Alexa বালু চরে স্কোয়াশ চাষ

ঢাকা, শুক্রবার   ১৮ অক্টোবর ২০১৯,   কার্তিক ২ ১৪২৬,   ১৮ সফর ১৪৪১

Akash

বালু চরে স্কোয়াশ চাষ

 প্রকাশিত: ১১:২৭ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

রংপুরের কাউনিয়ায় তিস্তার চরে হচ্ছে স্কোয়াশ চাষ। এর মাধ্যমে কৃষিতে নতুন দিগন্তের সূচনা করেছেন কৃষকরা। এখানে উৎপাদিত স্কোয়াশ এলাকার চাহিদা পূরণ করে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে। ফলে আশার আলো দেখছেন কৃষকেরা।

কাউনিয়ায় তিস্তা নদীর জেগে উঠা চরে দ্বিতীয়বারের মতো স্কোয়াশ চাষ হচ্ছে। এগুলো মূলত থাইল্যান্ডের বিভিন্ন জাতের স্কোয়াশ। স্বাস্থের জন্য অত্যন্ত উপকারি। এছাড়া কৃষিতে লাভজনক অর্থকরি ফসল স্কোয়াশ। কাউনিয়ায় এর চাষে সহায়তা দিচ্ছে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর।

উপজেলার তালুকশাহবাজ, চর রাজীব ও হরিচরণ শর্মা চরে ৩০ হাজার গর্ত করে তাতে স্কোয়াশ চাষ করা হয়েছে। তিস্তার বালু চর এখন সবুজে ছেয়ে গেছে। এখানকার চাষিরা তাক লাগিয়ে দিয়েছেন অন্য চরাঞ্চলের কৃষকসহ বিভিন্ন জেলার মানুষকে। কৃষকরা জানান, আগামী মৌসুমে এর চাষ আরো বাড়বে।

কাউনিয়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, তাদের কারিগরি সহাযতায় উপজেলা পরিষদের আর্থিক সহযোগিতায় দ্বিতীয়বারের মতো ৯০ হাইব্রীড জাতের স্কোয়াশ চাষ করা হয়েছে। তালুকশাহবাজের দুইশ’ এবং, হরিচরণশর্মা ও চর রাজীবের তিনশ’ কৃষককে উদ্বুদ্ধ করে চলতি মৌসুমে স্কোয়াশ চাষ করা হয়েছে।

কৃষক মালা রানী, নিরঞ্জন চন্দ্র জানান, শশা জাতীয় এ সবজির স্বাদ অন্যান্য সবজির চেয়ে আলাদা। এর পুষ্টিগুণও অনেক বেশি। এরইমধ্যে স্কোয়াশ বাজারজাত শুরু হয়েছে। এর বাজার মূলত ঢাকায় অনেক বেশি। সেখানে প্রতিটি স্কোয়াশ বিক্রি হয় ৫০-৬০ টাকা।

তারা জানান, এরইমধ্যে ঢাকার ব্যবসায়ীরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। স্থানীয় বাজারে এর দাম একটু কম। তবে চাহিদা বেশ ভাল।

তারা জানান, স্কোয়াশের ফলনও বেশি। এর রোগ বালাই নেই বললেই চলে। চাষিরা চরের পতিত জমিতে স্কোয়াশ চাষ এবং সেখান থেকে অর্থ উপার্জনের পথ খুঁজে পাওয়ায় খুবই খুশি।

কৃষক নিশি চন্দ্র বলেন, তিনশ’ গর্তে চাষ করতে খরচ হয়েছে প্রায় ৯ হাজার টাকা। আশা করছি প্রায় ২৫ হাজার টাকা আয় হবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামিমুর রহমান জানান, স্কোয়াশ স্বাস্থ্যসম্মত একটি সবজি। নভেম্বরে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সহযোগিতায় চর রাজীবে পাঁচশ’ জন কৃষক প্রায় ৬০ হেক্টর জমিতে স্কোয়াশ চাষ করেছেন। থাইল্যান্ড থেকে আমদানী করা বীজ ও প্রয়োজনীয় সার কৃষকদের দিয়ে চাষ শুরু করা হয়।

চরে গর্ত করে পলিথিন বিছিয়ে পানি সংরক্ষণ করা হয়েছে। সেখান থেকে প্রয়োজনীয় সেচ দেয়া হয়। এতে রোগ-বালাই নেই। তাই কীটনাশক ব্যবহারও করতে হয় না বললেই চলে। চলতি স্কোয়াশ মৌসুমে গত বছরের চেয়ে দ্বিগুণ জমিতে চাষ করা হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আজ/এমআরকে