বাবা ।। কুমার অরবিন্দ

ঢাকা, শুক্রবার   ০৪ ডিসেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ২০ ১৪২৭,   ১৭ রবিউস সানি ১৪৪২

বাবা ।। কুমার অরবিন্দ

গল্প ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:৫৭ ১৭ মার্চ ২০২০  

ছবি: ইন্টারনেট

ছবি: ইন্টারনেট

মনে হচ্ছে শরীরটা ভেতর থেকে ভেঙে বেরিয়ে যাচ্ছে অথবা বাইরে থেকে ভেঙে ভেতরে ঢুকছে। শক্তিহীন অবসন্ন দেহে সীমাহীন যন্ত্রণা। শুধু নাকের ছিদ্র দুটি দিয়ে ফুসফুস কোনো রকমে অক্সিজেন টেনে নিচ্ছে এবং তৎক্ষণাৎ তা উগড়ে দিচ্ছে। একটা মাছি উড়ে উড়ে গাল থেকে বুকে গিয়ে বসেছে। সেখান থেকে নির্গত রক্তরসে মুখ ডুবিয়ে চলে যায় আবার ফিরে আসে কিছুক্ষণ পর। হালিমা খাতুনের অস্বস্তি লাগে, ভীষণ চুলকায়। যন্ত্রণা বাড়ে। তবু সে শুয়েই থাকে।

কতকাল এমন ঘুম ঘুমায়নি হালিমা। জানোয়ারগুলো খুবলে খেতে আজ আর আসেনি। সে আল্লাহর কাছে কতদিন প্রার্থনা করেছে, আল্লাহ ওদের ওপর গজব দাও।
তার কানে কি সুমধুর একটা সুর ভেসে আসে! স্কুল-কলেজে তারা লুকিয়ে গাইত, কখনো কখনো বাসায় ভাই বোনেরা মিলে। পাক সার জমিন সাদ বাদ, গাইলে ওই গানটার মতো ভালো কখনোই লাগত না। সে চোখ বন্ধ করে অন্তর দিয়ে শোনে গানটা। আহা, কত কত যুগ পরে সে আবার শুনতে পেলো- ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি/ চিরদিন তোমার আকাশ তোমার বাতাস আমার প্রাণে বাজায় বাঁশি...।’ এই বন্দি শিবিরে সাত মাস তো নয় যেন সাত যুগ ধরে সে বন্দি!

সমবেত সঙ্গীতের সুর তার দিকেই এগিয়ে আসছে! সঙ্গে থেকে থেকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান। আনন্দ উল্লাস। হালিমা জানে এই স্লোগান বাঙালি জাতির মুক্তিসংগ্রামের সবচেয়ে বড় কণ্ঠাস্ত্র। তাহলে মুক্তি কি তার দুয়ারে! সে ধীরে ধীরে চোখ মেলে। ঘরের মধ্যে গুমোট বাঁধা অন্ধকার, পৈশাচিক গন্ধ। শীতের কাল চলছে বোধহয়। নইলে তার এত জাড় লাগবে কেন? পাশে পড়ে থাকা ময়লা তোয়ালেটা টেনে নেয়। কোনো রকমে জড়িয়ে নেয় গায়ে। তার দিকে এগিয়ে আসছে ‘জয় বাংলা’!

দরজা খোলার শব্দে সে কান খাড়া করে রাখে। একরাশ আলোর সঙ্গে ঘরের মধ্যে তীব্র বেগে আছড়ে পড়ে জয় বাংলা ধ্বনি। তার মন আনন্দে কেমন যেন করে ওঠে। বানডাকা নদীর মতো তার বুকের ভেতর তোলপাড় ওঠে, চোখে পানি আসে।

এই নরকপুরীতে বন্দি থেকে তার দম বন্ধ হয়ে আসে। অনেকবার সে মরতে চেয়েছে। চেষ্টাও করেছে কয়েকবার। প্রতিবারই ব্যর্থ হয়ে শরীরে জুটেছে অমানুষিক নির্যাতন। অন্যদেরকে চোখের সামনে মরতে দেখে বুঝতে পেরেছে মৃত্যু কত ভয়ঙ্কর, তবু সে মরতেই চেয়েছিল। যে জীবন বেঁচে থাকার যন্ত্রণা সহ্য করতে পারে না সে জীবন বাঁচিয়ে কষ্ট বাড়ানোর মানে নেই। প্রতিদিন একটু একটু মরতে মরতে যখন সে বেঁচেই রইল তখনই দুচোখ ভরে একটি স্বপ্নই শুধু দেখেছে। দেশ স্বাধীন হবে, শত্রুমুক্ত হবে প্রতি ইঞ্চি ভ‚মি। তারপর বন্ধ না হয়ে যাওয়া চোখ দুটো দিয়ে পরান ভরে দেশটাকে দেখবে।

কয়েকজোড়া পায়ের আওয়াজ এগিয়ে আসে তার দিকে। এ আওয়াজ তার অচেনা হলেও ভয় করে না, বড় প্রিয় মনে হয়। এক টুকরো তোয়ালে দিয়ে নিজেকে যতটুকু আবৃত করা যায় সেটুকু করেই কাঁচুমাচু হয়ে বসে থাকে হালিমা। বেলায়েত হোসেন তার দিকে এক পলক তাকিয়েই মুখ ঘুড়িয়ে নেয়, মাথা নিচু করে।

বিগত সাত মাসে পাকিস্তানি সেনারা তার এবং তাদের সঙ্গে যে ব্যবহার করেছে তাতে শরীর নিয়ে লজ্জা করার মতো কোন দুঃসাহস দেখাতে পারেনি হালিমারা। কিন্তু এখন এই বাঙালি ভাইদেরকে দেখে কোত্থেকে যেন শত জনমের লজ্জা এসে তার ছিন্নভিন্ন শরীরে ভর করে। নিজেকে আরও সঙ্কুচিত করে শামুকের মতো ঢুকে যেতে চায় নিজেরই ভেতরে। কিছুটা দূর পড়ে থাকা একটা কম্বল এনে সমর বড়াল তার দিকে এগিয়ে দেয়। কাঁপা কাঁপা হাতে তোয়ালেটা কোমরে গিঁট দিয়ে কম্বল সারা গায়ে পেঁচিয়ে নেয় হালিমা। তবু তার মনে হয় সমস্ত শরীরে পশুগুলো আঁচড়ে, কামড়ে যে দগদগে ঘা করে দিয়েছে তা সে লুকাতে পারছে না। এ যে বড় লজ্জা!

বেলায়েত নিস্তব্ধ বিমূঢ় হয়ে কতক্ষণ থাকে জানে না। তারা জানত নয়াপাড়া প্রাথমিক সরকারি বিদ্যালয়ে পাকিস্তানি সেনারা ক্যাম্প বসিয়েছে। সেখানে কয়েকজন বাঙালি বোনেরা বন্দি আছে। এলাকার মুক্তিযোদ্ধারা অনেকদিন ধরেই চেষ্টা করছিলেন ক্যা¤প দখল নেয়ার জন্য, পারেন নাই। সেই অক্ষমতাই বিধ্বস্ত মেয়েটার সামনে তার মাথা নিচু করিয়ে দিয়েছে। 

ক্যাম্পে বন্দিনীদের অবস্থা যে কতটা ভয়াবহ তা বেলায়েতরা কল্পনাও করতে পারেনি। বেলায়েত চোখের পানি ধরে রাখতে পারে না। সে কি বলবে, কি বলে সান্ত¡না দেবে আর কি বলেই-বা নিজেদের অক্ষমতা ঢেকে রাখবে বুঝতে পারে না। সে এদিক ওদিক তাকায়। আরও কেউ বন্দি আছে কিনা সমরকে ভালোভাবে খোঁজ করতে বলে।   
বেলায়েত হালিমার সামনে বসে পড়ে। বলে, ওঠো বোন, দেশ স্বাধীন হয়েছে। শত্রুদের এই বাংলা থেকে আমরা তাড়িয়েছি। এই দেশ এখন আমাদের।

সরম চারদিক দেখে এসে জানায় এখানে আর কেউ নেই। হালিমাকে জিজ্ঞেস করে আর কোনো মেয়ে এখানে ছিল কিনা। সে কোনো কথা বলে না। পাথরের মতো নিশ্চুপ, শুধু ভেতর থেকে ঝর্ণাধারার মতো নোনা জল তার চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়ে।

বেলায়েত হালিমাকে বাইরে যেতে বলে। সে দাঁড়াতে গেলে পায়ে শিকলের টান লাগে। সমর দাঁতে দাঁত ঘষতে ঘষতে বলে, কুত্তার বাচ্চারা পা শিকল দিয়ে বেঁধে রেখেছে!  
হালিমাসহ এখানে চারজন মেয়ে ছিল। তাকে ধরে আনা হয়েছিল এপ্রিলের আধাআধি। তখন সে কলেজে প্রথম বর্ষে পড়ে। মা-বাবার সঙ্গে বাড়িতেই ছিল। হঠাৎ পাক হানাদাররা আক্রমণ করে তাদের গ্রাম। তারা এক পাও পালাবার সুযোগ পায়নি। চোখের সামনেই বাবাকে গুলি করে। হালিমাকে জোর করে ধরে নিতে চাইলে বাঁধা দেয় মা। তাকেও গুলি করে হত্যা করে। টেনেহিঁচড়ে কাছের একটা ক্যাম্পে নেয়া হয় তাকে। সেখান থেকে মাস দুয়েক পর কমলাদের সঙ্গে ঠাঁই হয় নয়াপাড়া স্কুল ক্যাম্পে।
অবর্ণনীয় নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে কমলা গলায় ওড়নার ফাঁস নেয়। তার মৃত্যুর পর থেকে ক্যাম্পে কোনো মেয়েকে শাড়ি আর ওড়না পরতে দেয়া হতো না। প্রায় বিবস্ত্র করে রাখত সারাদিন! কখনো কখনো দিনের জন্য ছোট্ট একটা তোয়ালে আর রাতের জন্য একটামাত্র কম্বল বরাদ্দ থাকত।

বাইরে থেকে একটা ইটখণ্ড এনে শিকলের তালা ভাঙতে থাকে সমর। ক্যাম্প থেকে যাতে পালাতে না পারে তাই এই শিকলব্যবস্থা। পুকুরে গোসল করার সময়ও পায়ে শিকল থাকত। গোসলে বেশি সময় লাগলেই টানতে টানতে নিয়ে আসত ওপরে।

খোঁড়াতে খোঁড়াতে ক্যাম্পের মাঠে এসে দাঁড়ায় হালিমা খাতুন। চারদিকে একবার তাকায়। ভীষণ নতুন লাগে চারপাশ। বীভৎসতার দীর্ঘ দিবস-রজনী শেষে মুক্ত আকাশের নিচে বুক ভরে শ্বাস নেয়। ছোট ছেলেমেয়েরা চারদিকে আনন্দে দৌড়াদৌড়ি করছে। কেউ একজন মাঠের মাঝখানে সদ্য স্বাধীন হওয়া দেশের পতাকা উড়িয়ে দিয়েছে। হালিমা উড়তে থাকা পতাকার দিকে তাকিয়ে পুরো দেশটাকে দেখে।  

বেলায়েত ছোট ছেলেমেয়েদের দূরে গিয়ে খেলতে বলে। উৎসুক জনতাকে সরিয়ে দেয়। মেয়েটার সঙ্গে একান্তে কিছু কথা বলা দরকার। তাকে বাড়িতে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে। সে ধীরে ধীরে বলে, বোন, তুমি বললে না তো এখানে তুমি একাই ছিলে কিনা!  

শান্ত দীঘির মতো জলভরা দুটি চোখ মেলে উদাস তাকিয়ে থাকে হালিমা। আকাশের গায় রোমেলা আর পারুলের মুখ ভেসে ওঠে।

রোমেলা আপু ছিল তার চেয়ে বয়সে কিছুটা বড়। দিনরাত নিরন্তর নির্যাতন করলেও ঠিকমতো খাবার পর্যন্ত দিত পাক সেনারা। তাদের সামনে খাবারের প্লেট দিয়েও লাথি মেরে ফেলে দিত। তারপর অট্টহাসিতে পশুত্বের পরিচয় দিয়ে খাবারগুলো পিষে দিত পা দিয়ে। পিপাসায় বুক ফেটে গেলেও পানি দিত না একফোঁটা। পানি চাইলে ডাবের খোসায় প্রস্রাব করে এগিয়ে দিত। জোর করে তা খাইয়ে দিত, না খাইতে চাইলে ছুড়ে মারত মুখে। রোমেলার বাম স্তন কামড়ে ছিড়ে নিয়েছিল কুত্তাগুলো। ব্যথায় চিৎকার করলেই জুটত আরও বেশি অকথ্য নির্যাতন।

একদিন রাতের আঁধারে পালাতে গিয়ে ধরা পড়ে রোমেলা। সবার সামনে পরের দিন তাকে গুলি করে হত্যা করে। এসব ভাবতে ভাবতে হালিমার গায়ে কাঁটা দেয়।
পারুল ছিল তারই বয়সী। বেশ দেখতে ছিল মেয়েটা। সোনার মতো গায়ের রঙ শেষ পর্যন্ত কালচে হয়েছিল। চোখ বসে গিয়েছিল গর্তে। পারুলের দিকে তাকিয়ে হালিমা নিজেকে দেখত।

কুলাঙ্গারগুলো দিন নেই রাত নেই অনবরত কাছে আসত। তাদের বিকৃত যৌন লালসা মেটাতে না চাইলেই নেমে আসত অসহনীয় নিপীড়ন। বুকে, পশ্চাতদেশে ধারালো চাকু দিয়ে রক্তাক্ত করে দিত। পারুল এসব সহ্য করতে না পেরে একদিন এক সেনার তলপেটে লাথি মারে। কার্তিক মাসে কুত্তা ক্ষেপলে যেমন হয় তেমন হয়ে যায় ক্যােেম্পর সেনারা। পারুলকে ধরে হাত পা খুঁটির সাথে বেঁধে রাখে। বেয়নেট দিয়ে একটা চোখ উপড়ে ফেলে। তার গাল, বুক থেকে শুরু করে যোনিপথে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে তিলে তিলে হত্যা করে।

চোখের সামনে একটু একটু করে মরতে থাকে পারুল। সেই মৃত্যু দৃশ্য মনে পড়তেই পেটের মধ্যে মোচড় দেয় হালিমার। দীর্ঘ সময় অভুক্ত থাকার পরও পাকিস্থলি থেকে কিছু একটা ওপর দিকে উঠে আসতে থাকে। ওয়াক করে উগড়ে দেয় সামান্যই ঘোলাটে তরল মিশ্রণ। তার মুখ বিশ্রী টক স্বাদে ভরে যায়।

বেলায়েতের সহযোদ্ধারা দুইজন রাজাকার ধরে এনেছে। পালাতে গিয়ে ধরা পড়েছে পাশের গ্রামে। তাদের বাঁধা হচ্ছে স্কুলের একটা খুঁটির সঙ্গে। সেখানে আমজনতার ভিড় বাড়ে। বেলায়েত সে দিকে এগিয়ে যায়। সে জিজ্ঞেস করে, মেলিটারিদের কাউকে ধরতে পারিসনি? রহমত আলী রাজাকারদের হাত পা বাঁধতে বাঁধতেই বলে, সেই শুয়োরের বাচ্চাগুলো নাকি বিহান বেলাতেই পলাইছে।

ভিড়টা একপাশ থেকে আলগা হয়। বেলায়েত তাকায় সেদিকে। সারা মুখে তীব্র ঘৃণা আর প্রতিশোধ¯পৃহা নিয়ে টলতে টলতে আসছে হালিমা। রাজাকার দুটোর সামনে এসে থামে। তীব্র একটা চিৎকার করে তাদের মুখে থুতু ছিটিয়ে ভিড়ের বাইরে চলে আসে। বেশি দূর হেঁটে যেতে পারে না। পড়ে যায় মাঠের মাঝেই। বেলায়েত কাছে আসে। তার পাশে বসে। আমাকে একটু সাহায্য করো বোন। তোমাকে আমরা ঠিকানা মতো পৌঁছে দেব।
বেলায়েতের কথায় তার দিকে একটু ফিরে তাকায় হালিমা। কিছুই বলে না। দেশ স্বাধীন হয়েছে। এটা সে দেখে যেতে পেরেছে এটাই শান্তি। পারুলরা ওপরে গিয়ে খবরটা কি পেয়েছে?  

বেলায়েত হালিমাকে নিরুত্তর দেখে সমরকে ডেকে কিছু খাবার আনতে পাঠায়। সে আবার বলতে শুরু করে, তোমাদের মতো লাখ লাখ মা-বোনের অপরিমেয় ত্যাগের বিনিময়েই আমরা আজ এ দেশ পেয়েছি। স্বাধীন দেশে এখন থেকে তোমরা মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকবে। তোমাদের এই মহান ত্যাগ এই জাতি কোনো দিন ভুলবে না। ইতিহাস তোমাদের হয়ে কথা বলবে। একটু বিরতি নিয়ে আবার বলে, ওই যে পতাকা উড়ছে, তোমাদের রক্তে ওর মাঝখানটা লাল হয়েছে।

হালিমা কিছুই বলতে পারে না, আসলে কিছুই বলতে চায় না। তার চোখের সামনে মা-বাবাকে খুন করেছে, বাড়িতে আগুন দিয়ে পুড়িয়েছে। এখন সে কোথায় যাবে? কার কাছে শেষ আশ্রয়টুকু পাবে? এলাকার লোকজন যদি দুই-চারজন বেঁচেও থাকে তারা তাকে কিভাবে গ্রহণ করবে? ক্যাম্প-ফেরত মেয়েকে কে সম্মানের চোখে দেখবে?
বলো বোন, তোমার বাড়ি কোথায়?

হালিমা ঘাড় ঘুড়িয়ে পতাকার দিকে তাকায়। লাল বৃত্তের মাঝে হলুদ অংশটায় চোখ পড়ে। স্বাধীন দেশের মানচিত্র এমন বুঝি! আহারে দেশ আমার! হালিমার চোখের সঙ্গে বেলায়েতও পতাকাটাকে আবার দেখে। সামনে বসে থাকা মেয়েটার মতোই বিধ্বস্ত মনে হয়।
বেলায়েত আবার জিজ্ঞেস করে, তোমার বাবার নামটা অন্তত বলো, বোন?

হালিমার জলভরা চোখ এবার চিকচিক করে। সারা আকাশ জুড়ে একটা মুখই সে দেখতে পায়। বুকের অতলে জেগে ওঠা চরের মতো একটু প্রশান্তি জেগে ওঠে, আশ্রয়ের আশা জাগে। সে ক্লান্ত গলায় বলে, শেখ মুজিবুর রহমান।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরআর