বিবর্ণ বনলতা সেনের নাটোর
SELECT bn_content_arch.*, bn_bas_category.*, DATE_FORMAT(bn_content_arch.DateTimeInserted, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeInserted, DATE_FORMAT(bn_content_arch.DateTimeUpdated, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeUpdated, bn_totalhit.TotalHit FROM bn_content_arch INNER JOIN bn_bas_category ON bn_bas_category.CategoryID=bn_content_arch.CategoryID INNER JOIN bn_totalhit ON bn_totalhit.ContentID=bn_content_arch.ContentID WHERE bn_content_arch.Deletable=1 AND bn_content_arch.ShowContent=1 AND bn_content_arch.ContentID=35341 LIMIT 1

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ১৩ আগস্ট ২০২০,   শ্রাবণ ৩০ ১৪২৭,   ২৩ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

Beximco LPG Gas

বিবর্ণ বনলতা সেনের নাটোর

 প্রকাশিত: ১৪:৫৮ ২৯ এপ্রিল ২০১৮  

নাটোরের রাস্তায় এ দৃশ্য এখন অতীত

নাটোরের রাস্তায় এ দৃশ্য এখন অতীত

কৃষ্ণচূড়ার রঙ হারিয়ে নাটোর শহর হয়ে পড়েছে বর্ণহীন। বিগত এক দশক ধরে রাস্তার দু’ধারে শত শত কৃষ্ণচূড়ার গাছে ফুলের সমারোহ রঙ ছড়িয়ে শহরকে করে তুলত বর্ণময়। গ্রীষ্মের প্রচণ্ড খরতাপে বিশুদ্ধ অক্সিজেনের পাশাপাশি এসব গাছ দিয়ে আসছিল ক্লান্ত দেহে ছায়া আর মনে প্রশান্তির পরশ।

চলনবিলের শস্যরাজি, রাণী ভবানীর রাজত্ব, বনলতা সেনের কবিতার শব্দ, কাঁচাগোল্লার স্বাদেই শুধু নাটোরের পরিচিতি নয়। এক সময় নাটোরের পরিচিতি ছিলো দুষ্প্রাপ্য ফুলের শহর হিসেবেও।

নাটোরের সৌখিন রাজন্যবর্গ তাদের রাজবাড়ী চত্ত্বরকে সাজাতে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে নিয়ে আসেন অসংখ্য ফুল গাছ। গড়ে তোলেন পুষ্প রাজত্ব। নাটোরের রাণী ভবানী রাজবাড়ী আর উত্তরা গণভবনে এখনো শোভাবর্ধন করছে নাগালিঙ্গম, ম্যাগনোলিয়া, হৈমন্তি, সুরভিকা, এগপ্লান্ট, কর্পূর, পারিজাতের মত বিলুপ্ত প্রায় ফুলের গাছ। রাজাদের দেখাদেখি প্রজারাও ফুল চাষে উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন। দু’দশক আগেও নাটোর শহরের অসংখ্য বাড়ির শোভাবর্ধন করতো ফুলের বাগান। জীবনের জটিলতায় শহরে এখন ফুলের বাগান কমে গেছে। 
অতীত ঐতিহ্যকে বহমান রাখতে ২০০২ সালে ‘স্বজন সমাবেশ’ নামে একটি সামাজিক সংগঠন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করে। নাটোর পৌরসভার তৎকালীন চেয়ারম্যান  কামরুল ইসলামের সহযোগিতায় সারা শহরে রাস্তার দু’ধারে রোপণ করা হয় দু’হাজার স্থায়ী ফুলের গাছ। এর বেশীরভাগ ছিলো কৃষ্ণচূড়া, পাশাপাশি কাঞ্চন, সোনালু, কদম ইত্যাদি। 

নাটোর স্বজন সমাবেশের তৎকালীন সভাপতি ডা. আব্দুল হামিদ বলেন, পুষ্পিত নাটোর কর্মসুচি বাস্তবায়নের ফলে মাত্র পাঁচ বছরের মধ্যে গাছের ফুল রঙ ছড়াতে শুরু করে। নাটোর হয়ে ওঠে পুষ্পিত নাটোর।

সংগঠনের ঐ সময়ের সাধারন সম্পাদক ফারাজী আহম্মদ রফিক বাবন বলেন, কর্মসুচির উদ্দেশ্য ছিলো বসন্তে কাঞ্চন, গ্রীষ্মে কৃষ্ণচূড়া, সোনালু আর বর্ষায় কদম শহরকে সুশোভিত করবে, সুরভিত করবে। 

গ্রীষ্মের দাবদাহে গাছের ছায়া রাস্তার দু’ধারে থাকা ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে স্বস্তি এনে দিয়েছিল। আর এর ছায়ায় বসেছে চা, পিয়াজু-বেগুনী, কাপড়ের দোকান আর সাইকেল গ্যারেজ। গাছগুলোর ছায়া শ্রমজীবীদের জন্যে পরম স্বস্তির।

শহরের মূল সড়ক প্রশস্তকরণ কাজ শুরু হলে সম্প্রতি ‘পুষ্পিত নাটোর’-এর প্রায় সব ফুলের গাছই কাটা পড়ে। এক দশক ধরে কৃষ্ণচূড়ার রঙ ছড়ানো শহর হিসেবে পরিচিতি পাওয়া নাটোর এখন বিবর্ণ।

নাটোর সরকারি বালিকা বিদ্যালয় সংলগ্ন একটি আর গীতি সিনেমা হলের সামনে বেঁচে যাওয়া দু’টি কৃষ্ণচূড়া গাছ এখনো রঙ ছড়াচ্ছে। কিন্তু পাঁচ কিলোমিটার সড়কের অন্য কোথাও কৃষ্ণচূড়ার গাছ নেই, নেই রঙের বর্ণচ্ছটা। কলেজ শিক্ষক ও সঙ্গীত প্রশিক্ষক মাসুমা সুলতানা রুপা বললেন, কৃষ্ণচূড়ার শূণ্যতা ছন্দময় শহরকে গদ্যময় করে দিয়েছে। 

সংগঠক জুলফিকুল হায়দার বাবু বলেন, গাছগুলো ছিল আমাদের সন্তানের মত। গাছ আর ফুলের দিকে তাকালে চোখ জুড়িয়ে যেত। আর এখন হাহাকারে বুক ভরে যায়।

নাটোর সদর উপজেলায় সহকারি কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে বর্তমানে বেড়া উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী ফারজানা খানম বলেন, গ্রীষ্মের খরতাপে ‘দু’দণ্ড শান্তি’র পরশ হয়ে ছিল শহরের কৃষ্ণচূড়া গাছগুলো। এত রঙের বর্ণচ্ছটা অন্য শহরে আছে বলে আমার জানা নেই। আশা করি গাছগুলোর শূণ্যতা পূরণে ‘পুষ্পিত নাটোর’ কর্মসুচির মত নতুন কর্মসুচি বাস্তবায়নে কোনো সামাজিক সংগঠন এগিয়ে আসবে।

নাটোরের জেলা প্রশাসক শাহিনা খাতুন বলেন, শহরে নির্মিতব্য রাস্তার মাঝে চার ফুট প্রশস্ত মিডিয়ানের মধ্যে ফুলের গাছ লাগিয়ে শহরকে পুষ্পিত করার উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে। এছাড়া কিছু ফুলের চারা তৈরি করা হয়েছে-যা শহরের সৌন্দর্য বর্ধনের জন্যে পরিকল্পিতভাবে রোপণ করা হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আজ