বিজিবি’র সাবেক মহাপরিচালক হিসেবে জেনারেল আজিজ আহমেদের অবদান

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৮ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ৪ ১৪২৬,   ১৩ শাওয়াল ১৪৪০

(পর্ব-১)

বিজিবি’র সাবেক মহাপরিচালক হিসেবে জেনারেল আজিজ আহমেদের অবদান

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০৯:৪৬ ২৪ মে ২০১৯   আপডেট: ০৯:৪৭ ২৪ মে ২০১৯

ছবি: ২০১৫ সালের ২০ ডিসেম্বর বিজিবি ডে উপলক্ষ্যে প্যারেডে স্যালুট গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী

ছবি: ২০১৫ সালের ২০ ডিসেম্বর বিজিবি ডে উপলক্ষ্যে প্যারেডে স্যালুট গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী

জেনারেল আজিজ আহমেদ, বিএসপি, বিজিবিএম, পিবিজিএম, বিজিবিএমএস, পিএসসি, জি, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৬ তম ও বর্তমান সেনাপ্রধান। বর্তমান দায়িত্বে নিয়োজিত হওয়ার পূর্বে অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের পাশাপাশি ২০১২ সালের ৫ ডিসেম্বর থেকে ২০১৬ এর ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত বর্ডার গার্ডস বাংলাদেশ (বিজিবি) এর ৪র্থ মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।  

২০০৯ সালে বাংলাদেশ রাইফেলসের এক বিশাল বিপর্যয় মূলক সময়ের শেষের দিকে জেনারেল আজিজ আহমেদ বিজিবির মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন। বিডিআর বিদ্রোহে যখন ৫৭ জন দক্ষ অফিসার প্রাণ হারিয়েছিলেন, ঠিক সেই চ্যালেঞ্জিং মুহূর্তে তার দায়িত্ব নেয়া ছিল সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য মুহূর্তের একটি। 

তিনি বাহিনীতে স্বাভাবিকতা আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং কঠোর নেতৃত্ব ও পরিকল্পনার  মাধ্যমে বিডিআর এর পুনঃনামকরণ ও পুনর্গঠন করে এই বাহিনীর প্রতি দেশ ও জাতির আস্থা পুনর্বহাল করেন। উল্লেখ্য, দুই প্রতিবেশী দেশ ভারত ও মিয়ানমারের সাথে মোট ৪,৪৩০ কিলোমিটার সীমান্ত রক্ষায় বিজিবি অসাধারণ দক্ষতা ও পারদর্শিতার পরিচয় দিয়ে আসছে।  

জেনারেল আজিজের নেতৃত্বে বিজিবিতে চারটি রিজিওন ও চারটি সেক্টর সদর দফতর, ১৮টি  ব্যাটেলিয়ন এবং ১০৮টি নতুন সীমান্ত চৌকি (বিওপি) প্রতিষ্ঠিত হয়। বিজিবির উন্নতিকল্পে তিনি এককভাবে কল্যাণ তহবিল গঠনসহ বিজিবি বাহিনীর জন্য একটি সীমান্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক প্রতিষ্ঠা এবং অন্যান্য অনেক সুবিধা চালু করেন। বিজিবি বর্তমানে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম সীমান্তরক্ষী বাহিনী। এই বাহিনী সর্বমোট ৬৩টি ব্যাটালিয়নের বিপুল সংখ্যক জনবল নিয়ে ১০০০টি বর্ডার আউটপোস্টের মাধ্যমে বাংলাদেশের উত্তরের বাংলাবান্দা (পঞ্চগড়) থেকে দক্ষিণে শাহপরীর দ্বীপ এবং  পূর্বে আখাইনঠং (বান্দরবান) থেকে মনাকষা (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) এর পশ্চিম পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকা সীমান্ত রক্ষায় নিয়োজিত রয়েছে।  

মহাপরিচালক নিয়োগের পূর্বে জেনারেল আজিজ ২০০৯ সালে বিডিআর বিদ্রোহের পরপরই ঢাকা সেক্টর কমান্ডার হিসেবে নিযুক্ত হন। এ সময় তিনি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেন এবং সকল পক্ষই যাতে সুবিচার পায় তা নিশ্চিত করার জন্যে সংগঠিত সকল আদালতকে প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করতে এবং বিচার কার্যে সহায়তা প্রদান করেন। এছাড়াও তিনি নিশ্চিত করেন যে, উপযুক্ত সাক্ষ্য প্রমাণ এবং যথাযথ তদন্তের অভাবে যাতে কেউ অন্যায়ভাবে শাস্তি না পায়। এই বিচার বাংলাদেশের বিচারিক ইতিহাসে দ্রুততম সময়ে বিপুল সংখ্যক অপরাধীদের বিচারের আওয়তায় নিয়ে এসে সুবিচারের দৃষ্টান্তমূলক উদাহরণ হয়ে থাকবে।  

জেনারেল আজিজ তার অসাধারণ নেতৃত্বগুণ এবং সমন্বয় ক্ষমতা দিয়ে প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে কোনো ধরণের মতদ্বৈততা ও দ্বন্দ্ব ছাড়াই বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ছিটমহল বিনিময়ের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছেন। বিজিবিতে মহাপরিচালক থাকাকালে তিনি বিজিবিতে প্রথমবারের মতো ১০০ জন মহিলা বিজিবি সৈন্যসহ ১৮ হাজার নতুন সৈন্য নিয়োগ করেন। বিজিবির ইতিহাসে এটা বৃহত্তম রিক্রুটমেন্ট হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। 

দেশ ও জাতির প্রতি তার কর্তৃক অসাধারণ সেবাপ্রদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জেনারেল আজিজকে রাষ্ট্রপতি বিজিবিএম পদক প্রদাণ করা হয়। এছাড়াও তিনি তার সহজাত ও অসাধারণ নেতৃত্ত্বগুণের স্বীকৃতি হিসেবে জেনারেল আজিজ আহমেদকে পিবিজিএম পদক প্রদান করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। বিজিবির মহাপরিচালক হিসেবে তিনিই ভারতীয় বিএসএফ'র ইতিহাসে প্রথম বিদেশী যিনি বিএসএফ একাডেমিতে পাসিং প্যারেডে প্রধান অতিথি হিসেবে স্যালুট গ্রহণ করেন।  

নিম্নে বিজিবি মহাপরিচালক দায়িত্বে থাকাকালীন জেনারেল আজিজের বেশ কিছু উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড তুলে ধরা হলো-  

  • বিজিবির জন্য ভিন্ন র‍্যাংক-ব্যাজ চালুকরণ

বিজিবি মহাপরিচালক দায়িত্বরত অবস্থায় জেনারেল আজিজ ২০১৪ সালের ২৩ মার্চ বাহিনীটির জন্য নতুন র‍্যাংক-ব্যাজ চালু করেন, যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করেন।  

ছবি: ২০ ডিসেম্বর ২০১৫ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিজিবি সদর দপ্তরে খাগড়াছড়ি, ঠাকুরগাঁ এবং চুয়াডাঙ্গায় বিজিবি সদস্যদের চিকিৎসার জন্যে ৩টি হাসপাতাল নির্মাণ উদ্বোধন করেন

  • বিজিবি সদস্যদের জন্য তিনটি হাসপাতাল প্রতিস্থাপন

বিজিবি মহাপরিচালক দায়িত্বরত অবস্থায় জেনারেল আজিজ চুয়াডাঙ্গা, ঠাকুরগাঁও এবং খাগড়াছড়িতে বিজিবি সদস্যদের জন্য তিনটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন। ২০১৫ সালের ২০ ডিসেম্বরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিজিবি সদর দপ্তর, পিলখানায় এ তিনটি হাসপাতাল উদ্বোধন করেন এবং একই অনুষ্ঠানে বিজিবির জন্যে সীমান্ত ব্যাংক লিমিটেডের লোগো উন্মোচন করেন। 

ছবি: ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৬ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিজিব সদর দপ্তরে সীমান্ত ব্যাংক লিমিটেড এর প্রতিষ্ঠা উদ্বোধন করেন

  • সীমান্ত ব্যাংক লিমিটেড প্রতিষ্ঠাকরণ 

বিজিবি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের মাধ্যমে পরিচালিত  সীমান্ত ব্যাংক লিমিটেড প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জেনারেল আজিজ বিজিবির অর্থনৈতিক আঙ্গিক পরিচালনায় আমুল পরিবর্তন নিয়ে আসেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর সীমান্ত ব্যাংক লিমিটেড উদ্বোধন করেন। 

ছবি: বিজিবি সদর দপ্তরের উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের কয়েকটি

  • বিজিবি সদর দফতরে উন্নয়নমূলক কাজ

জেনারেল আজিজ দায়িত্ব গ্রহণ করার পর বিজিবি সদর দফতরের জন্য বেশ কিছু উন্নয়নমূলক কাজ করেন। তার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সমূহ নিম্নে উল্লেখ করা হল -

১. এপ্রিল বিজিবি সদর দফতরে অবস্থিত শহীদ ক্যাপ্টেন আশরাফ হলের সংস্কারকরণ। 

২. বিজিবি সদর দফতরের নতুন অফিসার মেস ভিআইপি ও হলঘর নির্মাণ। 

৩. বিজিবির জন্যে বিশেষ ওয়্যার হাউস নির্মাণ। 

৪. পিলখানায় বিজিবি সদর দফতরে সৈন্যদের জন্য ১০ তলা ‘মাসালং’ ভবন নির্মাণ। 
  
৫. পিলখানায় বিজিবি সদর দফতরে সৈনিকদের ব্যারাক হিসেবে মাছরাঙা ও শঙ্খচিল নামের দুইটি ভবন নির্মাণ। 

৬. বিজিবি হাসপাতাল, পিলখানায় করোনারি কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ) এর নির্মাণ, এবং

৭. পিলখানায় বিজিবি হাসপাতালের সৌন্দর্য বৃদ্ধিকরণ কাজ।

(চলবে। দ্বিতীয় পর্ব শীঘ্রই প্রকাশিত হবে।) 

ডেইলি বাংলাদেশ/এডি