ঢাকা, সোমবার   ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯,   ফাল্গুন ৬ ১৪২৫,   ১২ জমাদিউস সানি ১৪৪০

দেশের পাইপলাইনের ৮০ শতাংশ পানিতেই ডায়রিয়ার জীবাণু

নিজস্ব প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: ২০:০৪ ১১ অক্টোবর ২০১৮   আপডেট: ২০:০৪ ১১ অক্টোবর ২০১৮

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

দেশের পাইপলাইনে সরবরাহকৃত ৮০ শতাংশ পানিতে ডায়রিয়ার জীবাণু ই-কলাই ব্যাকটেরিয়া রয়েছে। আর ১৩ শতাংশ পানির উৎসে আর্সেনিকের উপস্থিতি মিলেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক বহুমুখী সহায়তা সংস্থা বিশ্বব্যাংক।

বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে বিশ্বব্যাংকের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

পানি সরবরাহ এবং পয়ঃনিষ্কাশনবিষয়ক ওই প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশের জনসাধারণের প্রয়োজনে বিভিন্ন উৎস থেকে উত্তোলিত ৪১ শতাংশ পানিতেই ডায়রিয়ার জীবাণু ই-কলাই ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি আছে। আর দেশে পাইপলাইনে সরবরাহকৃত ৮০ শতাংশ পানিতে এই জীবাণু রয়েছে। 

এমনকি ৮০ শতাংশ পুকুরের পানিতেও ই-কলাই ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতির কথা জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ জর্জ জোসেফ বলেন, বাংলাদেশের পানিতে ডায়রিয়ার জীবাণু অনেক বেশি আছে। সরকারের এ বিষয়ে নজর দেয়া উচিত। কারণ নিম্নমানের পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা বাংলাদেশের দারিদ্র্য দূরীকরণে বাধা হতে পারে।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের মাত্র ২৮ শতাংশ টয়লেটে পানি ও সাবানের ব্যবস্থা রয়েছে। অন্যদিকে দেশের ১৩ শতাংশ পানির উৎসে আর্সেনিক আছে জানিয়ে বিশ্বব্যাংকের রিপোর্ট বলছে, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে আর্সেনিকের উপস্থিতি বেশি। 

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মো. নজরুল ইসলাম বলেন, দেশের মানুষের সংখ্যা বেড়েছে, তাই বিশুদ্ধ পানির চাহিদাও বেড়েছে। সেটা নিশ্চিত করাটাই এখন চিন্তার বিষয়। এ ছাড়া দ্রুত দারিদ্র্য নিরসনে, বিশুদ্ধ পানি এবং স্বাস্থ্যকর পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিতের তাগিদ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

প্রতিবেদনের চুম্বক অংশ তুলে ধরে বিশ্ব ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ জর্জ জোসেপ।

তিনি বলেন, পানি ও স্যানিটেশনের সুযোগে বাংলাদেশ অনেক উন্নতি করলেও পানির সব ধরণের উন্নত উৎসের ৪১ শতাংশে ক্ষতিকর জীবানু ‘ই-কোলাই’ রয়েছে। এতে অন্ত্রে উচ্চ মাত্রার দূষণের প্রমাণ মেলে। বাংলাদেশে ১৩ শতাংশ পানির উৎস আর্সেনিক দূষণের জাতীয় মাত্রার উপরে রয়েছে। এরমধ্যে চট্টগ্রাম ও সিলেটে আর্সেনিক দূষণের পরিমাণ বেশি। 

তিনি জানান, শহরের ৫২ শতাংশ ও গ্রামের মাত্র ২৭ শতাংশ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে পাইপলাইনে পানির ব্যবস্থা আছে। সেখানে স্বল্পতা আছে সাবান ও স্যানিটেশনের সুযোগের।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গৃহস্থালিতে স্যানিটেশনের ব্যবস্থার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অনেক এগিয়েছে। তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে এখনো সেই সুবিধা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশের মাত্র ৫২ শতাংশ ম্যানুফ্যাকচারিং কারখানায় টয়লেট রয়েছে। ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য আলাদা টয়লেটের ব্যবস্থা রয়েছে মাত্র অর্ধেকের মতো স্কুলে। আর ১০০ শিক্ষার্থীর বিপরীতে টয়লেট আছে একটি, যা জাতীয় গড়ের অর্ধেক। স্কুলের ভালো স্যানিটেশন ব্যবস্থা না থাকায় মাসিক ঋতুস্রাবের সময়ে ২৫ শতাংশ ছাত্রী অনুপস্থিত থাকে বলেও জানান এই বিশ্ব ব্যাংক কর্মকর্তা।

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ, ভুটান ও নেপালের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর সেরিন জুমা বলেন, বৈশ্বিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে তৈরি করা হয়েছে এই প্রতিবেদন। পানির দূষণ ও নিম্নমান এবং স্যানিটেশনের বাজে অবস্থা অনেক অর্জনকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। তিনি বলেন, সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এমডিজি) সময়ে বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থা একটি হিসেব দিয়েছিল, বৈশ্বিকভাবে পানি ও স্যানিটেশনে নিশ্চিতে যদি ১ ডলার খরচ করা হয়, তাহলে সেক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ায় এটার বিপরীতে লাভ আসবে ৫ ডলার। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রোকসানা কাদের, বিশ্ব ব্যাংকের প্র্যাকটিস ম্যানেজার তাকুয়া কামাতা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআরকে