ঢাকা, শুক্রবার   ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯,   ফাল্গুন ৯ ১৪২৫,   ১৬ জমাদিউস সানি ১৪৪০

বিদ্যুৎ আমদানিতে নেপালের সঙ্গে সমঝোতা সই

নিউজ ডেস্ক

 প্রকাশিত: ১৭:১৩ ১০ আগস্ট ২০১৮   আপডেট: ১৭:১৩ ১০ আগস্ট ২০১৮

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

জলবিদ্যুৎ আমদানির লক্ষ্যে নেপালের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকে সই করেছে বাংলাদেশ। বিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতা বাড়াতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করছে বাংলাদেশ সরকার।

শুক্রবার দুপুরে কাঠমাণ্ডুতে ওই সমঝোতা স্মারকে সই করেন বাংলাদেশের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু ও নেপালের জ্বালানিমন্ত্রী বর্ষা মান পুন অনন্ত।

চুক্তির পর নেপাল সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে নসরুল হামিদ বলেন, অনেক অপেক্ষার পর এ চুক্তি হল। দুই দেশেরই উন্নয়নে সহযোগিতা আরো বাড়ানো দরকার। বিদ্যুৎ, যোগাযোগসহ সব ক্ষেত্রেই এ সহযোগিতার প্রয়োজন।

নসরুল হামিদ বলেন, নেপালে ৪০ হাজার মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। এখানে বাংলাদেশের সরকারি বা বেসরকারি কোম্পানিগুলো ভবিষ্যতে বিনিয়োগ করে সে বিদ্যুৎ দেশে নিতে পারবে।

নেপালের জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, নেপাল এখন ভারত থেকে ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করলেও আগামী ১০ বছরে ১৫ হাজার মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যার বাস্তবায়নও এরইমধ্যে শুরু হয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার নেপালে পৌঁছানোর পর শুক্রবার সকালে দেশটির প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন নসরুল হামিদ। এর পর জ্বালানিমন্ত্রীর সঙ্গে একান্ত ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

বিদ্যুৎ খাতে দুই দেশের সহযোগিতা বাড়াতে এই সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ এবং একটি স্টিয়ারিং কমিটি কাজ করবে। চুক্তির সময় নেপালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতসহ দুই দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিদ্যুৎ খাতে দুই দেশের সহযোগিতা বাড়াতে এই সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ এবং একটি স্টিয়ারিং কমিটি কাজ করবে। জলবিদ্যুত তুলনামূলকভাবে সস্তা ও পরিবেশবান্ধব। বাংলাদেশে এর উৎপাদন সম্ভাব না হওয়ায় নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে এ বিষয়ে সহযোগিতা বাড়াতে কাজ চালিয়ে আসছে বর্তমান সরকার। নেপাল থেকে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করতে গতবছর ভারতের একটি কোম্পানির সঙ্গে সমঝোতাও হয়েছে।

ভারতের জিএমআর এনার্জি নেপালে ’আপার কারনালি’ প্রকল্পের আওতায় ৯০০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার একটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের কাজ শুরু করেছে। এই কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কেনার জন্য গত বছর জিএমআরইয়ের সঙ্গে ওই সমঝোতা স্মারকে সই করে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। ভারত হয়ে আন্তঃদেশীয় গ্রিড লাইনের মাধ্যমে এই বিদ্যুৎ আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

বাংলাদেশ এরইমধ্যে ভারত থেকে বহরমপুর হয়ে ৫০০ মেগাওয়াট এবং ত্রিপুরা থেকে ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করছে। ভবিষ্যতে ভারত থেকে আরো বিদ্যুৎ আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআরকে