বাসে যাত্রীর মৃত্যু, করোনা আতঙ্কে পালালেন চালক-হেলপার

ঢাকা, বুধবার   ২৭ মে ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ১৩ ১৪২৭,   ০৩ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

বাসে যাত্রীর মৃত্যু, করোনা আতঙ্কে পালালেন চালক-হেলপার

জয়পুরহাট প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:৩১ ১২ মে ২০২০   আপডেট: ২০:৩২ ১২ মে ২০২০

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ভেবে যাত্রীর লাশ ফেলে পালিয়ে গেলেন আহাদ পরিবহনের চালক-হেলপার।

ঢাকা থেকে জয়পুরহাটে ফেরার পথে ওই পরিবহনের বাসটিতে এ ঘটনা ঘটে।। 

খবর পেয়ে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের মেডিকেল টিম মৃত ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করেছে। 

প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে এত দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে আহাদ পরিবহনের গাড়ি কীভাবে জয়পুরহাটে পৌঁছালো, এমন প্রশ্নই এখন সচেতন মহলের। 

নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলা জাহানপুরের বাসিন্দা মিজানুর রহমান গত ৩-৪ দিন হলো ঢাকায় গেছেন কোমরের ব্যথা নিয়ে চিকিৎসা করাতে। সেখানে একটি গার্মেন্টসে চাকরি করেন তার স্ত্রী। চিকিৎসা শেষে মাকে নিয়ে ঢাকার বিশ মাইল থেকে ২ হাজার টাকার চুক্তিতে সোমবার রাতে তিনি আহাদ পরিবহনের একটি বাসে করে জয়পুরহাটে রওনা দেন। 

পথে মিজানুর রহমান মারা যান। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর রাতের অন্ধকারেই জয়পুরহাট-বগুড়া মহাসড়কের হিচমী বাজারে মাসহ ছেলের লাশটি ফেলে দিয়ে চলে যায় আহাদ পরিবহনের চালক ও হেলপার। 

এরপর বিষয়টি স্থানীয়রা জানতে পারলে এলাকায় অনেকটা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় কয়েকজন দোকানদার বলেন, রাতে তারা ডিউটি করার সময় সেহরি খেতে যায়। পরে ৩টা ২০ মিনিটের সময়ে তারা এসে দেখেন, এক মাসহ তার সন্তানের লাশটি রাস্তার ধারে পড়ে আছে। 

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে কীভাবে একটি গণ-পরিবহন জয়পুরহাটে প্রবেশ করলো, এমন প্রশ্নের উত্তরে সদর থানার ওসি শাহরিয়ার খান জানান, যদি বলি, এটি ঢাকা কেন্দ্রিক সমস্যা ? এরপরও বলবো, হাইওয়ে পুলিশ কি করলো? ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা গাড়িগুলো শহরে না ঢুকে বাইপাস হয়ে হিলিতে যায়। যে কারণে পুলিশের অনুপস্থিতিতে গত রাতে এই অপ্রত্যাশিত ঘটনাটি ঘটেছে।

এ বিষয়ে জয়পুরহাট সদরের ইউএনও জানান, মৃতের মায়ের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মৃত ব্যক্তির শরীরে কোনো ধরনের করোনার উপসর্গ ছিল না। তবে এরপরও খবর পেয়ে স্থানীয় মেডিকেল টিম তার নমুনা সংগ্রহ করেছে। এছাড়া স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় ধামইরহাট উপজেলা প্রশাসনকে অবগত করে লাশটি দাফনের জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

জয়পুরহাটের সিভিল সার্জন সেলিম মিয়া বলেন, মৃত ব্যক্তির শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে এরইমধ্যেই ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।
 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ