Exim Bank Ltd.
ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৮, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৪

বাবুই পাখির দৃষ্টিনন্দন বাসা

লালমনিরহাট প্রতিনিধিডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
বাবুই পাখির দৃষ্টিনন্দন বাসা
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

গ্রাম বাংলায় এখন আর আগের মতো চোখে পড়ে না বাবুই পাখির দৃষ্টিনন্দন বাসা। আগে লালমনিরহাট জেলার বিভিন্ন উপজেলা এলাকায় তাল গাছ ও খেজুর গাছে বাবুই পাখি বেশ দেখা যেত। সময়ের বিবর্তন আর পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে আজ আমরা হারাতে বসেছি এ পাখিটি। সেই সঙ্গে হারিয়ে যাচ্ছে শিল্পী, স্থপতি ও সামাজিক বন্ধনের কারিগর বাবুই পাখির বাসা।

তালগাছের কচিপাতা, খড়, ঝাউ ও কাশবনের লতাপাতা দিয়ে উঁচু তালগাছে নিপুণ দক্ষতায় বাসা তৈরি করত বাবুই পাখি। সেই বাসা দেখতে যেমন আকর্ষণীয় তেমনি মজবুত। প্রবল ঝড়েও তাদের বাসা ভেঙে পড়ে না। শক্ত বুননের এ বাসা টেনেও ছেঁড়া যায় না। সবচেয়ে বড় আশ্চর্যের বিষয় হলো, ভারসাম্য রক্ষার জন্য বাসার ভেতরে থাকে কাদার প্রলেপ। বাবুই পাখির অপূর্ব শিল্প শৈলীতে মুগ্ধ হয়ে কবি রজনীকান্ত সেন তাঁর কবিতায় লিখেছিলেন-

‘বাবুই পাখিরে ডাকি বলিছে চড়াই

কুঁড়েঘরে থেকে কর শিল্পের বড়াই।

আমি থাকি মহাসুখে অট্টালিকায় পরে,

তুমি কত কষ্ট পাও রোদ বৃষ্টি ঝড়ে’।

এই অমর কবিতাটি এখন এ দেশে তৃতীয় শ্রেণির বাংলা বইয়ে পাঠ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত। শুধুমাত্র পাঠ্য পুস্তকের কবিতা পড়েই এখনকার শিক্ষার্থীরা বাবুই পাখির শিল্পকর্মের কথা জানতে পারছে। এখন আর চোখে পড়ে না বাবুই পাখি ও এর নিজের তৈরি দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্যশৈলী। সরু চিকন পাতা দিয়ে তৈরি বাবুই পাখির বাসা আর দেখা যায় না। দেখা যায় না এর সামাজিক জীবনাচারও।

অভিজ্ঞ মানুষ মাত্রই জানে, বাসা তৈরির পর সঙ্গী খুঁজতে যায় অন্য বাসায়। সঙ্গী পছন্দ হলে স্ত্রী বাবুইকে সাথী বানানোর জন্য কত কিছুই না করে এরা। পুরুষ বাবুই নিজেকে আকর্ষণ করার জন্য খাল-বিল ও ডোবায় ফুর্তি করে, নেচে বেড়ায় গাছের ডালে ডালে। বাসা তৈরির কাজ অর্ধেক হলে কাঙ্খিত স্ত্রী বাবুইকে সেই বাসা দেখায়। বাসা পছন্দ হলেই কেবল সম্পর্ক তৈরি হয়। স্ত্রী বাবুই বাসা পছন্দ করলে বাকি কাজ শেষ করতে পুরুষ বাবুইয়ের সময় লাগে চার দিন। স্ত্রী বাবুই পাখির প্রেরণা পেয়ে পুরুষ বাবুই পাখিটি মনের আনন্দে শিল্পসম্মত ও নিপুণভাবে বিরামহীন কাজ করে বাসা তৈরি করে। বাসার ভেতরে ঠিক মাঝ খানে একটি আড়া তৈরি করে তারা, যেখানে পাশাপাশি দুটি পাখি বসে প্রেমালাপসহ নানা রকম গল্প করে। তারপর নিদ্রা যায় এ আড়াতেই। কী অপূর্ব বিজ্ঞানসম্মত শিল্প চেতনাবোধ তাদের মধ্যে!

একটা সময় ছিল, একটি তালগাছে ঝুলে থাকত অসংখ্য বাসা। সে দৃশ্য বড়ই নান্দনিক এবং চিত্তাকর্ষক করার মতো, যা চোখে না দেখলে সে দৃষ্টিনন্দন দৃশ্য কাউকে বোঝানো সম্ভব নয়। এসব শিল্পকর্মের ছবি ব্যবহার করে অনেক ক্যালেন্ডার হতো। অফুরন্ত যৌবনের অধিকারী প্রেমিক বাবুইয়ের যত প্রেমই থাক, প্রেমিকার ডিম দেওয়ার সাথে সাথেই প্রেমিক বাবুই খুঁজতে থাকে আরেক প্রেমিকা।

পুরুষ বাবুই এক মৌসুমে ছয়টি বাসা তৈরি করতে পারে। ধান ঘরে ওঠার মৌসুম হলো বাবুই পাখির প্রজনন সময়। দুধ ধান সংগ্রহ করে স্ত্রী বাবুই বাচ্চাদের খাওয়ায়। এরা তালগাছেই বাসা বাঁধে বেশি। মাঝে মাঝে কিছু খেজুর গাছ ও আখ ক্ষেতেও এদের বাসা চোখে পড়ে। তালগাছ উজাড় হয়ে যাওয়ার কারণে এসব বাবুই পাখি এখন বাধ্য হয়ে অন্য গাছে বাসা বাঁধছে।

একসময় লালমনিরহাটের প্রতিটি উপজেলার প্রায় সবখানেই দেখা যেত শত শত বাবুই পাখির বাসা ঝুলছে তালগাছের পাতায় পাতায়। গত শতাব্দীর ৮০র দশকে ফসলে কীটনাশক ব্যবহার করার ফলে কীটনাশকযুক্ত ফসল আর মৃত পোকামাকড় খেয়ে বাবুই পাখি বিলুপ্তি হওয়ার প্রধান কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে গ্রামাঞ্চল থেকে হারিয়ে যেতে বসছে প্রকৃতির এক অপরূপ শিল্পের কারিগর বাবুই পাখি। প্রকৃতির বয়নশিল্পী, স্থপতি এবং সামাজিক বন্ধনের কারিগর নামে সমধিক পরিচিত বাবুই পাখি আর তার বাসা এখন আর চোখে পড়ে না। ঝাঁকে ঝাঁকে সুদূর সাইবেরিয়া থেকে উড়ে আসা এসব বাবুই পাখির বিলুপ্তির প্রধান কারণ হচ্ছে ফসলে অতিরিক্ত কীটনাশক প্রয়োগ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এক অসাধু শ্রেণির মানুষ অর্থের লোভে বাবুই পাখির বাসা সংগ্রহ করে শহরে ধনীদের কাছে বিক্রি করছে। গাছে গাছে এসব বাসা এখন আর দৃশ্যমান না হলেও শোভা পাচ্ছে শহরে ধনীদের ড্রইং রুমে।

তবে লালমনিরহাট জেলা প্রাণী সম্পদ অফিসের এক কর্মকর্তা ডেইলি বাংলাদেশকে জানান, বিলুপ্ত প্রায় এসব বাবুই পাখি ও পাখির বাসা দেখতে চাইলে বেশি বেশি তাল ও খেজুর গাছ লাগাতে হবে। সেই সাথে অসাধু কিছু ব্যক্তির দ্বারা বাবুই পাখি নিধন রুখতে হবে। তবেই বাবুই পাখির তৈরি দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্যশৈলী আবার নজরে আসবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম

আরোও পড়ুন
সর্বাধিক পঠিত
ফাইভ জি চালু হতেই মরল কয়েকশ পাখি!
ফাইভ জি চালু হতেই মরল কয়েকশ পাখি!
ফখরুলের গাড়িবহরে হামলা
ফখরুলের গাড়িবহরে হামলা
জনসম্মুখে পুরুষ নির্যাতন, ভিডিও ভাইরাল!
জনসম্মুখে পুরুষ নির্যাতন, ভিডিও ভাইরাল!
৭ দিনের নিচে কোন ইন্টারনেট প্যাকেজ নয়
৭ দিনের নিচে কোন ইন্টারনেট প্যাকেজ নয়
‘বিশ্ব সুন্দরী’র মুকুট পড়া হলো না ঐশীর
‘বিশ্ব সুন্দরী’র মুকুট পড়া হলো না ঐশীর
সিলেটি যুবককে বিয়ের জন্য ক্যাথলিক মেয়ের ইসলাম ধর্ম গ্রহণ
সিলেটি যুবককে বিয়ের জন্য ক্যাথলিক মেয়ের ইসলাম ধর্ম গ্রহণ
ক্যান্সার শনাক্তে বাংলাদেশি বিজ্ঞানীর সাফল্য
ক্যান্সার শনাক্তে বাংলাদেশি বিজ্ঞানীর সাফল্য
এমিরেটসের হীরায় মোড়ানো বিমান
এমিরেটসের হীরায় মোড়ানো বিমান
পাপ যেন পিছু ছাড়ছে না নিকের!
পাপ যেন পিছু ছাড়ছে না নিকের!
‘যৌন মিলন দেখিয়ে আনন্দ পাই’
‘যৌন মিলন দেখিয়ে আনন্দ পাই’
সোমবার রাতের মধ্যেই ঢাকা ছাড়ছেন এরশাদ
সোমবার রাতের মধ্যেই ঢাকা ছাড়ছেন এরশাদ
বিশ্বের আদর্শ ফিগারের নারী কেলি ব্রুক
বিশ্বের আদর্শ ফিগারের নারী কেলি ব্রুক
২০১৯ নিয়ে অন্ধ নারীর ভয়ঙ্কর ভবিষ্যদ্বাণী!
২০১৯ নিয়ে অন্ধ নারীর ভয়ঙ্কর ভবিষ্যদ্বাণী!
বিএনপির হয়ে লড়বেন পার্থ
বিএনপির হয়ে লড়বেন পার্থ
উত্তেজনা ধরে রাখতে পারছেন না সাইফ কন্যা সারা!
উত্তেজনা ধরে রাখতে পারছেন না সাইফ কন্যা সারা!
বিএনপির বিরুদ্ধে লড়বেন হিরো আলম
বিএনপির বিরুদ্ধে লড়বেন হিরো আলম
তামিম-সৌম্য শতকে ৩৩২ তাড়া করে জয়
তামিম-সৌম্য শতকে ৩৩২ তাড়া করে জয়
শাকিবের সঙ্গে প্রেম বিষয়ে মুখ খুললেন রোদেলা
শাকিবের সঙ্গে প্রেম বিষয়ে মুখ খুললেন রোদেলা
আইপিএলের চূড়ান্ত নিলামে দুই বাংলাদেশি
আইপিএলের চূড়ান্ত নিলামে দুই বাংলাদেশি
কুমিল্লায় বিএনপির মিছিলে হামলা, অর্ধশতাধিক আহত
কুমিল্লায় বিএনপির মিছিলে হামলা, অর্ধশতাধিক আহত
শিরোনাম :
ময়মনসিংহ ৭ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে সরে দাঁড়ালেন রওশন এরশাদ, প্রতিদ্বন্দ্বীতা করবেন ৪ আসনে ময়মনসিংহ ৭ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে সরে দাঁড়ালেন রওশন এরশাদ, প্রতিদ্বন্দ্বীতা করবেন ৪ আসনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলেই তৃণমূলে মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন হয়: শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলেই তৃণমূলে মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন হয়: শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়ে শেখ হাসিনার জনসংযোগ শুরু বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়ে শেখ হাসিনার জনসংযোগ শুরু ডিসিদের রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ কেন অবৈধ নয়: হাইকোর্ট ডিসিদের রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ কেন অবৈধ নয়: হাইকোর্ট