Alexa বিচার কার্যে দুর্নীতির আশ্রয়ে যে পরিণতি

ঢাকা, সোমবার   ২২ জুলাই ২০১৯,   শ্রাবণ ৭ ১৪২৬,   ১৮ জ্বিলকদ ১৪৪০

বিচার কার্যে দুর্নীতির আশ্রয়ে যে পরিণতি

প্রিয়ম হাসান ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:৫৬ ২৫ জুন ২০১৯   আপডেট: ১৮:০২ ২৫ জুন ২০১৯

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

যেকোনো বিষয়ে ইসলামের সিদ্ধান্ত বা রায়কে বাধ্যতামূলকভাবে প্রয়োগ করাকে ইসলামের বিচার ব্যবস্থার মূলনীতি হিসাবে গ্রহণ করা হয়েছে। 

মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালা বলেন, 

وَكَتَبْنَا عَلَيْهِمْ فِيهَا أَنَّ النَّفْسَ بِالنَّفْسِ وَالْعَيْنَ بِالْعَيْنِ وَالأَنفَ بِالأَنفِ وَالأُذُنَ بِالأُذُنِ وَالسِّنَّ بِالسِّنِّ وَالْجُرُوحَ قِصَاصٌ فَمَن تَصَدَّقَ بِهِ فَهُوَ كَفَّارَةٌ لَّهُ وَمَن لَّمْ يَحْكُم بِمَا أنزَلَ اللّهُ فَأُوْلَـئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ

‘আমি এ গ্রন্থে তাদের প্রতি লিখে দিয়েছি যে, প্রাণের বিনিময়ে প্রাণ, চক্ষুর বিনিময়ে চক্ষু, নাকের বিনিময়ে নাক, কানের বিনিময়ে কান, দাঁতের বিনিময়ে দাঁত এবং যখম সমূহের বিনিময়ে সমান যখম। অতঃপর যে ক্ষমা করে, সে গোনাহ থেকে পাক হয়ে যায়। যেসব লোক আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, তদনুযায়ী ফয়সালা করে না তারাই জালেম।’ (সূরা: মায়েদা, আয়াত: ৪৫)।

আল্লাহ তায়ালা আরো বলেন, ‘যারা আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান অনুসারে বিচার ও শাসন করে না,তারা ফাসেক।’ (সূরা মায়েদা-৪৭)।

তারহা বিন ওবায়দুল্লাহ বর্ণনা করেন, রাসূল (সা.) বলেছেন, যে বিচারক বা শাসক আল্লাহর নাজিলকৃত বিধান অনুসারে ফায়সালা করে না, আল্লাহ তার নামাজ কবুল করে না। (হাকেম)।

আরো পড়ুন>>> মুরসির জীবনের কিছু অজানা দিক 

হজরত যুবায়দা (রা) বর্ননা করেন: রাসূল (সা.) বলেন, ‘বিচারক তিন প্রকারের: তন্মধ্যে দুই প্রকারের যাবে জাহান্নামে। আর এক প্রকার যাবে জান্নাতে। যে বিচারক সত্য ও ইনসাফ কী, তা জানে এবং তদনুযায়ী বিচার করে সে জান্নাতে যাবে। আর যে বিচারক সত্য ইনসাফ কী, তা জানে না, জানলেও সেই অনুযায়ী বিচার করে না, অথবা স্বীয় প্রবৃত্তির তাড়নায় বিচার করে, এরা উভয়েই জাহান্নামী। জিজ্ঞাসা করা হলো যে, সে জানেনা তার কী দোষ?’ (হাকেম, আবু দাউদ, তিরমিযী)।

আবু হুরায়রা (রা) বলেন, ‘যাকে বিচারক নিয়োগ দেয়া হলো তাকে যেন ছুরি ছাড়াই যবাই করা হলো।’ হজরত ফযীল বিন ইয়ায বলেন, ‘একজন বিচারপতির উচিত একদিন বিচারকার্য পরিচালনা করা। আর এক দিন নিজের জন্য আল্লাহর কাছে তওবা করে কান্নাকাটি করা।’ ইমাম মুহাম্মাদ বিন ওয়াসে (রহ.) বলেন, কিয়ামতের দিন সবার আগে বিচারকদেরকেই হিসাবের জন্য ডাকা হবে।’

হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘দুর্নীতি পরায়ণ বিচারক জান্নাত থেকে বহু দূরে জাহান্নামের পিচ্ছিল স্থানে জীবন যাপন করবে।’

হজরত আলী (রা.) বলেন, রাসূল (সা.)-কে বলতে শুনেছি যে, প্রত্যেক শাসক ও বিচারককে কিয়ামতের দিন আল্লাহর সামনে পুলসিরাতে দাঁড় করিয়ে সমগ্র মানব জাতির কাছে তার গোপন  আমলনামা পাঠ করা হবে। অতঃপর সে যদি ন্যায়বিচারক সাবস্ত্য হয়, তবে তাকে আল্লাহ মুক্তি দেবেন। নচেত পুলসিরাতসহ সে জাহান্নামে পতিত হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে