বিশাল বাজেটে প্রাধান্য পাচ্ছে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৮ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ৪ ১৪২৬,   ১৩ শাওয়াল ১৪৪০

বিশাল বাজেটে প্রাধান্য পাচ্ছে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার

মীর সাখাওয়াত সোহেল ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:১২ ১৩ জুন ২০১৯   আপডেট: ১৫:১৬ ১৩ জুন ২০১৯

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

আজ বৃহস্পতিবার বিকেল তিনটায় জাতীয় সংসদে বাজেট উত্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় আকারের এই বাজেটে প্রাধান্য পাচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার। দেশের উন্নতি বিবেচনা করে ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার।

এবারের বাজেটে বাড়ছেনা করহার। তবে করের আওতা বাড়তে পারে। তরুণদের কর্মসংস্থান বাড়ানোর বিষয় অগ্রাধিকার পেতে পারে। জানা গেছে গ্রামীন অবকাঠামো উন্নয়নের উপর জোর দেয়া হতে পারে এবারের প্রস্তাবিত বাজেটে।  

২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার হবে আগের অর্থবছরের (২০১৮-১৯) সংশোধিত বাজেটের চেয়ে ১৮ শতাংশ বেশি।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, খরচের যে হিসাব করা হয়েছে, তা হবে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১৮.১ শতাংশের সমান।

সামষ্টিক অর্থনীতি: উচ্চ আয়, টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন ,দারিদ্র্য বিমোচন ও বৈষম্য হ্রাস, অবকাঠামো উন্নয়নে বৃহৎ প্রকল্প (মেগা প্রজেক্ট), আত্মকর্মসংস্থান ও তরুণ উদ্যোক্তা তৈরি, শিল্প উন্নয়ন-আওয়ামীলীগের নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখ রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে,আওয়ামীলীগ সরকারের আগের দুই মেয়াদে ১০টি বাজেটে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ বেশ কিছু ক্ষেত্রে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। তথ্য মতে, গত দশ বছরে বেকারত্বের হার বেড়েছে প্রায় দ্বিগুন। তাই এবারের বাজেটে কর্মসংস্থান সৃষ্টির দিকেই সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।

আসন্ন বাজেটে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মবার্ষিকী পালনের প্রতিফলন থাকবে। তবে বেশি মনোযোগ থাকবে নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী, আমার গ্রাম আমার শহর ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির দিকে।

গ্রামকে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তুলতে সেখানে ইন্টারনেট, বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ সব ধরনের নাগরিক সুবিধা পৌঁছে দেয়া হবে। আমার গ্রাম আমার শহর কার্যক্রম বাস্তবায়নের দায়িত্ব থাকবে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের হাতে। তবে অন্যান্য মন্ত্রণালয়কেও এর সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হবে।

নতুন বাজেটে উন্নয়নের পাশাপাশি বেশকিছু খাতকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দক্ষতা উন্নয়ন। সার্বিক মানবসম্পদ উন্নয়নে নানা ধরনের পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে। অগ্রাধিকার তালিকায় আরো রয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সক্ষমতা অর্জন, সরকারি সেবাদানে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো ও ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়ন। এছাড়া বহির্বিশ্বের অর্থনৈতিক সুযোগ অধিক ব্যবহার, প্রবাসী আয় বৃদ্ধি ও নতুন রপ্তানির বাজার অনুসন্ধানের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জানিয়েছেন, নতুন বাজেটে অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। এই মুহূর্তে দেশে বেশ কয়েকটি মেগা প্রকল্পের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এসব প্রকল্প দ্রুত শেষ করতে বাজেটে বরাদ্দ বেশি রাখা হবে। ব্যাংক ও ভ্যাট খাতে সংস্কার করা হবে। তবে করের আওতা বাড়লেও হার নতুন করে বাড়ানো হবে না। সেই সঙ্গে ১ জুলাই থেকে নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর হবে।

আগামী এডিপিতে মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে স্থানীয় সরকার বিভাগে ২৯ হাজার ৭৭৬ কোটি টাকা। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ ২৬ হাজার ১৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ২৫ হাজার ১৬৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। নতুন এডিপিতে শিক্ষা ও ধর্ম খাতে বরাদ্দ ধরা হয়েছে ২১ হাজার ৩৭৯ কোটি ১২ লাখ টাকা, যা মোট এডিপির ১০.৫৫ শতাংশ। বিজ্ঞান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে বরাদ্দ ১৭ হাজার ৫৪১ কোটি ২৬ লাখ টাকা, যা মোট এডিপির ৮.৬৫ শতাংশ। পল্লী উন্নয়ন ও পল্লী প্রতিষ্ঠান খাতে ১৫ হাজার ১৫৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা বরাদ্দ ধরা হয়েছে।

প্রতি বছর বাজেটের আকার বাড়ে ১৪ থেকে ১৫ শতাংশ হারে। গত ১০ বছরে তা বেশ কয়েকবার ১৬ থেকে ১৭ শতাংশ হারেও বেড়েছে। আসন্ন ২০১৯-২০ অর্থবছরে তা বাড়ছে ১২ থেকে ১৩ শতাংশ। তবে চলতি অর্থবছওে বেসরকারি বিনিয়োগ কম হয়েছে। আগামী বছর থেকে এটি বাড়বে বলে আশা করছে সরকার। বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা যাতে আবার ফিরে আসেন সেজন্য সরকার সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে। জানা গেছে, গত দুই বছরে মাঝারি ও বৃহৎ শিল্পের উৎপাদন বেড়েছে। ডিসেম্বর ২০১৬-এর তুলনায় ২০১৭- তে এই দুই খাতে প্রবৃদ্ধির হার ১৫ দশমিক ২ শতাংশ।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসএস/টিআরএইচ