Alexa বালু ফেলে সরকারি খাল ভরাট, কৃষিতে প্রভাব

ঢাকা, বুধবার   ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০,   ফাল্গুন ১৩ ১৪২৬,   ০২ রজব ১৪৪১

Akash

বালু ফেলে সরকারি খাল ভরাট, কৃষিতে প্রভাব

রাজীব আহম্মেদ রাজু, গোপালগঞ্জ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১১:৫২ ২৬ জানুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১১:৫৫ ২৬ জানুয়ারি ২০২০

ছবি: ডেইলি ‍বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি ‍বাংলাদেশ

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীর রাতইল ইউপির চরভাটপাড়া মৌজার ওয়াবদা খাল নামে পরিচিত পানি নিষ্কাশনের একমাত্র পথটি বালি ফেলে ভরাট করা হচ্ছে। এতে ধীরে ধীরে এটি মরা খালে পরিণত হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে এলাকার ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।

এলাকাবাসী জানায়, ওয়াবদা খালটি উপজেলার জঙ্গল মুকুন্দপুর, বুধপাশা, পারকরফা সুইচ গেট হয়ে চর ভাটপাড়ার দক্ষিণ পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া মধুমতি নদীতে গিয়ে মিশেছে। এই খাল দিয়েই এলাকার পানি ও ক্ষেতের পানি মধুমতি নদীতে নামে। কিন্তু খাল ভরাট হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন চাষিরা। কৃষিতে বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

চরভাটপাড়া গ্রামের কৃষক আবুল বাশার শেখ জানান, বর্ষা মৌসুমে এলাকার কয়েকটি গ্রামের সব পানি এ খাল দিয়ে মধুমতি নদীতে যায়। খালের কারণে জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা পান তারা। আর মাঠেও ঠিকমতো ফসল ফলে। এই খাল বাঁচাতে না পারলে এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে। মাঠের ফসল পানির নিচে তলিয়ে যাবে। তাই খালটি বাঁচাতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

জানা গেছে, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার গোবরা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ও ঠিকাদার ফয়সাল কবির কদরের চর ভাটপাড়া মৌজায় একটি বালুর চাতাল করেন। সেখানে তিনি ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করছেন। সেই বালুর চাতালের পানি নিস্কাশনের জন্য একটা আউট লাইন করে সেটা ওয়াবদা খালের সঙ্গে সংযুক্ত করেন। এই আউট লাইন দিয়ে পানি এবং বালু পড়ে খালটি ভরাট হচ্ছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, এই খাল ভরাট হয়ে গেলে বর্ষা মৌসুমে এলাকার কয়েকটি গ্রামের বাড়িঘর ও ফসল পানিতে ডুবে যাবে। কিন্তু বালু ব্যবসায়ীরা সেই বিষয়টি কর্ণপাত করছেন না। অভিযোগ সত্ত্বেও তাদের কাজ অব্যাহত রেখেছেন।

এ বিষয়ে সাবেক ওই চেয়ারম্যান ও ঠিকাদার ফয়সাল কবির কদরের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমি ওখানকার মধুমতি নদীর বালু মহলটি ইজারা নিয়ে স্থানীয় বালু ব্যবসায়ীদের কাছে ঠিকা দিয়েছি। তারা কি করেছে আমি জানি না। তবে যদি খাল ভরাট হয়ে যায়, তাহলে বালু ব্যবসায়ীদের বালু কাটতে নিষেধ করে দেব।

কাশিয়ানী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিন্টু বিশ্বাস বলেন, আমরা এ বিষয়ে মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। সরকারি খাল ভরাট করলে তা অপসারিত করতে হবে। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ ব্যাপারে গোপালগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বিশ্বজিৎ বৈদ্য জানান, এ বিষয়ে মৌখিক অভিযোগ পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছি। খালের মধ্যে যতটুকু বালি গেছে অনতিবিলম্বে তা অপসারন করার নির্দেশ দিয়েছি। বালু সরিয়ে না ফেললে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর