বিদ্যালয়ের অপেক্ষায় শিশুরা

ঢাকা, শুক্রবার   ২৪ মে ২০১৯,   জ্যৈষ্ঠ ৯ ১৪২৬,   ১৮ রমজান ১৪৪০

Best Electronics

বিদ্যালয়ের অপেক্ষায় শিশুরা

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

 প্রকাশিত: ১৫:২৩ ৭ ডিসেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১৬:৫২ ৭ ডিসেম্বর ২০১৮

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে ফেনারবাঁক ইউপির দক্ষিণ সীমান্তে রসুলপুর গ্রাম। সেখানে দেড় শ পরিবারের বাস। রয়েছে তিন শতাধিক শিশু। এলাকায় নেই কোন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠান না থাকায় শিক্ষা বঞ্চিত হচ্ছে শিশুরা। জনসাধারণের দাবি থাকলেও বিদ্যালয় স্থাপনে বিলম্ব হচ্ছে। এতে সন্তানের ভবিষত নিয়ে চিন্তায় রয়েছে এলাকাবাসী।

চার দশক আগে রসুলপুরে কয়েকটি পরিবার বাস শুরু করে। কৃষি আর মৎস্য আহরণ তাদের প্রধান পেশা। শুরু থেকেই অবহেলায় গ্রামটি। জরাজীর্ণ দুটি মসজিদ ও নামমাত্র কবরস্থান আছে। নেই কোন প্রাথমিক বিদ্যালয়। গ্রামের শিশুরা সকালে বিল-হাওরে শালুক, শামুক ও ঝিনুক আর সিংরা (স্থানীয় জলজ ফল) সংগ্রহে ব্যস্ত থাকে। অনেকে মাঠে গরু চরা, গোবর সংগ্রহ করে। গোবর দিয়ে জ্বালানি হিসেবে (চটা বা মুটিয়া) তৈরি ও বিক্রি করে সংসার চালাতে সহায়তা করে। বিকেলে খেলাধুলা করে মাঠ কাঁপিয়ে তোলে। লেখাপড়া তাদের কাছে অজানা বিষয়। এমন চিত্র দেখা গেছে এ গ্রামে।

গ্রামের মুরুব্বি আবুধন, এবাদনুর  জানান, আমরা মূর্খ। আমাদের বাচ্চারাও মূর্খ থাকবে। স্কুল নেই, লেখা-পড়া কোথায় করবে।

মসজিদের মোতাওল্লি নুরুজ আলী, সাক্কাছ আলী ও আব্দুল হেকিম জানান, বিদ্যালয়ে না থাকলে ছেলে-মেয়েদের পরিপূর্ণ মানুষ করতে পারবনা। আমরা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য জমি দিয়েছি। তবে চার বছর ধরে বিদ্যালয় নির্মাণ হচ্ছে না।

জাহানুর কাজী জানান, আমাদের বাড়িতে একটা স্কুল হয়েছে। ৩০ বাচ্চা পড়ায়। এটি আরডিআরএস’র স্কুল। এদিকে, গ্রামের মাতব্বররা বিদ্যালয় স্থাপনের জন্য উপজেলায় লোক পাঠান। তারা বালু, রড, সিমেন্ট, পাথর আসছে, বর্ষাকালে আসবে, হেমন্তকালে আসবে বলে জানায়। স্থানীয় এমপি বিদ্যুৎ দেয়ার কথা বলেছেন। লেখাপড়া না জানলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যাবে। আগে বিদ্যালয় প্রয়োজন।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মীর আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে গ্রামে কমপক্ষে ২ হাজার লোকের প্রয়োজন। যা রসুলপুরে হয়নি। এ ছাড়াও বিদ্যালয়ের নামে জমি দানের বিষয়ে গড়মিল রয়েছে।

উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুস সাত্তার বলেন, এই রসুলপুর গ্রামে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণের জন্য ছয়বার টেন্ডার হয়েছে। ৪৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দের এই নির্মাণের কাজ কোন ঠিকাদার গ্রহণ করেনি। বর্তমান সরকারের বিদ্যালয় ছাড়া ১ হাজার গ্রামে বিদ্যালয় স্থাপনের নতুন প্রকল্পের মধ্যে রসুলপুর গ্রামের বিদ্যালয় অর্ন্তভূক্ত আছে।


ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ

 

Best Electronics