.ঢাকা, শনিবার   ২৩ মার্চ ২০১৯,   চৈত্র ৯ ১৪২৫,   ১৬ রজব ১৪৪০

বিএনপির চূড়ান্ত হতাশার দিন সামনে: হাছান মাহমুদ

নিজস্ব প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: ১৮:৪৮ ১০ আগস্ট ২০১৮   আপডেট: ১৮:৫৩ ১০ আগস্ট ২০১৮

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, রাত-বিরাতে ষড়যন্ত্রকারীরা বিভিন্ন জায়গায় বসে চক্রান্তের জাল বুনে যাচ্ছে। এতে তাদের কোন লাভ হবে না। যারা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে হতাশ হয়ে পড়েছেন; তারা চূড়ান্ত হতাশ হবেন আগামী ডিসেম্বরের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে।

শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব পরিষদ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের দল আওয়ামী লীগ হলো- ভিমরুলের চাক। কেউ ঢিল ছুড়লে রক্ষে নাই। ভিমরুল যেমন হুল ফোটায়, অন্যায় করলে আওয়ামী লীগও কাউকে সাড়ে না। উচিত জবাব দিয়ে দেয়। এ দলটি বরাবরই খোঁচা দিলে জ্বলে ওঠে। নতুবা থাকে চুপচাপ। নেত্রী আমাদের শান্ত থাকতে বলেছেন, সেজন্য আমরা শান্ত আছি। আপনারা বসে বসে ষড়যন্ত্র করবেন, আর আওয়ামী লীগের কর্মীরা আংগুল চুষবে; সেটাতো হবে না। তাই আমি বলবো, আপনারা সাবধান হয়ে যান। যতোটুকু হয়েছে যথেষ্ট, আগুন নিয়ে আর খেলা করবেন না। 

আগস্ট মাসে এলেই নানা ষড়যন্ত্র শুরু হয় এমন দাবি করে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের যে আন্দোলন সেই আন্দোলনে প্রথম থেকে আমাদের দল এবং পুলিশ প্রশাসন তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু সেই আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেছিল একটি মহল। সেখানে বিএনপি-জামায়াতের গুণ্ডাদের অনুপ্রবেশ ঘটে। তারা একটি বিশেষ পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করেছে। এই ষড়যন্ত্রের পেছনে যারা ছিলেন তারা এখন হতাশ হয়ে নানা কথা বলছেন। কারণ তাদের মাথা ঠিক নেই। তারা ভেবেছিলেন, এবারই সরকারের পতন হয়ে যাবে। 

‘ড. কামাল হোসেনের ভাষা আর গুণ্ডাদের ভাষার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, তিনি একজন বিজ্ঞ আইনজীবী। তিনি এই কয়দিন যে ভাষায় কথা বলছেন তা কাম্য নয়। তিনি বলছেন গুণ্ডাতন্ত্র। অবশ্য উনার কথা একদিকে ঠিক আছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে যেই গুণ্ডা নামিয়ে ছিলেন তাদের পরিচয় বেরিয়ে আসছে। যারা স্কুল ব্যাগে করে চাপাতি পাথর নিয়ে এসেছে, যারা সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালিয়েছে তাদের পরিচয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেরিয়ে আসছে। ড. কামাল হোসেন সম্ভবত সেগুলোর কথা বলেছেন। উনার ভাষার মধ্যে আর গুণ্ডাদের ভাষার মধ্যে আমি কোনো পার্থক্য দেখছি না।

তিনি আরো বলেন, এটি অত্যন্ত হতাশাজনক। ভাবমূর্তি রক্ষার্থে আপনার ভাষা একটু শালীন হওয়া দরকার। প্রকৃতপক্ষে মানুষ যখন হতাশ হয় তখন হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। 

রিজভী আহমেদ সংবাদ সম্মেলন করে বলেছেন, এই ছাত্র আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না। ছাত্ররা কিন্তু ঘরে ফিরেছে। তারা কিন্তু বুঝতে পেরেছে যে তাদের আন্দোলনে বিএনপি-জামায়াতের গুণ্ডারা অনুপ্রবেশ করেছে। কারা তাদের নামিয়ে ছিল এটাও তারা বুঝতে পেরেছে। প্রধানমন্ত্রী ছাত্রদের দাবি দাওয়া মেনে নেয়ায় তারা অনেক জায়গায় আনন্দ মিছিলও করেছে। সেই প্রেক্ষিতে বিএনপি জামাতও প্রচণ্ড হতাশ। এই ইস্যুতে বিএনপি জামাত ও ১/১১ কুশীলবরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটা প্রচেষ্টা চালিয়েছিল। হতাশা থেকে রিজভী আহমেদ সংবাদ সম্মেলন করে অনেক কথাই বলেছেন। তিনি বলেছেন সরকারের বিদায়ের সাইরেন বেজে গেছে। সরকার নয়- আসলে এই সাইরেন বেজেছে বিএনপি এবং ১/১১-এর কুশীলবদের বিদায়ের সাইরেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআরকে