Exim Bank
ঢাকা, সোমবার ২১ মে, ২০১৮
iftar
বিজ্ঞাপন দিন      

বিতর্কিত ৩ ছাত্রনেতার জন্য মাঠে সিন্ডিকেট

 ইদ্রিস আলম ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:২৫, ১৪ মে ২০১৮

আপডেট: ১৬:২৩, ১৪ মে ২০১৮

২১৫৬২ বার পঠিত

বিতর্কিত ছাত্রলীগ নেতা শামীম, সাদ্দাম ও সাইফ বাবু ছবি- ডেইলি বাংলাদেশ

বিতর্কিত ছাত্রলীগ নেতা শামীম, সাদ্দাম ও সাইফ বাবু ছবি- ডেইলি বাংলাদেশ

বিতর্কিত তিন ছাত্রনেতাকে ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতৃত্বে আনতে এবার মাঠে নেমেছে সিন্ডিকেট।

ছাত্রলীগের ২৯ তম জাতীয় সম্মেলনে কিছুটা কোণঠাসা হয়ে যাওয়ার পর আবারো সক্রিয় হয়ে উঠেছে পুরোনো সিন্ডিকেট। এবার বিতর্কিত `তিন নেতা`কে শীর্ষ নেতৃত্বে আনতে মরিয়া হয়ে উঠেছে তারা। সিন্ডিকেটের শীর্ষ নেতৃত্ব ওই কাজে মাঠে নামিয়েছে সদ্য সাবেক সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেনকে। এছাড়া লন্ডন থেকে ফিরে সাবেক এক সাধারণ সম্পাদক ও শিবির হিসেবে পরিচিত মহানগর ছাত্রলীগ দক্ষিণের সদ্য সাবেক এক নেতাও সিন্ডিকেটের হয়ে মাঠে সক্রিয়।  

২০১৭ সালের ২১ নভেম্বর মগবাজারের একটি আবাসিক হোটেলে নারীসহ আপত্তিকর অবস্থায় ধরা পড়ে বির্তকিত তিন ছাত্রলীগ নেতা। মগবাজারের হোটেলে ওই তিন ছাত্রনেতার যাতায়াত দীর্ঘদিনের। ওয়ারলেস গেটের ওই হোটেলের পাশের এক দোকানদার তিনজনকে ওই হোটেলে নারীসহ নিয়মিত যাতায়াত করতে দেখেছেন। সেই দোকানদারই ঘটনার দিন আশে-পাশের মানুষকে জড়ো করে হাতে-নাতে ধরেন ওই তিন ছাত্রনেতাকে। বির্তকিত তিনজন- পরিকল্পনা ও কর্মসূচি বিষয়ক উপ-সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম শামীম, উপ-আইন সম্পাদক হুসেইন সাদ্দাম ও প্রচার সম্পাদক সাইফ বাবু।

মাজহারুল ইসলাম শামীম:

বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ছাত্রদলের সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন শামিম। পরে কেন্দ্রীয় নেতা হলেও ২০১৪ সালের নির্বাচনের সময় রাজনীতি না করার ঘোষণা দিয়ে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। শামিমের পরিবারের একাধিক জন বিরুদ্ধে বিএনপির জ্বালাও-পোড়াও রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে মামলা রয়েছে। শামিম ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি লিয়াকত শিকদার ও বর্তমান সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগের একনিষ্ঠ অনুসারি হিসেবে পরিচিত।

হুসেইন সাদ্দাম:

নারী কেলেঙ্কারী, মাদকাসক্তি ও মাদকব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে হুসেইন সাদ্দামের বিরুদ্ধে। তার পরিবারের অনেকই জামায়াত ও বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে তার মাদকের দুটি সিন্ডিকেট রয়েছে বলেও একটি সূত্র জানিয়েছে। নারীসহ পুলিশের হাতে ধরা পড়ার কথাও নিশ্চত করেছে দলীয় একাধিক সূত্র। পরবর্তীতে মুচলেকা দিয়ে রেহাই পান সাদ্দাম।

সাইফ বাবু:

শিবির থেকে আসা সাইফবাবু ২০১৬ সালে সিন্ডিকেটের আর্শীবাদে ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক হন। এরআগে ছাত্রলীগে তার কোনো পদ-পদবী ছিল না। অথচ কোনো ধরনের দাগ-খতিয়ান ছাড়াই সাইফ বাবু সরাসরি কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক বনে যান সিন্ডিকেটের নেক-নজরে। নীলক্ষেত এলাকা থেকে লাখ লাখ টাকার চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

দলীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, শিবিরের সঙ্গে এখনও তার ঘনিষ্টতা রয়েছে। নেতৃত্ব আসার দৌড়ে শিবির বড় অংকের টাকা অর্থায়ন করেছে সাইফ বাবুর জন্য। উদ্দেশ্য পরবর্তীতে যেন শিবির ছাত্রলীগকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

তূনমূলের নেতাকর্মীরা চান, ছাত্রলীগে স্বচ্ছ ইমজের প্রকৃত কর্মীরা নেতৃত্বে আসুক। তারা মনে করেন, চেতনায় বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশ- এই তিনকে ধারণ করে নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হলে ছাত্র আন্দোলনের সঠিক পথে এগোবে ঐতিহ্যের ধারক বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।

ডেইলি বাংলাদেশ/এলকে

সর্বাধিক পঠিত