্র ১৫ ১৪২৬,   ০৪ শা'বান ১৪৪১

Akash

বিশ্বকাপ আসরের ম্যাচ পরিচালনায় যারা

স্পোর্টস ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২২:১৯ ১৩ জুলাই ২০১৯  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ক্রিকেটে মাঠের লড়াইয়ে খেলেন ২২ জন প্লেয়ার। তাদের সঙ্গে থাকেন আরো ৪ জন। তারা হলেন আম্পায়ার। মাঠের লড়াইয়ে দু’দলের মধ্যে পুরো খেলা তাদের দ্বারাই সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয়। 

শুরু থেকে এ পর্যন্ত বিশ্বকাপ আসরের পরিচালনায় ছিলেন মোট ১৫ জন আম্পায়ার। যারা নিজেদের দক্ষতা দিয়ে পুরো আসরকে শেষের দিয়ে নিয়ে এসেছেন। তাদের মধ্যে কারো আবার এটাই শেষ বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে। 

ডেইলি বাংলাদেশের পাঠকদের জন্য এবার আইসিসির এলিট প্যানেলের এই আম্পায়ারদের কয়েকজনের আদ্যোপান্ত তুলে ধরা হলো।    

ব্রুস ওক্সেনফোর্ড 


১৯৬০ সালে অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডে জন্ম নেয়া ব্রুসের ক্রিকেট আম্পায়ারিংয়ে হাতেখড়ি হয় ১৯৯৮ সালে। এরপর প্রথম শ্রেনির ক্রিকেটে তিনি আম্পায়ারিং শুরু করেন ২০০১ সাল থেকে। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার ১২ সদস্যের আম্পায়ার প্যানেলের ভেতর ঢুকে পড়েন ২০০৩ সালে। ২০০৭-০৮ তে তিনি আইসিসির আম্পায়ার প্যানেলের থার্ড আম্পায়ার ক্যাটগরিতে স্থান পান। 

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ওয়ানডে ম্যাচে প্রথম আম্পায়ারিংয়ে অভিষেক হয় ২০০৮ সালে। এরপর ২০১০ সালে পালেকেল্লেতে শ্রীলংকা বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে প্রথম কোন টেস্ট ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব পান। ২০১২ সালে একজনের আম্পায়ারের জন্য যেই দিনটা দরকার ঠিক সেই দিনটাই চলে আসে তার জীবনে। আইসিসির আম্পায়ারদের এলিট প্যানেলের জন্য তাকে অন্তুর্ভুক্ত করা হয়। এটাই হচ্ছে আম্পায়ারদের নিয়ে আইসিসির সর্বোচ্চ প্যানেল। মূলত কিংবদন্তী  সায়মন টাফেল অবসর নেয়ার পরই তিনি সুযোগ পান এখানে। 

২০১৫ সালের বিশ্বকাপে আইসিসির ২০ সদস্যের আম্পায়ার প্যানেলে তিনি যোগ দেন। ২০১৮ সালের ৩০ আগস্ট অন ফিল্ড আম্পায়ার হিসেবে ৫০তম টেস্ট ম্যাচ পরিচালনাও করেন ভারত ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার ম্যাচে। 

২০১৯ সালের এপ্রিল মাসে বিশ্বকাপের জন্য আইসিসির ১৫ সদস্যের আম্পায়ার প্যানেলেও তিনি যুক্ত হন। 

ক্রিকেট মাঠে ব্রুস অক্সেনফোর্ড বর্তমানে সবার চেয়ে ব্যতিক্রম শুধু একটি কারণেই। যেখানে অন্য সব আম্পায়াররা খালি হাতে আম্পায়ারিং করেন সেখানে ব্রুসের বাম হাতে থাকে একটি শিল্ড। যেটি দিয়ে তিনি ব্যাটসম্যানদের হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করেন। তার এই শিল্ড নেওয়ার ঘটনাটি প্রথম ঘটে ২০১৬  এজবাস্টনে ইংল্যান্ড বনাম শ্রীলংকার বিপক্ষে ম্যাচে। 

পুলিশ হয়েও আম্পায়ার ক্রিস গ্যাফানি 


ক্রিস গ্যাফানি মূলত ২০১৯ বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বনাম অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ পরিচালনা করার পরই আলোচনায় উঠে আসেন। সেই ম্যাচে মিচেল স্টার্কের একটি বিশাল নো বল তিনি এড়িয়ে যান। যার কারণে সারা বিশ্বে তাকে নিয়ে সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়। 

২০০৭ সালে ক্রিকেট থেকে অবসর নেয়ার পর আম্পায়ার হিসেবে তার অভিষেক হয় ২০১০ সালে কানাডা বনাম আয়ারল্যান্ডের মধ্যকার ম্যাচে। পরবর্তীতে তিনি আইসিসির এলিট আম্পায়ারদের প্যানেলে যোগ দেন। ২০১৪ সালে জিম্বাবুয়ে বনাম দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার টেস্ট ম্যাচে প্রথমবারের মত দায়িত্ব পালনের সুযোগ পান। 

২০১৫ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপে ২০ সদস্যের আম্পায়ার প্যানেলে তিনি ছিলেন। এবং তিনটি ম্যাচে অন ফিল্ড আম্পায়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ভালো পারফরম্যান্সের জন্য তাকে আইসিসির এলিট আম্পায়ার প্যানেলের সদস্য হিসেবে পুনরায় নিয়োগ দেয়া হয়। 

ওয়ানডেতে ২০১০ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করে বর্তমান সময় পর্যন্ত ৬৪টি ম্যাচে আম্পায়ার হিসেবে ছিলেন। এছাড়া টি-টোয়েন্টিতে ২০টি ম্যাচে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৪ সাল থেকে টেস্ট ম্যাচের দায়িত্ব পালন করা গ্যাফানির ঝুলিতে রয়েছে ২৭টি টেস্ট দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা। 

পেশায় একজন পুলিশ হিসেবে দায়িত্ব পালন করা গ্যাফানি আম্পায়ার হওয়ার জন্য  ধন্যবাদ দিয়েছেন সে দেশের পুলিশ বিভাগকে। কেননা আম্পায়ারিংয়ের দায়িত্ব পালন শেষে তিনি চলে যান নিজের কর্মস্থল পুলিশে। পুলিশ এবং আম্পায়ার দুটো কাজেই বেশ নিখুঁত হাতেই চালাচ্ছেন এই কিউই আম্পায়ার। 

জো উইলসন 


ত্রিনিদাদ এন্ড টোবাকোতে ১৯৬৬ সালে জন্ম নেয়া জো উইলসনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আম্পায়ারিংয়ে অভিষেক ঘটে ২০১৫ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপে। অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডে হওয়া এই বিশ্বকাপে তিনি মাত্র ৩টি ম্যাচে দায়িত্ব পালন করার সুযোগ পান। এর কিছুদিন পরেই তিনি সুযোগ পান প্রথমবারের মত টেস্ট ম্যাচে দায়িত্ব পালনের। 

২০১৫ সালেই বাংলাদেশের চট্টগ্রামে হওয়া বাংলাদেশ বনাম দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার প্রথম টেস্টটিতে আম্পায়ার হিসেবে প্রথমবারের মত দায়িত্ব পালন করেন জো উইলসন। 

২০১৯ বিশ্বকাপে জো উইলসন রয়েছেন ১৫ সদস্যের আম্পায়ার প্যানেলে। যেখানে তার কল্যাণে বাংলাদেশ বনাম ইংল্যান্ডের মধ্যকার ম্যাচে একটি মজার ঘটনার সাক্ষী হয়ে যায় পুরো বিশ্ব। 

মাইকেল গফ


মাইকেল গফের জন্ম হয় ১৯৭৯ সালে ইংল্যান্ডে। খেলোয়াড় হিসেবে তেমন সুবিধা না করতে পারায় নাম লেখান আম্পায়ারিংয়ে। ২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অভিষেকের আগে ঘরোয়া পর্যায়ে অনেকগুলো ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি ম্যাচে আম্পায়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন গফ। 

২০১৫ সালে আইসিসির এলিট আম্পায়ার প্যানেলের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন গফ। এছাড়া ঐ বিশ্বকাপে তিনটি ম্যাচে অনফিল্ড আম্পায়ারের দায়িত্বও পালন করেন। 

২০১৬ সালে হারারেতে জিম্বাবুয়ে বনাম নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার টেস্ট ম্যাচের মাধ্যমে পাঁচ দিনের ম্যাচে পদচারণা শুরু করেন গফ। ২০১৯ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপের ১৫ সদস্যের আম্পায়ার প্যানেলেও সুযোগ করে নেন গফ। 

নাইজেল লং


ইংল্যান্ডে ১৯৬৯ সালে জন্ম নেয়া নাইজেল লং ২০১৯ বিশ্বকাপের আম্পায়ারদের মধ্যে অন্যতম। আম্পায়ারিংয়ে আসার আগে ক্রিকেটার হিসেবেও তিনি খেলেছেন ইংল্যান্ডের প্রথম শ্রেনির ক্রিকেটে। 

ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়ে নেমে পড়েন আম্পায়ারিং পেশায়। ২০০০ সালের জুন মাসে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে আম্পায়ার হিসেবে অভিষেক হয় তার। ২০০২ সালেই ইংল্যান্ডের প্রথম শ্রেণীর আম্পায়ার প্যানেলে চলে আসেন লং। ২০০৪ সালে আইসিসির আন্তর্জাতিক আম্পায়ার প্যানেলে বিশেষজ্ঞ থার্ড আম্পায়ার হিসেবে নিয়োগ পান। ২০০৬ সালে তিনি আইসিসির আম্পায়ার প্যানেলের পূর্ণ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। 

প্রথম দিকে শুধু ইংল্যান্ডের মাঠে হওয়া ম্যাচগুলোতে আম্পায়ারিং করতেন লং। পরবর্তীতে বাহিরে ইংল্যান্ডের ম্যাচগুলোতে থার্ড আম্পায়ারের দায়িত্বও পালন করেন। 

২০০৪ সালে ইংল্যান্ড বনাম শ্রীলংকার মধ্যকার টি-টোয়েন্টি ম্যাচে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে আম্পায়ার হিসেবে আন্তর্জাতিক আঙ্গিনায় অভিষেক ঘটে লংয়ের। ২০০৮ সালে ডানেডিনে বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার টেস্ট ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক টেস্টে পা রাখেন লং। 

২০০৭ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপে তাকে রিজার্ভ আম্পায়ার হিসেবে রাখা হয়। বিশ্বকাপের কোন পর্যায়েই তাকে আর ডাকা হয়নি। ২০০৭ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে  তিনি আম্পায়ার হিসেবে কয়েকটা ম্যাচে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৫ বিশ্বকাপের ২০ সদস্যের আম্পায়ার প্যানেলেও তিনি ছিলেন। 

ডেইলি বাংলাদেশ/সালি