Alexa বিচ্ছিন্ন গ্রহ সৌরজগতে প্রবেশ করলে...

ঢাকা, শনিবার   ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ৬ ১৪২৬,   ২১ মুহররম ১৪৪১

Akash

বিচ্ছিন্ন গ্রহ সৌরজগতে প্রবেশ করলে...

রাজ চৌধুরী

 প্রকাশিত: ১৩:২৮ ২০ ডিসেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১৩:৩০ ২০ ডিসেম্বর ২০১৮

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

পৃথিবী সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘুরছে। এই সৌরজগতের বাকি গ্রহগুলোও নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘুরে। কিন্তু এমনো গ্রহ রয়েছে যারা কোনো নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে ঘুরে না, এরা বিচ্ছিন্ন থাকে। এসব গ্রহকেই বলা হয় বিচ্ছিন্ন গ্রহ বা (rogue planet). বিজ্ঞানীরা খেয়াল করেন এমনই একটি বিচ্ছিন্ন গ্রহ সৌরজগতের আশপাশ দিয়ে লক্ষ্যহীনভাবে ঘুরছে। যদি হঠাৎ ঐ গ্রহটি সৌরজগতের একেবারেই কাছে এসে যদি সৌরজগতে ঢুকে পড়ে? যে গ্রহটি নিয়ে বলছি সেটি মাত্র ২০ আলোকবর্ষ দূরে আছে। এই গ্রহটি পৃথিবী থেকে প্রায় ১৭ হাজার গুণ বড়।শুধু তাই না, এই বিচ্ছিন্ন গ্রহটির আছে খুবই শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্র। এর জন্যই গ্রহটিতে অসম্ভব রকমের ঊষা (aurora) দেখা যায়।

একবার যদি এই বিচ্ছিন্ন গ্রহটি সৌরমন্ডলে ঢুকে তাহলে খুবই খারাপ অবস্থা হবে। বিচ্ছিন্ন গ্রহটি শত শত কিলোমিটার প্রতি সেকেন্ড গতিতে চলে। যদি গ্রহটির সঙ্গে পৃথিবী ধাক্কা খেয়ে যায় তাহলে পৃথিবী পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে। তবে আশার কথা হচ্ছে, সৌরজগত অনেক বড়। আর এই বিচ্ছিন্ন গ্রহটি যদি সৌরজগতে ঢুকে তবে বাইরের গ্রহগুলোর সাঙ্গেও ধাক্কা লাগার সম্ভাবনা থেকেই যায়। আবার যদি কোনো কারণে ঢুকে যায় তাহলে এর প্রধান কাজ হবে সৌরজগতের গ্রহসমূহের কক্ষপথের পরিবর্তন। কারণ এই বিশাল বিচ্ছিন্ন গ্রহের মহাকর্ষীয় বল অনেক বেশি। এর ফলে সকল গ্রহের এমনকি পৃথিবীরও কক্ষপথ বেশি উপবৃত্তাকার হবে। আর সেই সময়ই আমাদের পৃথিবীর জন্য খারাপ সময় শুরু হবে।

পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে বাসযোগ্য ক্ষেত্রে ঘোরে। কারণ যদি এটি সূর্যের খুব কাছে থাকতো যেমন বুধ গ্রহ আছে তাহলে এটিতে গরমের পরিমাণ অত্যাধিক হতো। আবার দূরে অবস্থান করলে ঠান্ডা হয়ে যেতো সেক্ষেত্রেও সমস্যা। এই দুই ক্ষেত্রে পৃথিবী বসবাসের উপযোগী গ্রহ থাকতো না। তাহলে কি এই পৃথিবী এই বসবাসযোগ্য কক্ষপথের থেকে দূরে যাবে?এই বিচ্ছিন্ন গ্রহটি আমাদেরকে এই বাসযোগ্য স্থানের বাইরে ঠেলে দিবে না তবে কক্ষপথ যদি বেশি উপবৃত্তাকার হয় তাহলে পৃথিবী আর আগের মতো থাকবেনা। এর ফলে পৃথিবী সূর্যর নিকটে চলে যাবে আর গ্রীষ্মকাল হবে তাপমাত্রাও বাড়বে। এখানেই শেষ নয়, যেমন অতিরিক্ত গরম সইতে হবে তেমনই শীতকালে ঠান্ডা কাবু করবে। আর শীতকাল হবে দীর্ঘ। গ্রীষ্মকাল কম সময় স্থায়ী হবে বলে ফসল ফলানোর জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যাবে না। আর শীতকাল দীর্ঘ হবে ফলে খাবারের এক বিশাল সংকটে পড়তে হবে।

বর্তমানে সকলেই গ্লোবাল ওয়ার্মিং নিয়ে চিন্তিত। তবে শীতকাল দীর্ঘ হলে সবাই গ্লোবাল কুলিং নিয়ে বেশি চিন্তিত হয়ে পড়বে। তখন উলটো গ্রীন হাউজ গ্যাস ব্যবহার করে পৃথিবী গরম করার উদ্যোগ নেয়া হতে পারে। সৌর শক্তি শীতকালে খুবই কম হবে। তবে গ্রীষ্মকালে খুবই বেশি পরিমাণে ব্যবহার করা যাবে। আর এতো সব কিছু হবে বাসযোগ্য স্থানে থাকার পরেও। যদি পৃথিবী বাসযোগ্য অঞ্চল এর বাইরে চলে যায় তাহলে এতোই ঠান্ডা হয়ে যাবে যে সেখানে মানুষের অস্তিত্ব থাকবে না। সেক্ষেত্রে আমরা টিকে থাকতে পারবো তখনই যদি আমরা সাগরের নিচে থাকার কোনো উপায় খুঁজে বের করি। এমনো হতে পারে তখন আমাদের বিবর্তন হয়ে অন্য প্রাণীর বৈশিষ্ট্য আসবে তখনের মানুষের মধ্যে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস