বিভিন্ন প্রকার নফল রোজার পরিচয়, ফজিলত ও বিধানসমূহ

ঢাকা, বুধবার   ২৭ মে ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ১৪ ১৪২৭,   ০৪ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

বিভিন্ন প্রকার নফল রোজার পরিচয়, ফজিলত ও বিধানসমূহ

ধর্ম ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:০৬ ১০ এপ্রিল ২০২০   আপডেট: ১৬:৫৮ ১০ এপ্রিল ২০২০

হাদিসে কুদসিতে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন যে ‘আল্লাহ তায়ালা বলেন, রোজা আমারই জন্য, আমি নিজেই তার প্রতিদান দেব; রোজা আমারই জন্য আমি নিজেই তার প্রতিদান।’ (বুখারি ও মুসলিম)।

হাদিসে কুদসিতে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন যে ‘আল্লাহ তায়ালা বলেন, রোজা আমারই জন্য, আমি নিজেই তার প্রতিদান দেব; রোজা আমারই জন্য আমি নিজেই তার প্রতিদান।’ (বুখারি ও মুসলিম)।

ফরজ ও ওয়াজিব রোজা ছাড়া অন্যান্য রোজাকে নফল রোজা বলা হয়। নফল মানে অতিরিক্ত, ফরজ বা ওয়াজিব নয়। মূলত এই নফল রোজা দুই প্রকার। প্রথম প্রকার হলো নির্ধারিত বা রাসূলুল্লাহ (সা.) কর্তৃক পালনকৃত, এই প্রকার রোজা সুন্নত। দ্বিতীয় প্রকার হলো অনির্ধারিত, এগুলো মুস্তাহাব। এই উভয় প্রকার রোজাকে সাধারণভাবে নফল রোজা বলা হয়ে থাকে।

নফল রোজার ফজিলত :

রোজার ফজিলত সম্পর্কে হাদিস শরিফে হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘প্রত্যেক বস্তুর জাকাত আছে, শরীরের জাকাত রোজা।’ (ইবনে মাজাহ, মিশকাত)। রাসূলুল্লাহ (সা.) আরো বলেন, ‘রোজা ঢালস্বরূপ এবং জাহান্নাম থেকে বাঁচার সুদৃঢ় দুর্গ।’ (নাসায়ি)।

আরো দেখুন>>> সূরা কাহাফের শিক্ষণীয় ঘটনা এবং বুদ্ধিমান লোকদের জন্য উপদেশ

হজরত ইবনে খুজাইমা ও হাকিম আবু ইমাম বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে তারা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (সা.)! আপনি আমাদের কিছু আমল করার উপদেশ দান করুন। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘রোজা অবলম্বন করো, এর সমকক্ষ কোনো আমল নেই।’ তারা পুনরায় বললেন, আমাদের কোনো আমল বলে দিন। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘রোজা অবলম্বন করো, এর সমতুল্য কোনো আমল নেই।’ তারা পুনরায় একই প্রার্থনা করলেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) পুনরায় একই আদেশ করলেন। (সুনানু নাসায়ি)।

হজরত মুআজ ইবনে আনাস (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন ‘যে ব্যক্তি রমজান মাস ছাড়া অন্য সময় আল্লাহ তায়ালার জন্য একটি রোজা রাখবে; দ্রুতগামী ঘোড়া ১০০ বছরে যত দূর রাস্তা অতিক্রম করতে পারে, দোজখ তার কাছ থেকে তত দূরে অবস্থান করবে।’ (তিরমিজি ও নাসায়ি)।
হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালার জন্য একটি রোজা রাখবে, আল্লাহ তায়ালা তার মুখমণ্ডল দোজখের আগুন থেকে ৭০০ বছরের রাস্তা দূরে রাখবেন।’ (বুখারি ও মুসলিম)।

হজরত আবু দারদা (রা.) ও হজরত আবু উমামা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ তায়ালার জন্য পালনকৃত একটি রোজার ফলে জাহান্নাম (ওই রোজাদার ব্যক্তি থেকে) আসমান-জমিনের দূরত্বে অবস্থান করবে।’ (তিরমিজি ও তাবরানি)।

হজরত ওমর (রা.) ও হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘দোজখ রোজাদার ব্যক্তি থেকে ১০০ বছরের দূরত্বে থাকবে।’ (তাবরানি)।

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আল্লাহর সন্তুষ্টি বিধানের জন্য যে ব্যক্তি একটি রোজা পালন করবে, একটি কাকের সারা জীবন উড়ে যত দূর পথ অতিক্রম করা সম্ভব, জাহান্নাম তার কাছ থেকে তত দূরে থাকবে।’ (তরিকুল ইসলাম)।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যদি কেউ এক দিন নফল রোজা রাখে, তবে তার যে সওয়াব হবে, তা পৃথিবীর সমান স্বর্ণ দান করলেও তার সমান হবে না।’ (তাবরানি ও আবু ইয়ালি)।

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘রোজাদার ব্যক্তির দোয়া কবুল হয়। (বায়হাকি)। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, হাদিসে কুদসিতে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন যে ‘আল্লাহ তায়ালা বলেন, রোজা আমারই জন্য, আমি নিজেই তার প্রতিদান দেব; রোজা আমারই জন্য আমি নিজেই তার প্রতিদান।’ (বুখারি ও মুসলিম)।

এখন আমার জেনে নিই বিভিন্ন প্রকার নফল রোজার পরিচয় ও ফজিলত ও বিধানসমূহ-

আইয়ামে বিজের নফল রোজা :

আইয়ামে বিজের রোজাকে সওমে আদম বা আদম (আ.) এর রোজা বলা হয়। হজরত আদম (আ.) ও মা হাওয়া (আ.) দুনিয়ায় আসার পর প্রথম তিনটি রোজা পালন করেন; যার বদৌলতে তারা আগের মতো জান্নাতি রূপ–লাবণ্য ও ঔজ্জ্বল্য ফিরে পান এবং এই দিনগুলোতে চাঁদ পূর্ণ শশীতে পরিণত হয়, রাতভর পূর্ণিমার জ্যোত্স্নালোক বিকিরণ করে বলে এই নামকরণ করা হয়েছে।

আইয়ামে বীজের অর্থ :

‘আইয়াম’ আরবি শব্দ, এর অর্থ হলো—দিবসসমূহ, কাল, সময় ইত্যাদি। এটি বহুবচন, এর একবচন হলো ‘ইয়াওম’, অর্থ হলো দিন বা দিবস। ‘বিজ’ বা ‘বিদ’ অর্থ শ্বেতবরণ, শুভ্রবর্ণ, ঔজ্জ্বল্য, সফেদ, সাদা রং ইত্যাদি। ‘আইয়াম বেজ’ বা ‘আইয়াম বিজ’ (পরিবর্তিত উচ্চারণে আইয়ুম বেজ) অর্থ শুক্লপক্ষীয় দিবস, চান্দ্র মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ। (বাংলা একাডেমি ব্যবহারিক বাংলা অভিধান)। 

আইয়ামে বিজে রোজা রাখা সুন্নত। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখো।’ (বুখারি ও মুসলিম)। হজরত কাতাদাহ (রা.) বলেন: ‘রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে রোজা রাখার নির্দেশ দিতেন এবং তিনি বলেন, তা এক বছরের রোজার সমতুল্য।’ (আবু দাউদ ও নাসায়ি)। রমজান মাসে যেহেতু পূর্ণ এক মাস রোজা ফরজ; তাই রমজানে আইয়ামে বিজের রোজা নেই।

সোমবারের নফল রোজা :

হজরত আয়িশা (রা.) বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ (সা.) সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখতেন। (তিরমিজি ও নাসায়ি)। সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ, আপনি সোমবার রোজা রাখেন কেন? তিনি বললেন, এই দিনে আমার জন্ম হয়েছে; তাই এই দিন রোজা রাখি। এখনো মদিনা শরিফে ব্যাপকভাবে এই আমল প্রচলিত আছে; প্রতি সোমবার মসজিদে নববীতে ইফতারের বিশেষ আয়োজন করা হয়, যা স্থানীয় জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে আয়োজন করে থাকেন।

বৃহস্পতিবারের নফল রোজা :

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘সোম ও বৃহস্পতিবার বান্দার আমল আল্লাহর দরবারে পেশ করা হয়; আমি চাই রোজা অবস্থায় আমার আমল উপস্থাপিত হোক।’ (তিরমিজি)। মক্কা শরিফে এই আমল আজও বিদ্যমান রয়েছে। মসজিদুল হারামের দোতলায় প্রতি বৃহস্পতিবার সরকারিভাবে ইফতারের আয়োজন করা হয়ে থাকে।

শুক্রবারের নফল রোজা :

শুক্রবারের নফল রোজা এক সপ্তাহের রোজার সমান। শবে জুমুআ বা জুমার রাতে নবীজি (সা.) মায়ের গর্ভে আগমন করেন বলে উল্লেখ আছে। তাই এই দিনটি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। 

তাসূআর নফল রোজা :

তাসূআ মানে নবম ও নবমী; এখানে তাসূআ বলতে মহররম মাসের ৯ তারিখ বোঝানো হয়েছে। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন, যখন রাসূলুল্লাহ (সা.) আশুরার দিনে রোজা রাখতেন এবং সেদিন রোজা রাখার নির্দেশ দেন, তখন (মদিনায় হিজরতের পর) লোকজন বলল, হে আল্লাহর রাসূল (সা.)! ইহুদি–নাসারারাও এই দিনকে সম্মান করে (রোজা রাখে)। তখন নবীজি (সা.) বললেন, আমরা আগামী বছর থেকে ৯ তারিখেও রোজা রাখব, ইনশা আল্লাহ! (মুসলিম)।

আশুরার নফল রোজা :

আশুরা অর্থ দশম ও দশমী। ইসলামের ইতিহাসে আশুরা দ্বারা মহররম মাসের ১০ তারিখ বোঝানো হয়। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) আশুরার দিনে রোজা রাখতেন এবং সেদিন রোজা রাখার নির্দেশ দিতেন। (বুখারি)। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) রমজানের রোজার পর আশুরার রোজাকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দিতেন। (বুখারি ও মুসলিম)। 

হজরত জাবির ইবনে সামুরা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদের আশুরার রোজা সম্পর্কে নির্দেশ দিতেন এবং উৎসাহিত করতেন। অতঃপর যখন রমজানের রোজা ফরজ হলো; তখন তিনি আমাদের (আশুরার রোজার বিষয়ে) হুকুমও দিতেন না, নিষেধও করতেন না। (মুসলিম)। মুজতাহিদ ফকিহদের মতে, আশুরা রোজার সঙ্গে ৯ তারিখ বা ১১ তারিখ আরো একটি রোজা রাখা সুন্নত।

রজব মাসের নফল রোজা :

হজরত উম্মে সালমা (রা.) বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (সা.) এর রোজা রাখা দেখে বুঝতে পারতাম রজব মাস এসেছে। তিনি রমজানে এক মাস রোজা রাখতেন, শাবানে ২০ দিন রোজা রাখতেন; রজবে ১০ দিন রোজা রাখতেন।

শাবান মাসের নফল রোজা :

হজরত আয়িশা (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) এত বেশি নফল রোজা রাখতেন; আমরা মনে করতাম তিনি আর রোজা ছাড়বেন না। তিনি কখনো রমজান ছাড়া কোনো মাসে পূর্ণ মাস রোজা পালন করেননি এবং শাবান অপেক্ষা বেশি নফল রোজা অন্য কোনো মাসে পালন করেননি। (বুখারি)।

মধ্য শাবানের নফল রোজা :

রাসূলুল্লাহ (সা.) রজব মাস এলে বলেন, যখন শাবানের মধ্য দিন (১৫ তারিখ) আসবে, তখন তোমরা রাতে ইবাদত করো এবং দিবসে রোজা রাখো। (বায়হাকি)।

শাওয়াল মাসের ছয়টি নফল রোজা :

হজরত আবু আইয়ুব আনসারি (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি রমজান মাসে রোজা রাখল এবং শাওয়াল মাসে ছয়টি রোজা পালন করল; সে যেন পুরো এক বছর রোজা পালন করল।’ (মুসলিম)। এই রোজা একাধারে বা বিচ্ছিন্নভাবেও রাখা যায়।

জিলহজ মাসের প্রথম দশকের নফল রোজা :

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনের ইবাদত আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয়। এর প্রতি দিনের রোজা এক বছরের রোজার সমান এবং প্রতি রাতের ইবাদত শবে কদরের ইবাদতের সমান।’ (তিরমিজি)। 

উল্লেখ্য যে জিলহজ মাসের ১ থেকে ৮ তারিখ সবাই রোজা পালন করতে পারবেন। ৯ তারিখে আরাফাতে অবস্থানকারীরা ছাড়া অন্যরা রোজা পালন করতে পারবেন। ১০ তারিখে অর্থাৎ কোরবানির ঈদের দিনে ভোর থেকে পশু জবাই করা পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত থাকলেই রোজা বলে গণ্য হবে এবং এই দিন কোরবানি করা পশুর মাংস দিয়ে প্রথম আহার করা মুস্তাহাব। এই দিন পূর্ণ দিবস রোজা রাখা বিধেয় নয়।

আরাফা দিবসের নফল রোজা :

জিলহজ মাসের ৯ তারিখ, হজের দিন; এই দিন হাজিরা মক্কা শরিফের আরাফা প্রান্তরে অবস্থান করা হজের ফরজের একটি; তাই এই দিনকে ইয়াওমুল আরাফা বা আরাফা দিবস বলা হয়। এই দিন হাজিরা ছাড়া অন্যদের জন্য রোজা পালন করা সুন্নত। হজরত কাতাদাহ (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আরাফা দিবসের রোজা তার আগের এক বছর ও পরের এক বছরের গুনাহের কাফফারা হয়ে যায়।’ (তিরমিজি)।

ইতিকাফের জন্য নফল রোজা :

পূর্ণ এক দিন নফল ইতিকাফ ও মানত বা কাজা ওয়াজিব ইতিকাফের জন্য নফল রোজা রাখতে হয়। এতে ইতিকাফের পাশাপাশি রোজার আলাদা ফজিলত লাভ হয়।

সওমে দাহার বা বছরব্যাপী নফল রোজা :

বছরে নিষিদ্ধ পাঁচ দিন তথা রোজার ঈদের দিন, কোরবানির ঈদের দিন ও তার পরের তিন দিন এবং হাজিদের জন্য আরাফাতের দিন ছাড়া অন্য সব দিন নফল রোজা রাখা জায়েজ। সারা বছর রোজা পালন করাকে সওমে দাহার বলে।

সওমে দাউদ বা দাউদী নফল রোজা :

নফল রোজা পালনের ক্ষেত্রে বিশেষ কোনো উপলক্ষ না থাকলে হজরত দাউদ (আ.) এর পদ্ধতি অনুসরণ সর্বোত্তম; অর্থাৎ এক দিন পর এক দিন রোজা রাখা। (বুখারি)।

ইয়া রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালা! আমাদেরকে রমজানের ফরজ এবং হাদিসে বর্ণিত বিভিন্ন প্রকারেরর নফল রোজাগুলো রাখার তাওফিক দান করুন। আমিন। 

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে