বিএনপির অত্যাচারে অসুস্থ হন সুজা: প্রধানমন্ত্রী

.ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৫ এপ্রিল ২০১৯,   বৈশাখ ১১ ১৪২৬,   ১৯ শা'বান ১৪৪০

বিএনপির অত্যাচারে অসুস্থ হন সুজা: প্রধানমন্ত্রী

 প্রকাশিত: ২১:৩২ ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮   আপডেট: ২১:৩৬ ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ে অপারেশন ক্লিনহার্ট অভিযানে এমপি মোস্তফা রশিদী সুজাকে আটক করে ড্রিল মেশিন দিয়ে তার পা ছিদ্র করে নির্যাতন চালানো হয়। মূলত তখন থেকেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। যার ফলশ্রতিতে এই নির্মম মৃত্যু। 

রোববার জাতীয় সংসদে শোক প্রস্তাবের উপর আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে এসব কথা বলেন।

অধিবেশন শুরুর পর পরই স্পিকার চলমান সংসদের এমপি এস এম মোস্তফা রশিদী ও বিরোধীদলীয় প্রধান হুইপ জাতীয় পার্টির এমপি তাজুল ইসলাম চৌধুরীর মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন। 

এর আগে শোক প্রস্তাবের উপর আলোচনায় অংশ নেন সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, জাতীয় পার্টির কাজি ফিরোজ রশিদ, প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙা, জাপা মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, খুলনা-৪ এর নব নির্বাচিত এমপি আব্দুস সালাম মুর্শেদী, নুরুল ইসলাম ওমর, মীর মোশাররফ হোসেন ও  ফখরুল ইমাম প্রমুখ। তারা সংসদে এস এম মোস্তফা রশিদী সুজা ও বিরোধীদলীয় চীফ হুইপ জাতীয় পার্টির আইন প্রণেতা তাজুল ইসলাম চৌধুরীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্ভাগ্যবশত বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর আমাদের নেতা-কর্মীদের উপর যে অত্যাচার করা হয়েছে সেই অত্যাচারের শিকার হন সুজা। তার পা ফুটো করে দেয়া হয়। তার মৃত্যুতে জাতি একজন বিজ্ঞ পার্লামেন্টেরিয়ানকে হারাল। জাতি তাকে চিরকাল স্মরণে রাখবে। এছাড়া বিরোধীদলের প্রয়াত চিফ হুইপ তাজুল ইসলামকেও একজন দক্ষ পার্লামেন্টেরিয়ান বলে বর্ণনা করে শেখ হাসিনা বলেন,  সংসদে এদের অভাব কখনো পূরণ হবে না। গেল ২৬ জুলাই মোস্তফা রশিদী এবং জাতীয় পার্টির তাজুল ইসলাম চৌধুরী ১৩ আগস্ট মারা যান।

এছাড়া ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী, জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান, সাবেক সংসদ সদস্য কল্পরঞ্জন চাকমা, মোজাফফর হোসেন, শরীফ খসরুজ্জামান, আব্দুর রউফ মিয়া, মো. ফজলে এলাহী,  আলফাজ উদ্দিন, মো. আব্দুল মান্নান মন্ডল, আনোয়ারা হাবীবের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। এছাড়া সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার, সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আয়ুব বখত জগলুল, দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক এএইচএম মোয়াজ্জেম হোসেন, মার্কিন সিনেটর জন ম্যাককেইন, ভাষাসংগ্রামী হালিমা খাতুন, আব্দুল বাতেন, নৃত্যগুরু বজলার রহমান বাদল, ডেইলি অবজারভারের নির্বাহী সম্পাদক আনিস আহমেদ, মুক্তিযোদ্ধা ও লেখক কামরুল হাসান ভূইয়া ও বীরঙ্গনা রমা চৌধুরী। 

এছাড়া ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি মোস্তাক হোসেন, দক্ষিণ সুদানে গুলিতে নিহত কমান্ডার আশরাফ সিদ্দিকী, বাসচাপায় রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী দিয়া আক্তার মিম ও আব্দুল করিম রাজীব, মুজিবনগর সরকারের গার্ড অব অনার প্রদানকারী আনসার সদস্য লিয়াকত আলী, ইটিভির সিনিয়র রিপোর্টার মামুনুর রশিদ, অভিনেত্রী রানী সরকারের মৃত্যুতেও শোক প্রকাশ করা হয়। এছাড়া ভারতের কেরালায় বন্যা, ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্পে এবং দেশে-বিদেশে বিভিন্ন দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে শোক প্রকাশ করা হয়। শোক প্রস্তাব উত্থাপনের পর রেওয়াজ অনুযায়ী বৈঠক মুলতবি হয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর/আরআই