Alexa বাল্যবিয়ে মুক্ত শত গ্রাম, ব্রতীতে সুপেয় হচ্ছে নদীর পানি

ঢাকা, শুক্রবার   ২৩ আগস্ট ২০১৯,   ভাদ্র ৮ ১৪২৬,   ২১ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

Akash

বাল্যবিয়ে মুক্ত শত গ্রাম, ব্রতীতে সুপেয় হচ্ছে নদীর পানি

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ

 প্রকাশিত: ২০:৩১ ২৮ এপ্রিল ২০১৮   আপডেট: ১৩:৪০ ৬ মার্চ ২০১৯

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

রাজশাহী ও নওগার একশটি গ্রাম বাল্যবিবাহ মুক্ত করেছে ব্রতী নামের একটি সংস্থা। আর এই কাজে সহযোগিতা করেছে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন। শুধু বাল্য বিয়ে নয়, নিরাপদ পানির জন্য নদীর পানি সুপেয় করার ‘ইকোলোজিক্যাল সার্ফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট’ করেছে সংস্থাটি।

শনিবার সকালে বাংলা একাডেমিতে কবি শামসুর রহমান সেমিনার কক্ষে তারা একটি সেমিনার আয়োজন করে। এগিয়ে চলছে ব্রতী: ‘বাল্যবিয়ে মুক্ত ১০০টি গ্রাম’ এবং ‘নদীর পানি সুপেয়’ করার সাফল্য উপলক্ষে এ সেমিনার করা হয়।

সেমিনারে প্রধান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রধান সমন্বয়ক (এসডিজি) মো. আবুল কালাম আজাদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. জাফর আহমেদ খান, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের পরিচালক রীনা রায়, গবেষক ড. এ এইচ খান। বিটিবির সাবেক মহাপরিচালক ম. হামিদ সভাপতিত্ব করেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ব্রতীর পরিচালক শারমিন মুরশিদ।

শারমিন মুরশিদ বলেন, আমরা শুধু বাল্যবিবাহ মুক্ত করেছি, তা কিন্ত নয়। আরো অনেক কিছু মুক্ত করেছি। এই ১০০ গ্রামের মধ্যে ৮৮ টি শতভাগ স্যানিটেশন গ্রাম। একশটি গ্রামে ঝরে পড়া শিশুর হার শুন্য। প্রতিটা গ্রামের শতভাগ ছেলে মেয়ে স্কুলগামী। যৌতুক, নারী নির‌্যাতন ও খোলা জায়গায় ইভটিজিং বলে আমরা যে জিনিসটা জানি তাও নেই। একটা ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে গ্রামগুলোয় একটা নিরব পরিবর্তন এসেছে।

‘ইকোলোজিক্যাল সার্ফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উন্নত দেশগুলোর আশি ভাগ খাবার পানি আসে নদী থেকে। ২০০৪ সালে আমরা এই পানির প্লান্টটা তৈরির সিদ্ধান্ত নেই। চার বছর ধরে আমরা প্রারম্ভিক গবেষণা করি। ২০১০ সালে পুরোপুরি কাজ শুরু করি। পানিটা পাচ্ছি মহানন্দা নদী থেকে। সরবরাহ করা হচ্ছে চাপাইনবাবগঞ্চের তিনটা গ্রামে। চামাগ্রাম, লহরপুর ও লাক্সমিপুর- এই তিনটি গ্রামের ভুগর্ভের পানি আর্সেনিকযুক্ত। আমাদের প্লান্টের দিনে সাত লক্ষ লিটার পানি পরিশোধনের ক্ষমতা রয়েছে। ৬.৬ কিলোমিটার পাইপলাইনের মাধ্যমে তিন লক্ষ্য লিটার পরিশোধনকৃত পানি তিনটি গ্রামের মানুষের দ্বর গোড়ায় পৌঁছে দিচ্ছি। তারা দিনে ১০ টাকার বিনিময়ে এই পানি নিচ্ছে। এই পানি দিয়ে তারা খাওয়া গোসল রান্নাবান্না ধোয়ামোছাসহ সব কাজ করে। এই পানির বিশুদ্ধতা চারটি পর্যায়ে পরীক্ষিত। বাংলাদেশে এই প্লাটটিই প্রথম।

ব্রতীর কাজগুলোকে সাধুবাদ জানিয়ে প্রধান অতিথি মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ব্রতী যে কাজ করেছে তা খুবই ভালো কাজ। তাদের এই কাজ দেখে অন্যরাও যাতে উদ্বুদ্ধ হয় আমরা সে ব্যাপারে কথা বলবো, কাজ করবো।

তিনি বলেন, গতকালই আমাদের প্রধানমন্ত্রী এওয়ার্ড পেয়েছেন। শিক্ষাক্ষেত্রে আমরা দেখছি মেয়েদের অগ্রযাত্রা ছেলেদের চেয়ে অনেক ক্ষেত্রে ভালো। শুধু মেয়েদের ক্ষেত্রে না দেশের অগ্রগতির ক্ষেত্রেও আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। আমরা উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছি। ২০২১ সালে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে যাওয়া লক্ষ। এটাই হচ্ছে দেশ এগিয়ে যাওয়া। বঙ্গবন্ধু যা বলেছেন- যার যা আছে তাই নিয়ে তৈরি থাকো। তিনি যেটা চিন্তা করেছেন গ্রামে-গঞ্জের সকলকে সম্পৃক্ত করে এগিয়ে যাওয়া। তাহলেই তো বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে। যেটা আমার বলছি- ২০২১, ২০৩০, ২০৪১। বাংলাদেশ কিন্তু অনেক দিনের স্বপ্ন দেখে। লম্বা স্বপ্ন দেখে। আমরা ২০৭১ সালে কোথায় যাবো। স্বাধীনতার একশ বছর ২১০০ সন। এখন থেকে প্রায় ৮২ বছর যে দেশটি স্বপ্ন দেখবে, তার পিছে ফেলে যাওয়ার উপায় নেই।

বিশেষ অতিথি ড. জাফর আহমেদ খান বলেন, লোকজনই যদি আমাদের সত্যিকারের শক্তি হয় তাহলে আমরা যে ভাবে এগিয়ে যাচ্ছি তাতে এক সময় এই উপমহাদেশে এক সময় অন্যতম শ্রেষ্ঠ জাতি হিসেবে পরিগনিত হবো।
বাল্য বিবাহের বিশেষ আইনটি বিবেচনার তাগিদ দেন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের পরিচালন রীনা রায়। তিনি বলেন, বিশেষ বলতে এখানে নির্দিষ্ট কোন বয়সের কথা বলা হয় নি। তাই এই আইনটির ব্যাপারে সরকারকে বিবেচনা করা অনুরোধ জানাই।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসআই

Best Electronics
Best Electronics