ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯,   ফাল্গুন ৯ ১৪২৫,   ১৫ জমাদিউস সানি ১৪৪০

বিদেশি ফলের দখলে ফেনীর বাজার

ফেনী প্রতিনিধি

 প্রকাশিত: ০২:৩৯ ৪ জানুয়ারি ২০১৯   আপডেট: ০২:৩৯ ৪ জানুয়ারি ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

দেশি ফলের পর্যাপ্ত চাষাবাদ না হওয়া ও স্বল্পতার কারণে ফেনীর ফলের বাজার দখলে নিয়েছে বিদেশি ফল। খুচরা বাজারে মহিপাল ফলের আড়ৎগুলো গড়ে প্রতি মাসে যেখানে বিদেশি ফল বিক্রি করে ১৩ কোটি টাকার, সেখানে দেশি ফল বিক্রি হয় এখনো ৩ কোটি টাকার মধ্যে। 

বর্ষায় সময় দেশি ফলের ভরা মৌসুম হওয়া সত্বেও বাজারে আগের মত অতোটা সহজলভ্য ছিলো না দেশি পেয়ারা, আমড়া, কামরাঙা, কাঁঠাল, জাম্বুরা, লটকন, আনারস, বিলাতি গাব, আমলকিসহ আরো বহু দেশি ফল। বরঞ্চ এ সময় বাজার দখল করে আছে অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, সাউথ আফ্রিকা, ইন্ডিয়া, চায়না ও নিউজিল্যান্ডের মাল্টা, নাশপাতি, আঙ্গুর, আপেল, আনার, স্ট্রবেরী ও ড্রাগনসহ নানা রকমের বিদেশি ফল। এছাড়া খেজুরও আমাদের দেশে আসে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে। শুধু বর্তমান বলেই নয়, পুরো বছর জুড়েই এসব বিদেশি ফল বাজার দখল করে আছে বহুদিন ধরে। অবশ্য আশার কথা হচ্ছে- আমের মৌসুমে বাজারে সরবরাহকৃত প্রায় সব আমই দেশি। 

বিভিন্ন আড়তে আলাপচারিতায় জানা গেছে, ফেনীর মহিপালে রয়েছে ছোট-বড় অন্তত ১২০টির অধিক ফলের আড়ৎ। তন্মধ্যে প্রায় একশটি আড়তে আম ছাড়া বিক্রি হয়না দেশি কোন ফল। অন্যদিকে মাত্র ২০টিতে বিক্রি হয় দেশি ফল। কথা বলে আরো জানা যায়, এসব আড়ত থেকে খুচরা বাজারে বিদেশি ফল বাবদ প্রতিমাসে বিক্রি হয় কমপক্ষে ১২ কোটি টাকা। আর দেশি ফল বিক্রি এখনও থেমে আছে ২ কোটি টাকার নিচে। 

দেশি ফল বিদেশি ফলের তুলনায় অনেক বেশি পুষ্টিগুণ সম্পন্ন। শুধুমাত্র আভিজাত্যের দোহাই দিয়ে আমরা নিজেরা যেমন বিদেশি ফল খেতে অভ্যস্ত তেমনি বেড়াতে যেতেও বিদেশি ফল ছাড়া যেন চলে না। অথচ বিদেশ থেকে আসা এসব ফল কমপক্ষে ২ থেকে ৩ মাস পর্যন্ত সংরক্ষনের লক্ষ্যে প্রক্রিয়াজাতকৃত।  

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানিয়েছে, ফেনী-নোয়াখালী অঞ্চলে নারিকেল ছাড়া তেমন কোন ফল বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ হয় না। অথচ বাণিজ্যিক উপায়ে চাষাবাদ করলে সব দেশি ফলই অধিক পরিমাণে উৎপাদন সম্ভব। শুধু তাই নয়, বর্তমানে বিদেশি ফলের মধ্যে থাই পেয়ারা, খেজুর, স্ট্রবেরী ও অ্যাভাকাডো কিউই বা ড্রাগন ফ্রুট আমাদের দেশে চাষাবাদ হচ্ছে। এছাড়া বেলে মাটিতে মাল্টার চাষাবাদও করা সম্ভব বাণিজ্যিক ভিত্তিতে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর ফেনীর অতিরিক্ত উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, অতিতের  তুলনায় বর্তমান সময়ের তরুণ-তরুণীরা দেশি অনেক ফলই চিনে না। প্রত্যেকের বাড়িতে দেশি ফলের বেশি বেশি চাষাবাদ করে উৎপাদনে ভূমিকা রাখা উচিত।

মহিপাল ফল আড়ৎদার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, চাহিদার ভিত্তিতে বাজারে পণ্যের বিপনন নির্ভর করে। দেশি ফলের স্বল্পতা দূর হওয়া, চাষাবাদ ও ব্যবহার বৃদ্ধি হওয়া দরকার।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম