বিচার কাজে দীর্ঘসূত্রিতায় পার পাচ্ছে অপরাধীরা: ডিএমপি কমিশনার

ঢাকা, সোমবার   ২৪ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ১২ ১৪২৬,   ১৯ শাওয়াল ১৪৪০

বিচার কাজে দীর্ঘসূত্রিতায় পার পাচ্ছে অপরাধীরা: ডিএমপি কমিশনার

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:১৮ ১৩ জুন ২০১৯   আপডেট: ১৭:২৩ ১৩ জুন ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

‘আমরা সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করি। তাদের জেল-হাজতে পাঠিয়ে বিচার প্রত্যাশা করি। কিন্তু বিচার কাজের দীর্ঘসূত্রিতার কারণে অপরাধীরা জামিনে বেরিয়ে ফের একই কাজে লিপ্ত হয়’।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নগর ভবন মিলনায়তনে ‘সহিংস উগ্রবাদ প্রতিরোধে জনপ্রতিনিধিদের করণীয়’ বিষয়ক এক সেমিনারে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিতি ছিলেন তিনি। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র সাঈদ খোকন।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, রাজনৈতিক নয় অথচ আন্দোলনের নামে চিহ্নিত একটি গোষ্ঠী ২০১৫ সালে হরতাল-অবরোধের নামে তাজা মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে। দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদেরকে পুড়িয়ে মেরেছে। তাদের কাছ থেকে রেহাই পায়নি ভাইহারা বোনটিও। কিন্তু সেই সন্ত্রাস দমন করা হয়েছে। তবে পুলিশ একা করেনি। দেশের সব পেশাজীবী জনগণের সহযোগিতা ছিল। এমন ঘটনার যেনো পুনরাবৃত্তি না হয় সেজন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

কমিশনার বলেন, হলি আর্টিজানের ঘটনার পর মহানগরে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। এ কৃতিত্বের দাবিদার শুধু পুলিশ নয়, জনগণও। একটি সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে জনগণ যেভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করছে, সেভাবে যদি জনপ্রতিনিধিরাও সহযোগিতা করেন তাহলে জঙ্গী ও সন্ত্রাসবাদ থাকবে না। তাই জনপ্রতিনিধিদের অবশ্যই জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে।

তিনি আরো বলেন, জনগণকে বলতে চাই, জঙ্গিবাদের কোনো ভয়-ভীতি বা হুমকিতে আপনারা ভয় পাবেন না। কারণ আমাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। মাথা চাড়া দিয়ে ওঠার কোনো সুযোগ নেই জঙ্গীদের। তাই ভীত হওয়ার কোনো কারণ নেই। 

ডিএমপি কমিশনার বলেন, আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। অপশক্তি রোধে সচেষ্ট হতে হবে। উগ্রবাদ প্রতিরোধে আমাদের এক দশক সময় লেগেছিল। জঙ্গিবাদ প্রতিরোধেও জনপ্রতিনিধিদদেরকে সচেতন হতে হবে। এজন্য আমরা বিট পুলিশিংসহ তিন শতাধিক পুলিশিং কমিউনিটি ফোরাম গঠন করেছি। মাদক, ইভটিজিং, অজ্ঞানপার্টিসহ সব অপকর্ম প্রতিরোধে আমরা জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা চাই।

আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, পাড়া-মহল্লায় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে আমরা কাজ করতে পেরেছি। তাই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে আমরা সক্ষম হয়েছি। এবার ঈদে ছিনতাই কিংবা অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ার ঘটনা আগের চেয়ে অনেক কমেছে। নাগরিকদের নিয়ে আমরা যে পেট্রলিং চালু করেছি সেটি পুলিশের একার পক্ষে বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। প্রয়োজন জনগণের সমন্বিত প্রয়াস।

নাগরিক সেবার মান বৃদ্ধির বিষয়ে কমিশনার বলেন, আগে নগরীর অসুবিধা সমাধানে চিঠি চালাচালি করতে করতে দুদিন পার হয়ে যেতো। কিন্তু এবার সিটি করপোরেশন ও পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়ে একটা হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপ চালু করেছি। এর মাধ্যমে নগরীর কোনো সড়কে পানি জমলে, কিংবা রাস্তা ভাঙ্গা অথবা অন্য যেকোনো সমস্যায় মুহূর্তের মধ্যেই সেখানে পৌঁছে গিয়ে কাজ করতে সক্ষম হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে, নাগরিক দুর্ভোগ প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণ।

তিনি অভিবাকদের সতর্ক করে বলেন, আপনার সন্তান আবদ্ধ রুমে ইন্টারনেটে কি করছে, সে বিষয়ে লক্ষ্য রাখতে হবে। কারণ, ইন্টারনেটে শান্তির ধর্ম ইসলামের অপব্যাখ্যা দিয়ে নানা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে কেউ কেউ। আর এটিকে ঘিরে তৈরি হচ্ছে দ্বন্দ-সংঘাত।

 ডেইলি বাংলাদেশ/ডিএম/জেডআর