বারো বছরের প্রতীক্ষার এ ফুল

.ঢাকা, শুক্রবার   ২৬ এপ্রিল ২০১৯,   বৈশাখ ১৩ ১৪২৬,   ২০ শা'বান ১৪৪০

বারো বছরের প্রতীক্ষার এ ফুল

 প্রকাশিত: ১২:৩৪ ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১২:৩৪ ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ছবি- সংগৃহীত

ছবি- সংগৃহীত

ফুলটির নাম নীলকুরিঞ্জি। বারো বছর পর পর ফোটে! কেরালাবাসীর আশা-ভরসার এ ফুল। সময় আগস্ট থেকে অক্টোবর। কেরালার কাননদেবন পাহাড়ে এ ফুল ফোটে। তা দেখতে দেশ-বিদেশ থেকে ভিড় জমান পর্যটকরা। নীলকুরিঞ্জিকে ঘিরেই স্বপ্ন বুনছে রাজ্যটি।

এ বছরটার জন্যই ভারতের কেরালাবাসীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় ছিল। একটু গভীরে বললে এই সময়টার জন্যই। কিন্তু আগস্টের ভয়াবহ বন্যা পুরো পরিস্থিতিই বদলে দিয়েছিল। আশা বদলে গেল হতাশায়। বন্যায় ভেসে যায় প্রায় সবকিছুই। বাড়ি-ঘর, সম্পদ তলিয়ে গেছে। বন্যার সেই দুঃসহ স্মৃতি অবশ্য ধীরে ধীরে কাটছে কেরালায়।

এদিকে কেরালা যার জন্যে অধীর আগ্রহে ছিল সে অবশ্য তার কথা রেখেছে। মুন্নারের আশপাশের অঞ্চলে ক্রমশ ফুটতে শুরু করেছে এই ফুল। বৃষ্টি কমে এখন রোদ উঁকি দিচ্ছে। পরিষ্কার আকাশ আর অল্প-স্বল্প বৃষ্টিতেই ডানা মেলতে চাইছে নীলকুরিঞ্জি।

মুন্নারের উপকণ্ঠের এরাভিকুলম জাতীয় উদ্যানের মুখ্য ওয়ার্ডেন আর লক্ষ্মী বলেন, ‘বৃষ্টি কমেছে, রোদ উঠেছে। এর ফলে এরাভিকুলম, রাজামালাই এবং কান্থালুর উদ্যানে এই ফুল ফুটতে শুরু করেছে। আবহাওয়া যদি এ রকমই থাকে তা হলে আগামী দশ দিনের মধ্যেই পুরো পাহাড় নীল হয়ে যাবে এই ফুলে।’

এই ফুলের দেখা মেলে সমুদ্রতল থেকে ১৩০০ মিটার উচ্চতার ওপরে। মুন্নারের উচ্চতা ১৬০০ মিটার। তাই এখানেই এই ফুল দেখা যায় সব থেকে বেশি।  শেষ বার এই ফুল ফুটেছিল ২০০৬ সালে। অন্তত বিশ লাখ মানুষ এই ফুলকে ঘিরে মুন্নারে পাড়ি জমান।

তবে বন্যায় মুন্নারের খুব কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। ধসের ফলে শহরের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। এর ফলে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মুন্নারে পর্যটকদের যাওয়ার ওপরে নিষেধাজ্ঞা ছিল। তা এখন তুলে নেয়া নিয়েছে সরকার। ফলে ধীরে ধীরে পর্যটকদের পদচারনা বেড়েছে এই শহরে।

কিছু রাস্তা এখনও খারাপ রয়েছে, সেগুলি দ্রুত সারিয়ে তোলা হচ্ছে জানিয়ে কেরালার পর্যটনমন্ত্রী কদকমপল্লী সুরেন্দ্রণ বলেন,  মুন্নারকে পর্যটন মানচিত্রে ফিরিয়ে দেয়ার জন্য সব রকম চেষ্টা চালানো হচ্ছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে সমস্ত রাস্তা সারিয়ে ফেলা হবে। এই মুহূর্তে সব ব্রিজগুলো সারানোর কাজ চলছে।

একদিন সব বাধা-বিপত্তি কেটে যাবে। দিন পনেরোর পর থেকে পর্যটকদের ঢল নামবে এই পাহাড়ি শহরে -এমনই আশা মুন্নারের বাসিন্দাদের।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর/টিআরএইচ