Exim Bank
ঢাকা, শনিবার ২৩ জুন, ২০১৮
Advertisement

বিমানে ক্রটি ছিল না: বেবিচক চেয়ারম্যান

 নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:০২, ১৩ মার্চ ২০১৮

আপডেট: ২১:০২, ১৩ মার্চ ২০১৮

১৯৪ বার পঠিত

খবরটি শুনতে এখানে ক্লিক করুন
বিমানে ক্রটি ছিল না: বেবিচক চেয়ারম্যান

বিমানে ক্রটি ছিল না: বেবিচক চেয়ারম্যান

কাঠমান্ডু বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের যে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে, তাতে কোনো ত্রুটি ছিল না বলে দাবি করেছেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এম নাইম হাসান। তিনি বলছেন, বিধ্বস্ত বিমানটির ক্যাপ্টেন আবিদ সুলতানও বৈমানিক হিসেবে সুস্থ্ ছিলেন।

ভবিষ্যতে দুর্ঘটনা এড়াতে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের দুর্ঘটনার কারণ খুঁজে বের করে সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলেছেন বাংলাদেশে বিমান পরিবহন কার্যক্রম তদারককারী সংস্থার চেয়ারম্যান নাইম।

ঢাকা থেকে রওনা হয়ে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে অবতরণের সময় সোমবার বিধ্বস্ত হয় ইউএস-বাংলার বিমান। দুর্ঘটনায় বিমানটির চার ক্রুসহ ২৬ বাংলাদেশি নিহত হন, আহত হন ১০ জন। সর্বমোট নিহত হন ৪৯ জন।

বড় এই দুর্ঘটনার পরদিন মঙ্গলবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, এটা মর্মান্তিক ঘটনা। তাই আমরা অবশ্যই এই ঘটনার কারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা করব, যেন আর কখনও এমন ঘটনা না ঘটে।

ইউএস-বাংলার যাত্রীদের বিমা করা ছিল জানিয়ে নাইম বলেন, সাধারণত দুই ধরনের বিমা থাকে। একটা প্যাসেঞ্জারের, অন্যটা প্লেনের নিজস্ব বিমা। ইউএস বাংলারও আছে। তারা যথেষ্ট অ্যাক্টিভ। তারা পরিস্থিতি মোকাবেলায় যথাসাধ্য চেষ্টা করছেন।

ইউএস-বাংলার ড্যাস বিমানটি দেড় যুগ পুরনো হলেও, তাতে কোনো সমস্যা হয়নি বলে মনে করেন নাইম। তিনি বলেন, বিমান সাধারণত কখনও পুরনো হয় না। বিমানের মেইন জিনিস হল ইঞ্জিন। ইঞ্জিনের একটা লাইফ আছে। ইঞ্জিন বদল করে আরেকটা লাগালে বিমান নতুন হয়ে যায়। ৭৪৭ কত পুরনো এয়ারক্রাফট, কত ভালো চলছে।

তবে দুর্ঘটনার শিকার ইউএস-বাংলার বিমানটির ইঞ্জিনের বিষয়ে তিনি কিছু বলতে পারেননি। বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, বিমানটি ঠিক ছিল বলেই তারা ছাড়পত্র পেয়েছিল।

সিভিল এভিয়েশন থেকে এয়ারওয়ার্দি সার্টিফিকেট না পেলে কেউ ফ্লাই করতে পারে না। এয়ারক্রাফটটির ব্যাপারে বলতে পারি এটা সকালে দুটো সর্টিং করে এসেছে। অলরেডি এটা তো টেষ্টেড। সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম দুবার যাবার পর এটা ছিল তার তৃতীয় ফ্লাইট। বিমানটি ভালো ছিল, এটা তো নিঃসন্দেহে প্রমাণিত।

ইউএস-বাংলার পাইলটকে বিমান চালাতে বাধ্য করা হয়েছিল কি না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, কোনো পাইলটকে অপারেশনে রাখা হবে কি না, সেটা নিজস্ব ব্যাপার। এখানে কী ঘটেছে, এটা নিশ্চিত না হয়ে বলা যাবে না।

আবিদ সুলতান সম্পর্কে বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, উনি খুব ভালো পাইলট। ভালো ক্রিকেট খেলতে পারত। আমার ছাত্র ছিল। অনেকেই বলেছে সে ড্যাশ-৮ এর ভালো পাইলট ছিল।

দূর্ঘটনার পর বিমানের ক্যাপ্টেন ও নেপালের টাওয়ারের কর্মকর্তার মধ্যকার যে কথোপকথন ইউটিউবে প্রকাশ হয়েছে, সে বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, এটা বিশ্বাসযোগ্য কি না, সেটা বড় একটা প্রশ্ন। সাধারণত এই ধরনের কথাগুলো ট্যাপ করা থাকে। ওইটা না আসলে তো কিছু নিশ্চিত করে বলা যায় না। ইউটিউবে আপ লেস হতে পারে। সেটা আপাতত দূরে রাখি।

ইউএস-বাংলা কর্তৃপক্ষের দাবি, ত্রিভুবন বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে পাইলটকে ভুল সঙ্কেত দেয়া হয়েছিল। অন্যদিকে বিমানবন্দরের কর্মকর্তারা বলছেন, তাদের নির্দেশনা অনুসরণ করেননি পাইলট।

বেবিচক চেয়ারম্যান নাইম বলেন,কীভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটল, সেটা নিয়ে বলার এখতিয়ার এখন আমার নেই। নেপালের একজন প্রাক্তন সচিবের নেতত্বে ছয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। তারপরও আমরা তিন সদস্যের একটি দল সেখানে পাঠিয়েছি। ওই দলটিকে প্রয়োজনীয় সাহায্য সহায়তা করা হবে।

নেপালের কর্মকর্তারা কিছু জানিয়েছেন কি না- জানতে চাইলে নাইম বলেন, ওই জায়গাটা খুব রেস্ট্রিকটেড। তারা সেখানে একটা যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা করছে। বাংলাদেশের সিভিল এভিয়েশনের দল দেশে আসলে সেখানকার পরিস্থিতি বলতে পারব।

তিনি বলেন, বিমান ব্ল্যাকবক্সের তথ্য কোম্পানি ডিকোড করে পাঠানো হবে। সেটা গোপন করার কোনো উপায় নেই। বাংলাদেশে যারা ঘটনাটি তদন্তে জড়িত থাকবেন, তারা দ্রুত তদন্ত কাজ শেষ করবেন বলে আশা করেন বেবিচক চেয়ারম্যান।

ডেইলি বাংলাদেশ/এলকে

সর্বাধিক পঠিত