Alexa বিজ্ঞান বিভাগে পড়ে বিবিএতে সেরা, পাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক 

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০,   ফাল্গুন ৭ ১৪২৬,   ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৪১

Akash

বিজ্ঞান বিভাগে পড়ে বিবিএতে সেরা, পাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক 

হাবিপ্রবি প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:০২ ২৩ জানুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৬:৫৭ ২৩ জানুয়ারি ২০২০

ছবিঃ ডেইলি বাংলাদেশ

ছবিঃ ডেইলি বাংলাদেশ

হাজী মোহাম্মদ দানেশ ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগ থেকে সর্বোচ্চ সিজিপিএ পেয়েছেন জিনাত রেহেনা। ‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক-২০১৮’ পাচ্ছেন তিনি। তার সফলতার গল্প বলছেন মিরাজুল মিশকাত। 

ছোটবেলা থেকেই মেধাবী ছিলেন। দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকেই পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিতে বোর্ড বৃত্তি পান। মা-বাবার ইচ্ছে ছিলো মেয়ে ডাক্তার হবে। রেহেনা সে স্বপ্ন নিয়ে নবম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। এসএসসিতে জিপিএ- ৫ পেলেন। দিনাজপুর সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসিতে পেলেন জিপিএ-৫। 

এরপর মেডিকেল কলেজে ভর্তির পালা। নিজেকে প্রস্তুত করতে ভর্তি হন রেটিনা কোচিং সেন্টারে। বেশ ভালোই ছিলো প্রস্তুতি। তবে ভাগ্যের কাছে হার মানতে হয়েছে। তবুও থেমে যাননি। হতাশা দূরে ঠেলে বাবার সমর্থনে নিজেকে প্রস্তুত করেন। প্রস্তুতি নেন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবার। শেষ পর্যন্ত ভর্তি সুযোগ পান হাজী মোহাম্মদ দানেশ ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি, প্রকৌশল ও ব্যবসায় অনুষদে।

ব্যাংকিং সেক্টরে চাকরি করার প্রবল ইচ্ছায় ভর্তি হন বিবিএতে। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে বিবিএ পড়তে প্রথম প্রথম একটু সমস্যার মুখে পড়লেও পরে তা কাটিয়ে উঠেন। ১ম সেমিস্টারেই সিজিপিএ করে ফেলেন ৩.৮৬! এই রেজাল্টই  অনুপ্রেরণা যোগায় পরবর্তী সেমিস্টারগুলো আরো ভালো করার।

রেহেনা বলেন, নির্দিষ্ট কোনো সময় নিয়ে পড়তাম না। আগ্রহের সঙ্গে নিজের মতো করে বুঝে শুনে পড়েছি। গ্রুপ স্টাডি করেছি। গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলো সবাইকে বুঝানোর কাজটি করতাম। সহশিক্ষা কার্যক্রমের মধ্যে স্কিল ডেভেলপমেন্ট, কম্পিউটারের বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করেছি। 

বর্তমান বিশ্ব অনেক চ্যালেঞ্জিং তাই বর্তমান সময়ের যুগের চাহিদা অনুসারে শিক্ষার্থীদের দক্ষ হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। শুধু সিজিপিএ নির্ভর না হয়ে সব বিষয়ে জ্ঞান রাখার আহবান করেন রেহেনা। শিক্ষাজীবনেই নিজের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন সংগঠন বা কোর্সে যুক্ত হওয়ার পরামর্শ তার।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, মুখস্ত করে লেখাপড়া না করে যতটুকু সময় পড়তে চাও তা মন উড়ার করে দিয়ে পড়। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন সিটের মধ্যে আবদ্ধ রা রেখে যে লক্ষ্যে পৌঁছতে চাও তার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করো। সফলতা আসবে কিন্তু পাড়ি দিতে হবে পাহাড় সমান বাধা।
 
এমন ফলাফলের কৃতজ্ঞতা মা-বাবাকে দিয়ে তিনি বলেন, লেখাপড়ার বিষয়ে মা-বাবা সবসময় ছায়া হয়ে পাশে ছিলেন। এছড়াও শিক্ষক ও বন্ধু বান্ধবরা সবসময় অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন। তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।

ভবিষ্যৎ পেশা হিসেবে শিক্ষকতা তার প্রথম পছন্দ। এছাড়া ব্যাংকিং সেক্টর যাওয়ারও আগ্রহ রয়েছে তার। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম