Alexa বিনা অপরাধে একদিন কারাভোগ করলেন ‘তোতলা’ মিজান

ঢাকা, বুধবার   ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০,   ফাল্গুন ১৩ ১৪২৬,   ০২ রজব ১৪৪১

Akash

বিনা অপরাধে একদিন কারাভোগ করলেন ‘তোতলা’ মিজান

যশোর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:২১ ২২ জানুয়ারি ২০২০   আপডেট: ২১:২২ ২২ জানুয়ারি ২০২০

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

যশোরে বিস্ফোরক মামলার আসামি হলেন ‘পাগলা’ মিজান। কিন্তু ভুল করে দিনমজুর মিজানুর রহমান ওরফে ‘তোতলা’ মিজানকে থানায় নিয়েছে পুলিশ। এতে বিনা অপরাধে একদিন কারাভোগ করতে হয়েছে তাকে।

মঙ্গলবার ভোরে পুলিশ মিজানকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর ভুল বুঝতে পেরে বুধবার আদালতে প্রতিবেদন দিলে জামিন মেলে তার। সন্ধ্যায় তিনি কারাগার থেকে মুক্ত হন।

দিনমজুর মিজান সদর উপজেলার খোলাডাঙ্গা গ্রামের নূরুল ইসলামের ছেলে। আর বোমা বিস্ফোরক মামলার আসামি মিজানুর রহমান ওরফে পাগলা মিজান পার্শ্ববর্তী সুজলপুর হঠাৎপাড়া গ্রামের নূরুল হাওলাদারের ছেলে।

২০১৫ সালের ২৮ জানুয়ারি শহরতলির সুজলপুর জামতলা আকবর মিয়ার রড ফ্যাক্টরির সামনে খোলাডাঙ্গা গ্রামের সাগর, তাহের, সুজলপুরের হঠাৎপাড়ার পাগলা মিজান, নাজু, জাহাঙ্গীর, রিপন, রনি ও রবিউলসহ ১০-১২ জন নাশকতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে লেখা কিছু পোস্টার লাগাচ্ছিলেন। 

ওই সময় তাদের পোস্টার লাগাতে নিষেধ করেন সুজলপুর গ্রামের আব্দুস সালাম মিঠু। এতে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে মিঠুকে লক্ষ্য করে কয়েকটি বোমা নিক্ষেপ করেন। পরে তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে সাগর ও তাহেরকে দুইটি বোমাসহ আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। এ ঘটনায় আটজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো দুজনের বিরুদ্ধে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন মিঠু।

মামলাটি তদন্ত করে আটজনের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আদালতে চার্জশিট দেন এসআই হায়াৎ মাহমুদ খান। মামলার চার্জশিটে এক আসামির নাম মিজানুর রহমান ওরফে পাগলা মিজান। বাবার নাম নূরুল হাওলাদার ও গ্রামের নাম সুজলপুর হঠাৎপাড়া উল্লেখ করা হয়। অথচ মঙ্গলবার ভোরে খোলাডাঙ্গা গ্রামের নূরুল ইসলামের ছেলে মিজানুর রহমান ওরফে তোতলা মিজানকে গ্রেফতার করেন কোতোয়ালি মডেল থানার এএসআই আল মিরাজ খান। এ সময় মিজান জাতীয় পরিচয়পত্র দেখাতে চাইলে ওই দারোগা কর্ণপাত করেননি।

ভুক্তভোগী মিজান মঙ্গলবার বিকেলে আদালতের বারান্দায় জানান, তিনি স্যানিটারি মিস্ত্রির কাজ করে সংসার চালান। তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয়নি। কিন্তু দারোগা কোনো কথা না শুনেই তাকে গ্রেফতার করেন।

যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশের ঊধ্বর্তন কর্মকর্তারা অবহিত হন। পরে তারা খোঁজখবর নিয়ে ভুল বুঝতে পারেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার আদালতে বিষয়টি জানানো হলে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মাহাদি হাসান তার জামিন মঞ্জুর করেন।

গেল বছর ১৭ ফেব্রুয়ারি যশোরে মিঠু শেখ হত্যা মামলায় চার্জশিটভুক্ত আসামি জনির পরিবর্তে সবুজ বিশ্বাস নামে নিরপরাধ এক যুবককে ধরে জেলে দেয় পুলিশ। সবুজের বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে আদালতের বিচারক এ ঘটনায় তদন্ত কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেছিলেন।

৯ ডিসেম্বর যশোরের চৌগাছায় আসামির সঙ্গে নামের মিল থাকায় আহাদ আলী দফাদারের ছেলে আব্দুল আজিজকে কারাভোগ করতে হয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর