বিভাজনের রাজনীতি বিএনপির সৃষ্টি
SELECT bn_content.*, bn_bas_category.*, DATE_FORMAT(bn_content.DateTimeInserted, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeInserted, DATE_FORMAT(bn_content.DateTimeUpdated, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeUpdated, bn_totalhit.TotalHit FROM bn_content INNER JOIN bn_bas_category ON bn_bas_category.CategoryID=bn_content.CategoryID INNER JOIN bn_totalhit ON bn_totalhit.ContentID=bn_content.ContentID WHERE bn_content.Deletable=1 AND bn_content.ShowContent=1 AND bn_content.ContentID=197433 LIMIT 1

ঢাকা, শনিবার   ০৮ আগস্ট ২০২০,   শ্রাবণ ২৫ ১৪২৭,   ১৮ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

Beximco LPG Gas

বিভাজনের রাজনীতি বিএনপির সৃষ্টি

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:৪৫ ১ আগস্ট ২০২০   আপডেট: ১৪:১৮ ২ আগস্ট ২০২০

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর বিএনপি দেশকে অন্ধকারে নিয়ে যেতে শুরু করে। মুক্তিযুদ্ধবিরোধীদেরও বিভিন্নভাবে লালন-পালন করা শুরু করে দলটি। সেসময় তাদের দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হিসেবেও নিয়োগ দেয়া হয়। এ সময় দেশে সৃষ্টি হয় রাজনৈতিক বিভাজন।

বিএনপি ইনডেমনিটি অধ্যাদেশকে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে পাস করিয়ে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের পথ বন্ধ করে দেয়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি থেকে রক্ষা করার জন্য তৎকালীন রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমেদ এই ইনডেমনিটি (দায়মুক্তি) অধ্যাদেশ জারি করেন। মোশতাক আহমেদ অধ্যাদেশ জারি করলেও জিয়াউর রহমানই ছিলেন তখন সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। তিনি কর্নেল ফারুক, কর্নেল রশিদের মতো বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিদের রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ করেন।

জামায়াত নির্ভরতা বিএনপির আরেকটি বড় ভুল। জিয়াউর রহমান জামায়াতকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে পুনর্বাসিত করেছিলেন; আর খালেদা জিয়া শুরু করেন পুরোপুরি জামায়াত নির্ভর রাজনীতি। ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে একাত্তরের রাজাকার-আলবদরদের মন্ত্রী বানিয়ে তাদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা তুলে দেন খালেদা জিয়া। এসব ঘটনায় জামায়াত থেকে বিএনপিকে আর আলাদা করার সুযোগ হয়নি। জামায়াত-বিএনপি মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। এর ফলে দেশের তরুণ সমাজ, সেক্যুলার সমাজ, মুক্ত চিন্তায় বিশ্বাসী সমাজের আস্থাও হারিয়ে ফেলে বিএনপি।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপি সবচেয়ে বড় বিভাজন রেখাটি তৈরি করেছিলো ২০০৪ সালে একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার মাধ্যমে। ওই হামলার মাধ্যমে সন্ত্রাস প্রতিপালন ও প্রতিপক্ষকে নির্মূলের রাজনীতি চালু করেছিলো বিএনপি। তাই দলটিকে সবচেয়ে বড় সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

বিশ্লেষকরা বলেন, বিএনপির আরেকটি ভুল ছিলো- আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা সংলাপে বসার জন্য বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে টেলিফোন করেছিলেন। কিন্তু তাকে অগ্রাহ্য করেন খালেদা। সেসময় সংলাপে বসলে সব সমস্যার সমাধানের ক্ষেত্র প্রস্তুত হতো, এটাই বা কম কিসে?

ছেলে আরাফাত রহমান কোকো মারা যাওয়ার পর সান্তনা দিতে গুলশানে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু তাকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। গুলশান কার্যালয়ের সামনে থেকে ফিরে এসেছিলেন তিনি। এই ঘটনাটিকেও রাজনৈতিক মহল ভালো চোখে দেখেননি। বিএনপি এখানেও যে ভুল করেছে, তা হলফ করে বলে দেয়া যায়।

বিএনপির সর্বশেষ বড় ভুল হলো- ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে অংশ না নেয়া। রাজনৈতিক মহল মনে করেন, ওই নির্বাচনে অংশ নেয়াটা বিএনপির উচিত ছিলো। নির্বাচনে অংশ না নিয়ে তা প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়ে একাধারে তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে আন্দোলন কর্মসূচির নামে জ্বালাও পোড়াও করে বিএনপি। এতে উল্টো সব নেতাকর্মীরা মামলার জালে পড়েন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, ১৯৭৫ সালের পর বিএনপি দেশে রাজনীতির বিভাজন সৃষ্টি করে। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিদেশে পালিয়ে যেতে সাহায্য ও তাদের পুনর্বাসন করে দেশের রাজনীতিতে আরো বিভাজনের উঁচু দেয়াল সৃষ্টি করেছে বিএনপি।

ডেইলি বাংলাদেশ/জাআ/টিআরএইচ/এইচএন